ফরিদপুর শহরজুড়ে তীব্র মশার উপদ্রব, অতিষ্ট জনজীবন

৩:৫৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, মার্চ ১৬, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি- শীত যেতেই শুরু হয়েছে ফরিদপুর শহর জুড়ে তীব্র মশার উপদ্রব। দিনে-রাতে, ঘরে-বাইরে এসব মশার উপদ্রবে ইতিমধ্যে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। এতে ডেঙ্গু সহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন শহরবাসী।

গত বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ফরিদপুরে ১৪ জনের মৃত্যু হয়। আর এতে জেলায় প্রায় ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়। যদিও ফরিদপুর পৌর মেয়র দাবি করছেন, মশা নিধনে তারা যথেষ্ট তৎপর রয়েছেন।

ফরিদপুর পৌরসভার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, এই পৌর এলাকার আয়তন ছিলো ৯টি ওয়ার্ডের ১৭.৩৪ বর্গ কি:মিটার কিন্তু এখন পরিধি বেড়ে ২৯টি ওয়ার্ড হয়েছে, যার আয়তন দাঁড়িয়েছে ৬৬.৫৪ বর্গ কি: মিটার। আর এই বিশাল এলাকার জন্য রয়েছে পাঁচটি ফর্গার মেশিন যার তিনটিই বিকল।

সরেজমিনে ফরিদপুর শহরের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকা পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সড়কের পাঁশে ড্রেন ও ডোবাসহ নানা স্থানে জমে থাকা পানিতে মশার ভয়াবহ বিস্তার ঘটছে। রাস্তার পাঁশে খোলাস্থানে দু’তিন দিনের জমে থাকা তুলনামুলক স্বচ্ছ পানিতেও মশার বংশ বিস্তার ঘটছে। এসব স্থানে তৈরি হচ্ছে মশার লার্ভা।

ওষুধ ব্যবসায়ী নিশান মাহমুদ বলেন, সম্প্রতি শহরে ড্রেন সংস্কারের কাজ হচ্ছে। এতে ড্রেনের ময়লা আবর্জনাযুক্ত উম্মুক্ত পানিতে গিজগিজ করছে মশা। এসব মশার উপদ্রবে তারা খুবই অতিষ্ঠ। ডেনের ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত পানি পরিষ্কার করা হয়নি। সেখানে মশা বংশবিস্তার করছে। তিনি বলেন, সামনেই ডেঙ্গুর মৌসুম। এখন জনমনে ডেঙ্গু নিয়ে একটা আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে এ মশার উপদ্রবে।

স্থানীয় এক সংবাদকর্মী তরিকুল ইসলাম বলেন, এবছর গরম মৌসুম শুরু আগেই কিন্তু প্রচন্ড রকমে মশার উপদ্রব বেড়েছে। বাসাবাড়ি, হাসপাতাল, ব্যবসা কেন্দ্র, শহর-গ্রাম সবখানেই একই দশা। মশা নিধনে যে ওষুধ ছেটানো হয় তা কতোটাকু কার্যকর তা নিয়েও সন্দেহ আছে।

তিনি বলেন, গত বছর যেভাবে ডেঙ্গুর উপদ্রব হয়েছিলো তাতে এবার যদি ব্যবস্থা নেয়া না হয় তাতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মাহমুদ নামে শহরের পশ্চিম খাবাসপুরের এক বাসিন্দা বলেন, আমরা পৌর কর, বিল সবই দেই। কিন্তু মশা থেকে রেহাই মিলছে না। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, ড্রেনে জমে থাকা ময়লা পানিতে বংশবিস্তার করা মশার আবাস্থলে ডেঙ্গু লার্ভার মাত্রা পরিমাপের কোন তৎপরতাও দেখা যায়না।

শহিদুল ইসলাম নামে ঝিলটুলীর এক বাসিন্দা বলেন, সন্ধা হলেই বাসাবাড়ির দরজা জানালা আটকে ঘরে থাকি। কয়েল জ্বালাই, মশার ওষুধ স্প্রে করি। তারপরেও মশা মরে না।

মশার নির্ধনে কাজ চলছে এমন মন্তব্য করে ফরিদপুর পৌর মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথু অবশ্য মশার উপদ্রবের কথা স্বীকার করলেও মশা নিধনে পৌর কর্তৃপক্ষ তৎপর রয়েছে বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, পাঁচটি ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধক ওষুধ ছেটানো হচ্ছে। বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় মশা নিধনে সচেতনতামুলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বাড়ির আঙিনা ও মশা তৈরি হতে পারে এমনস সব স্থান পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ড্রেনের খোলা মুখে মশক নিধক ওষুধ গুলিয়ে ঢেলে দেয়া হচ্ছে। এতেও মশার কীট মরে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

Loading...