সংবাদ শিরোনাম
করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ৩১ কোটি টাকা দিল সশস্ত্র বাহিনী | করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ১০ কোটি টাকা দিল বসুন্ধরা গ্রুপ | করোনায় স্পেনের রাজকুমারীর মৃত্যু | করোনার ভয়ে হিন্দু বৃদ্ধের সৎকারে নেই কেউ, মরদেহ কাঁধে নিলেন মুসলিমরা | ‘আমি করোনায় আক্রান্ত নই, বাবা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন’- মারুফ | মার্কিন প্রবীণদের খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন মুসলিম যুবকরা | পতিতা কন্যার জীবন থেকে লেখা হয় গেঁন্দাফুল গানটি | যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় বাংলাদেশি বাবা-ছেলের মৃত্যু | করোনা মোকাবেলায় ৩০ লাখ রুপিসহ এক মাসের বেতন দিলেন নুসরাত | ‘সংসদ টিভির মাধ্যমে ঘরে বসে চলবে শিক্ষা কার্যক্রম’- শিক্ষামন্ত্রী |
  • আজ ১৫ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দাঙ্গাকবলিত দিল্লিতে সশস্ত্র প্রহরায় মুসলমানদের জুমা আদায়

১০:৫৭ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ দাঙ্গা পুলিশের নজরদারিতে ভারতীয় মুসলমানরা শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করেছেন। কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪২ জন নিহত হয়েছেন।

সোমবার কয়েকটি জেলায় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে সশস্ত্র দাঙ্গাকারীরা। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সমর্থকরা চড়াও হলে এই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সূত্রপাত ঘটে।-খবর এএফপির

ভাঙা গ্লাসের টুকরা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকা সড়কে আধাসামরিক বাহিনীকে টহল দিতে দেখা গেছে। মুস্তফাবাদের কাছের প্রধান মসজিদটির বাইরে কয়েক ডজন স্বেচ্ছাসেবী দাঁড়িয়েছিলেন। এই এলাকাটিতে দাঙ্গা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছিল।

নামাজের পর মুসল্লিদের দ্রুত চলে যেতে অনুরোধ করছিলেন স্বেচ্ছাসেবীরা। মসজিদের পেশ ইমাম বলেন, ‘এটা কঠিন সময়। আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

সোমবার হিন্দুত্ববাদী দাঙ্গাকারীদের জ্বালিয়ে দেয়া একটি মসজিদের দিকে যেতে মুসল্লিদের নিষেধ করছিল পুলিশ। কাছেই হিন্দু প্রাধান্য শিব বিহার এলাকার লোকজন মসজিদের দিকের রাস্তা বন্ধ করে রেখেছেন।

মসজিদে ঢুকতে চাওয়া মুসল্লিদের দিকে ইঙ্গিত করে তারা বলছিলেন, দাঙ্গাকারীদের আটক না করা পর্যন্ত কাউকে ঢুকে দেয়া হবে না।

নতুন কোনো সহিংসতা এড়াতে মুসলমানদের ছত্রভঙ্গ হয়ে যেতে বলেছে পুলিশ। সেলিম মির্জা নামের একজন বলেন, আমরা কোনো সহিংসতা চাই না। শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই। স্বাভাবিক জীবনযাপন ও সন্তানদের জন্য কাজ করতে চাই। আজ সবার শান্তির জন্য আমরা মোনাজাত করেছি।

আরও পড়ুন…. দাঙ্গাবাজদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি স্কুল ও পরীক্ষার খাতা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ অশান্তি থামছেই না উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে। চার দিন ধরে জ্বলছে রাজধানী শহরের বিভিন্ন এলাকা। মৃতের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। এখনও পর্যন্ত দিল্লি দাঙ্গার শিকার হয়েছেন ৩৮ জন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন এক পুলিশকর্মী এবং এক গোয়েন্দা অফিসারও। এর মধ্যেই সামনে এসেছে ঝলসে যাওয়া এক স্কুলের ছবি। ক্লাসরুম, শিক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চ থেকে শুরু করে পরীক্ষার খাতা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল উত্তর-পূর্ব দিল্লির ব্রিজপুরী এলাকার একটি সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলে।

বৃহস্পতিবার এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার এই স্কুলে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল তাণ্ডবকারীরা। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে সিবিএসই বোর্ডের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তাই স্কুলেই রাখা ছিল প্রশ্নপত্র ও আরও অনেক সরঞ্জাম।

তবে এখন ছাই ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। কপাল ভালো যে, ঘটনার সময় স্কুলে ছিল না কোনো পড়ুয়া। নইলে বড় বিপদের সম্ভাবনা ছিল। তবে তাণ্ডবকারীরা যখন স্কুলে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল সেই সময় ছিল নিরাপত্তাকর্মীরা। কোনোরকমে পালিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন তারা।

ওই স্কুলের ক্যাশিয়ার জানিয়েছেন, ঘটনার দিন স্কুলে ছিলেন তিনি। আচমকাই বিকালের দিকে ২৫০-৩০০ জনের একটি দল হাজির হয় স্কুলের সামনে। কী করা উচিত বুঝতে না পেরে পালিয়ে যান নিরাপত্তারক্ষী। তারপরই স্কুলের গেটে আগুন ধরিয়ে দেয় উন্মত্ত জনতা। দাউ দাউ আগুন ছড়িয়ে পড়ে নিমেষেই।

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনা ঘটে বিকাল ৪টার সময়। এদিকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত স্কুল চত্বরে না এসেছে কোনো দমকলের গাড়ি, না এসেছে পুলিশ। এক শিক্ষকের কথায় ‘বারবার আমরা দমকল আর পুলিশে ফোন করছিলাম। কিন্তু কেউই এসে পৌঁছতে পারেনি। চারপাশে যা অবস্থা হয়তো সেসব সামাল দিয়ে স্কুলে আসতেই ওদের ৪ ঘণ্টা লেগে গিয়েছে।’

Loading...