সংবাদ শিরোনাম
বেগমগঞ্জে আ’লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ: আহত ৯, গুলিবিদ্ধ ৪ | আম্পানে সুন্দরবনের ক্ষতি বুলবুলের চেয়ে ‘৩ গুণ’ বেশি | মাংস কিনতে গিয়ে এন‌জিও কর্মী নিখোঁজ, ঈদের দিন মিলল মরদেহ | আম্পানে ভেসে গেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল মানুষের ঈদ, এখন চলছে বেঁচে থাকার যুদ্ধ | আড়াই মাসে সর্বনিম্ন প্রাণহানি দেখলো ইতালি | সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানালেন খালেদা জিয়া | ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত | গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটের ট্রায়াল স্থগিত | গাজীপুরে ঈদের নামায এবং বাবার কবর জিয়ারত শেষে বাড়ি ফেরার পথে যুবক খুন | দাফনের টাকা নিয়েও তিস্তায় ভাসিয়ে দেওয়া হল করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃতের লাশ |
  • আজ ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আলোচিত সেই মিন্নিকে দেখলেই ঘিরে ধরছেন কৌতূহলী মানুষ! কেনাকাটায় ডিসকাউন্টও দিচ্ছেন দোকানীরা’!

২:৪৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০ আলোচিত
minnir dinkal

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা-সাম্প্রতিক ধকল আর বিষাদ কাটিয়ে এখন অনেকটাই সুস্থ্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চেষ্টা করছেন চাঞ্চল্যকর রিফাত হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী আলোচিত আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। আদালতের কাজে, সামাজিক বিভিন্ন আয়োজনে, কেনাকাটা অথবা আত্মিয়ের বাড়িতে বাবার মোটরসাইকেলে চেপে ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

মিন্নি জানিয়েছেন, সাধারন মানুষের হাজারো প্রশ্ন, ব্যপক উতসাহ আর জিজ্ঞাসু দৃষ্টির মধ্যে অনেক বিব্রত লাগলেও সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সচেষ্ট তিনি । এমন যেকোন পরিস্থিতিতে বিব্রত না হয়ে বরং ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন মিন্নি ও তার পরিবার।

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। মিন্নি প্রায় রাতে ঘুমের মধ্যে চিৎকার দিয়ে কেঁদে উঠত বলে জানিয়েছিলেন তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। উন্নত চিকিতসার জন্য প্রায়ই ঢাকা আসতে হয় বাবা মেয়েকে।

সম্প্রতি রাজধানীর গুলিস্তানে একটি মার্কেটে কেনাকাটার জন্য যান তারা। মার্কেটে যেতেই অসংখ্য কৌতুহলী মানুষ জমে বাবা-মেয়েকে ঘিরে।

মিন্নি জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে আশে পাশে থাকা অনেক অজানা মানুষের ‘কটাক্ষ’ শুনতে হয় কোন সময়ে, কেও আবার আগ বাড়িয়ে এসে জিজ্ঞেস করেন ‘কেমন আছি?’ কারো কারো চোখে মুখে থাকে অনেক প্রশ্ন… সব মিলিয়ে বিব্রত লাগলেও মাথা নিচু করে সব পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টাই করে যান মিন্নি।

সাধারন মানুষের নানা কথা কটাক্ষ আর কৌতুহলের এমন পরিস্থিতি নিয়ে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের দাবী,’মিন্নির জামিন হওয়ার পর পরিস্থিতি একদম পাল্টে গেছে’ তিনি জানান,’আগে সব মানুষ আমার আর আমার মেয়ে মিন্নির দিকে কেমন কেমন করে করে তাকাতো! আর এখন আমাদের দেখলে মানুষ উৎফুল্ল হয়, সমবেদনা জানায়। জানতে চায় মামলার অগ্রগতি নিয়ে।’

minni

মিন্নির বাবা কিশোর আরও জানান, ‘মিন্নিকে দেখে মানুষের উচ্ছ্বাসের শেষ নেই। যেখানেই যাই সব মানুষ একসাথে জড়ো হয়ে যায়। আজকেও পুরো মার্কেটের মানুষ একত্র হয়ে গিয়েছিল। মেয়েকে জামা-কাপড় কিনে দিতে এসেছি । যে দোকানে কিনেছি সেখানে দোকানি অনেক আপ্যায়ন করেছে, খাওয়াতে চেয়েছে, এমনকি কাপড়ের দামে ডিসকাউন্টো দিয়েছে।’

