করোনাভাইরাস: হটলাইন নম্বর ৪টি থেকে বেড়ে ১৩টি

১১:০০ অপরাহ্ণ | সোমবার, মার্চ ৯, ২০২০ স্পট লাইট
hotline

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে জনসাধারণের জন্য বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) কর্মকর্তারা বলেছেন, এসব পরামর্শ মেনে চললে এই ভাইরাসের সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব হবে। এদিকে করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হওয়ার পর হটলাইনে নম্বর চারটি থেকে বাড়িয়ে ১৩টি করেছে সরকার।

হটলাইন নম্বরগুলো হচ্ছে- ১৬২৬৩, ০১৪০১১৮৪৫৫১, ০১৪০১১৮৪৫৫৪, ০১৪০১১৮৪৫৫৫, ০১৪০১১৮৪৫৫৬, ০১৪০১১৮৪৫৫৯, ০১৪০১১৮৪৫৬০, ০১৪০১১৮৪৫৬৩, ০১৪০১১৮৪৫৬৮, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯৩৭১১০০১১।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইনের নম্বরটিও (১৬২৬৩) এখন নভেল করোনাভাইরাস সংক্রান্ত তথ্য জানাতে ব্যবহৃত হবে। বাকি ১২টি নম্বর আইইডিসিআরের।

এ বিষয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, সেবার পরিধি বাড়াতে হটলাইনে নম্বর যোগ করা হয়েছে। অনেকে ফোন করে আমাদের পাচ্ছেন না, ফোন এঙ্গেজড থাকছে বলে জানিয়েছেন। এজন্য হটলাইনে নতুন নম্বর যোগ করা হয়েছে। সার্ভিস সংক্রান্ত তথ্য পাবেন। কারও নমুনা সংগ্রহের যদি প্রয়োজন মনে হয়, তারাও (স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইন) আমাদের জানাবেন নমুনা সংগ্রহ করতে হবে কি না।

যেভাবে ছড়ায়: করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলেও ছড়ায়। এ ছাড়া পশুপাখি ও গবাদি পশুর মাধ্যমেও ছড়ায়।

করোনাভাইরাস কী এবং লক্ষণ: করোনা এক ধরনের সংক্রামক ভাইরাস। এটি পশুপাখি থেকে সংক্রমিত হয়ে থাকে। চীনসহ বিশ্বের শতাধিক দেশে এর সংক্রমণ হয়েছে। করোনা সংক্রমিত দেশে কেউ ভ্রমণ করলে এবং সেই দেশ থেকে ফিরে আসার ১৪ দিনের মধ্যে জ্বর ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকলে, সঙ্গে গলাব্যথা, কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তার করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা থাকতে পারে। এ ধরনের ব্যক্তিকে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে আইইডিসিআরের হটলাইনে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

করোনা প্রতিরোধে পরামর্শঃ নিয়মিত জীবণুনাশক বা সাবান বা হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়া উচিত, কাশি বা হাঁচি দিচ্ছেন এমন ব্যক্তি থেকে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন, হাত না ধুয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে, হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু বা হাতের কনুই দিয়ে নাক ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে, যেখানে সেখানে থুথু নিক্ষেপ করা যাবে না।

রান্না করার আগে ভালো করে খাবার ধুয়ে নিতে হবে, যে কোনো খাবার ভালো করে সিদ্ধ করে রান্না করতে হবে, কাপড় একবার ব্যবহার করে ধুয়ে ফেলুন, বাড়ি এবং কর্মক্ষেত্র নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে, বাইরে ব্যবহৃত জুতা ঘরে ব্যবহার করা যাবে না। খালি পায়ে হাঁটা যাবে না, পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। অন্যের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে, স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুসরণ করে নিরাপদ থাকাই উত্তম পন্থা, অসুস্থ বোধ করলে বাড়িতে অবস্থান করা উত্তম, জনাকীর্ণ স্থানে সতর্ক থেকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, শিশু, বৃদ্ধ ও ক্রণিক রোগীদের অধিকতর সতর্ক থাকতে হবে, নিজেকে নিরাপদ রাখতে বিদেশ ভ্রমণ না করাই ভালো।