শেরপুরে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী, চলছে পুলিশের অভিযান

৬:৫০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, মার্চ ২৪, ২০২০ দেশের খবর, ময়মনসিংহ

মইনুল হোসেন প্লাবন, শেরপুর প্রতিনিধি- করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে শেরপুরে সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে সেনা মোতায়েন হয়েছে।

বুধবার থেকে জেলা ও উপজেলা সদরসহ সম্ভাব্য এলাকাগুলোতে তারা টহল তৎপরতা চালাবে। অন্যদিকে জেলায় সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ২৪ মার্চ মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুবের সভাপতিত্বে তার অফিসকক্ষে করোনাভাইরাস প্রতিরোধসংক্রান্ত জেলা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম পিপিএম, শেরপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্টের ১৯ পদাতিক ডিভিশনের মেজর তৌফিকুল বারী, সিভিল সার্জন ডাঃ একেএম আনওয়ারুর রউফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি শহরে সেনাবাহিনী নামার খবরে প্রভাব পড়েছে খাদ্য সামগ্রীর বাজারসহ মানুষের অবাধ চলাফেরায়। এছাড়া জেলা কালেক্টরেট ভবন কম্পাউন্ডে দিনব্যাপী ন্যায্যমূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। আর স্থানীয় বাজারগুলোতে চাল, ডাল, আটা, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, সয়াবিন, চিনি ও গরম মসলা এবং মাস্ক-সাবানসহ নিত্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী অনেকটাই সহনীয় দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

করোনা পরিস্থিতি ও সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গে শেরপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্টের ১৯ পদাতিক ডিভিশনের মেজর তৌফিকুল বারী বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণকে কেন্দ্র করে উদ্ভুত অবস্থায় আতঙ্ক মঙ্গলবার সকালে তার নেতৃত্বে ১ ব্যাটালিয়ন সেনা সদস্য শেরপুর সরকারি কলেজ মাঠে অবস্থান নিয়েছে। ইতোমধ্যে পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় হয়েছে। বুধবার থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি মোকাবেলায় মাঠে কাজ করবে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জেলায় সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সেনাবাহিনী রিপোর্ট করেছে। বুধবার থেকে তারা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় রেখে মাঠে কাজ করবে। এজন্য ইতোমধ্যে পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন ও সেনাবাহিনীর ১ জন মেজরের উপস্থিতিতে উচ্চ পর্যায়ের বিশেষ সভা হয়েছে। তিনি আতঙ্কিত না হয়ে সাহসিকতা ও সতর্কতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহবান জানান।

এদিকে শেরপুরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি এবার শহরে অবাধ জনযাতায়াত ও ভিড় ঠেকাতে মাঠে নেমেছে পুলিশ। ২৪ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে শহরের নিউমার্কেট, নয়ানীবাজার, স্টেডিয়াম মার্কেট ও বিভিন্ন পাবলিক প্লেসসহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অভিযান চালায় পুলিশ। এতে নেতৃত্ব দেন শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আমিনুল ইসলাম।

জানা যায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে জনসচেতনতামূলক প্রচারণার পরও শেরপুর শহরের বিভিন্ন মার্কেট ও পাবলিক প্লেসসহ গুরুত্বপূর্ণ মোড় গুলোতে সাধারণ মানুষের ভিড়সহ যত্রতত্র মানুষের জটলা লেগেই থাকছিল। ওই অবস্থায় স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে শহরে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। ওইসময় তারা যেখানেই ৪/৫ জন মানুষকে একত্রে দেখতে পায়, সেখানেই পৌঁছে সচেতনতামূলক কথাবার্তায় তাদেরকে বুঝিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এতে কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম পিপিএমের নির্দেশনায় বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অভিযান চালিয়ে জনসাধারণকে সচেতন করাসহ বাসায় অবস্থান করতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতির আলোকে এ অভিযান শহরে চলমান থাকবে।

উল্লেখ্য, জেলায় এখন পর্যন্ত ৯৮ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। ওই পিরিয়ড শেষ হয়েছে ২৯ জনের। তবে জেলায় এখনও কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়নি। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৫ উপজেলায় ১৫০ জনকে আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থাসহ জরুরি আইসোলেশনের জন্য আরও পিটিআইয়ে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গত ১ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শেরপুর জেলায় ফিরেছে ৯ শতাধিক নাগরিক।

Loading...