মিন্নির বাবা আরো বলেন, মানুষ শুধু জড়োই হয় না। ছবি তুলবেই তুলবে। ছবি তোলার জন্য ভিড় সামলানো যায় না।’

‘মানুষের এমন আচরন কিভাবে নিচ্ছেন মেয়ে ও বাবা’? এমন প্রশ্নের জবাবে মিন্নির বাবা বলেন, ‘এটা মানুষের সম্মান। এই সম্মানের মর্যাদা যেন তারা রাখতে পারেন।’

রিফাত শরীফ হত্যা মামলার সর্বশেষ আপডেট

এর আগে সম্প্রতি বহুল আলোচিত বরগুনা রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন আসামির সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয় গত মঙ্গলবার দুপুরে । এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবিরের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্নের মধ্য দিয়ে রিফাত হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

এদিন কারাগারে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক আটজন আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ ছাড়াও জামিনে থাকা আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি তার বাবার সঙ্গে উপস্থিত হন আদালতে। সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ দিনও আদালতে হাজির হননি এ মামলার পলাতক প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মুসা বন্ড।

এদিন দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবিরের জেরা সম্পন্নের মধ্য দিয়ে এ মামলার ৭৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এছাড়া এ মামলার সাক্ষী গোলাম সরোয়ার প্রবাসে থাকায় তার সাক্ষ্যগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। এরপর ৮ জানুয়ারি থেকে এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করে জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

সূত্র আরো জানায়, সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর ধার্য তারিখ থেকে মামলার মাত্র ২৯ কার্যদিবসে ৭৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন আদালত।

এ বিষয়ে রিফাত হত্যা মামলার বাদী পক্ষের মনোনীত আইনজীবী এম মুজিবুল হক কিসলু বলেন, রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মোট ৭৭ জন সাক্ষীর মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৭৬ জন সাক্ষী আদালতে তাদের সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছেন। এরপর প্রত্যেক আসামির আইনজীবী প্রত্যেক সাক্ষীকে জেরা করেছেন।

তিনি আরো বলেন, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ মামলার মোট ৬ কার্যদিবসে টানা সাক্ষ্য প্রদান করেছেন এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শেষ সাক্ষী মোঃ হুমায়ুন কবির। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্নের মধ্য দিয়ে এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন আদালত। আগামী ১০ মার্চ এ মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শেষ সাক্ষী পুলিশ কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবিরকে আমি জেরা করি। আমার জেরা সম্পন্নের মধ্য দিয়ে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

তিনি আরো বলেন, রিফাত হত্যা মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলার সময়ে মিন্নির বাসা থেকে রিফাত শরীফের একটি রক্তমাখা শার্টসহ রক্তমাখা মিন্নির জামা-কাপড় জব্দ করে পুলিশ। পরে আদালতে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় যে জব্দ তালিকা দেওয়া হয়েছে সেখানে সেই রক্তমাখা জামা-কাপড়ের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এই বিষয়টি আমি প্রমাণসহ আদালতের নজরে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমি আশা করি মিন্নি ন্যায়বিচার পাবে।

সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন শেষে এ মামলার একমাত্র পলাতক প্রাপ্তবয়ষ্ক আসামি মুসা বন্ডের গ্রেপ্তার সম্পর্কে জানতে চাইলে মামলাটি বিচারাধীন অজুহাতে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোঃ হুমায়ুন কবির।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক; দু’ভাগে বিভক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জন। মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনও পলাতক। পাশাপাশি রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি প্রিন্স মোল্লা, মারুফ মল্লিক এবং আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ জামিনে রয়েছেন। বাকিরা কারাগারে।

এরপর চলতি বছরের গত ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এরপর ৮ জানুয়ারি অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার শিশু আদালত।

রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলেন-রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. হাসান, মো. মুসা, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর এবং কামরুল ইসলাম সাইমুন।