করোনা প্রতিরোধে যশোরে ছিটানো হচ্ছে জীবাণুনাশক তরল ওষুধ

১২:১২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, মার্চ ২৪, ২০২০ খুলনা, দেশের খবর

মহসিন মিলন, বেনাপোল প্রতিনিধি- করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে যশোর পৌর এলাকায় জীবাণুনাশক তরল ওষুধ ছিটানো শুরু হয়েছে। সোমবার শহরের দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন সড়কের রাসেল চত্বরে কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

পৌরসভার উদ্যোগে নিয়মিত রুটিন মাফিক প্রায় দু’শ’ ৫০ কিলোমিটার সড়কে এ তরল ওষুধ ছিটানো হবে। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, করোনা ভাইরাস বিস্তার প্রতিরোধে পৌর এলাকায় জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। তবে আগে জনবহুল এলাকায় দেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে পৌর এলাকার প্রায় ২শ’৫০ কিলোমিটার রাস্তায় স্প্রে করা হবে।

পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক (কনজারভেন্সী) আব্দুর রহমান মন্টু বলেন, প্রতি দু’হাজার লিটারে এক কেজি ব্লিসিং পাউডার ও এক কেজি ডিটারজেন্ট পাউডার মিশিয়ে ট্রাকের মাধ্যমে ছিটানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে শহরের জীবাণু বিস্তারে অনেকটাই রোধ হবে।

পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন বলেন, সারা পৃথিবী এখন করোনায় আক্রান্ত। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও করোনা প্রতিরোধে হিমশিম খাচ্ছে। যার কারণে যশোরের অন্যান্য পৌরসভাগুলোর মধ্যে তারাই প্রথম এ কাজ শুরু করেছেন।

পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন বলেন, আমেরিকার একটি হেলথ ওয়েবসাইট থেকে তথ্য নিয়ে ব্লিসিং পাউডার, ডিটারজেন্ট পাউডার আর পানি দিয়ে জীবাণুনাশক ওষুধ তৈরি করা হয়েছে।

পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, আদালত চত্বর, হাসপাতাল, বড় মার্কেট, বাসস্ট্যান্ডে প্রথম দিকে স্প্রে করা হবে। এছাড়াও করোনা প্রতিরোধে বেশ কয়েকটি ওয়ার্কিং টিম গঠন করা হয়েছে।

পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু বলেন, দেশের দু’একটি সিটি কর্পোরেশন ছাড়া আর কোনো পৌর শহরে জীবাণুনাশক ওষুধ স্প্রে করেনি। জনসাধারণের কথা চিন্তা করেই তিনি এ উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

একইসাথে তিনি বলেন, তিনিও এই শহরেরই ছেলে, শুধু পৌর মেয়র নন। তাই জনসাধারণের সুস্থতার জন্য বেশ কিছু দিন আগেই এ উদ্যোগ পৌর কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করে। যার ফলশ্রতিতে সোমবার বিকেল থেকে কার্যক্রম শুরু করা হয়।

তিনি জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকারি সকল নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। কারণ কোনো প্রকার অবহেলা করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। যার জন্যে সরকারি সকল নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটানো কার্যক্রমের উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম শরীফ, সহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন, উপসহকারী প্রকৌশলী জুবায়ের রহমান, যুবলীগ নেতা রেজাউল ইসলাম, পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক (কনজারভেন্সী) আব্দুর রহমান মন্টু প্রমুখ।