হবিগঞ্জে ৫৩ জন প্রবাসী হোম কোয়ারেন্টাইনে

৩:৪৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, মার্চ ১৯, ২০২০ দেশের খবর, সিলেট

মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি- হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেন না হবিগঞ্জে ফেরা প্রবাসীরা। এনিয়ে জনসাধারনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। বাড়ছে করোনা ঝুঁকি। এ অবস্থায় তৎপর হয়ে উঠেছে প্রশাসন। হোম কোয়ারেন্টাইন না মানায় ফ্রান্স ফেরত প্রবাসীর পরিবারকে করা হয়েছে জরিমানা।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ এ.কে.এম মোস্তফিজুর রহমান জানান, জেলা পর্যায়ে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ১২ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি রয়েছে। ওই কমিটি নিয়মিত বৈঠক করছে এবং সার্বক্ষণিক বিষয়টির খোঁজ-খবর নিচ্ছে।

জেলা পর্যায়ে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা জানান, গত ১ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত হবিগঞ্জে ২৫শত ৯৫ জন প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। পুলিশ প্রতিনিয়ত এসব বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছে।

তিনি জানান, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে যৌথভাবে কাজ করছেন তারা। জেলা পর্যায়ে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫৩ জন বিদেশ ফেরত প্রবাসী। এদের মধ্যে লাখাই উপজেলার ফ্রান্স ফেরত এক প্রবাসী ও তার পরিবার হোম কোয়ারেন্টাইন না মেনে বিয়ে করায় বৌভাত অনুষ্ঠান পন্ডসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এরপুর্বে দুপুরে শহরে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণকালে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘করোনায় আতংকিত না হয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। করোনা আমাদের দেশে এখনও তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। তাই পুর্ব থেকেই সকল জনসাধারণকে সচেতন হতে হবে’।

তিনি বলেন, ‘জনসমাগম এড়িয়ে চলার পাশাপাশি সকলকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে’।

এদিকে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় হোম কোয়ারেন্টাইন মানা হচ্ছে না বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিদেশ ফেরত যাত্রীরা হাট-বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র করছেন ঘুরাঘুরি। এ অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় অদিবাসীরা। তাছাড়া প্রায় আড়াই হাজার বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র ৫৩ জনের হোম কোয়ারেন্টাইন নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।

তারা বলছেন, প্রকৃত অর্থে কোথাও হোম কোয়ারেন্টাইন মানা হচ্ছে না। সচেতন মহলের দাবী, হোম কোয়ারেন্টাইন বিষয়ে পুলিশী তৎপরতা জোরদারসহ আইন না মানা ব্যক্তিদের জরিমানার আওতায় আনা জারুরি। পাশাপাশি সবার আগে প্রয়োজন চিকিৎসকদের ‘চিকিৎসা সরঞ্জাম’। তা না হলে চরম বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।