নিবন্ধন ছাড়াই ডাক্তারি, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

৫:৫২ অপরাহ্ণ | শনিবার, মার্চ ১৪, ২০২০ খুলনা, দেশের খবর

মহসিন মিলন, বেনাপোল প্রতিনিধি- যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণ বাজারের সেবা ক্লিনিকের মেডিসিন, হৃদরোগ, নবজাতক ও শিশু-কিশোর রোগ অভিজ্ঞ ডা. এস এম মাহফুজ হোসেনকে জরিমানা করা হয়েছে। কোনো নিবন্ধন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সেবা ক্লিনিকে রোগী দেখছিলেন তিনি।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে ওই ডাক্তারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন।

শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, ডা. এসএম মাহফুজ হোসেন বিএম অ্যান্ড ডিসি রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা করছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় তাকে আটক করার পর কাগজপত্র দেখানোর শর্তে রাত ১১টায় ছেড়ে দেয়া হয়।

পরে শনিবার দুপুরে কাগজপত্র ঢাকা থেকে যাচাই-বাছাই করে দেখা যায় তিনি ভারতের সুরাবালা মেডিকেল কলেজ থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি এমবিবিএস কোর্স করেছেন। কিন্তু তার কোনো উপযুক্ত প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি। মেডিকেল এবং ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ অনুযায়ী একজন মেডিকেল চিকিৎসক নিবন্ধন ছাড়া অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা করতে পারবেন না।

নিবন্ধন ছাড়া মেডিসিন, হৃদরোগ, নবজাতক ও শিশু-কিশোর রোগ অভিজ্ঞ হিসেবে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা করায় এসএম মাহফুজ হোসেনকে মেডিকেল এবং ডেন্টাল আইন ২০১০ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং বিএম অ্যান্ড ডিসির নিবন্ধনের পূর্বে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা সংক্রাস্ত সব ধরণের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকারনামা নেয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের বাসিন্দা এসএম মাহফুজ হোসেন। ঝিনাইদহে প্রথমে একটি এনজিওতে চাকরি করার সময় টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হওয়ায় তিনি বাড়ি চলে আসেন। পরে ২০০৭ সালে নাভারণে এসে সেবা ক্লিনিকে আলট্রাসনোগ্রামের কাজ করতেন। তিনি ডাক্তার পরিচয়ে রিপোর্ট দিতে থাকেন।

এক সময় তিনি হয়ে ওঠেন এমবিবিএস ডা. এসএম মাহফুজ হোসেন। এখন তিনি একাধারে এমবিবিএস, পিজিটি (শিশু), পিজিটি (মেডিসিন), ডিপ্লোমা ইন আল্ট্রাসাউন্ড (ঢাকা), সনোলজিস্ট ডিগ্রির অধিকারী। এছাড়াও মেডিসিন, হৃদরোগ, নবজাতক ও শিশু-কিশোর রোগে অভিজ্ঞ।

Loading...