• আজ ১৮ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ওরস বন্ধ করতে বলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে জখম!

১:২৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২০ দেশের খবর, রাজশাহী

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: দেশব্যাপী করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে বগুড়ায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটি মাজারের ওরস মাহফিল বন্ধ করতে বলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছে ওই মাজারের অনুসারীরা।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাত ১০টার দিকে শহরের গোয়ালগাড়ী এলাকায় শাহ্ সিরাজুল হক চিশতীর মাজার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মরহুম ভাষা সৈনিক গাজিউল হকের বাবা পীর সিরাজুল হক চিশতির মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রতিবছর ভক্তরা ওই বাড়িতে থাকা মাজারের পাশে নাচ, গান, জিকির-আজগারসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে থাকেন।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ওরশে বুধবার বিপুল সংখ্যক নারী ও পুরুষ ভক্ত আসেন। করোনাভাইরাসের কারণে যে কোনো জনসমাগম নিষেধ থাকার পরও এ আয়োজন করায় পুলিশ এসে দু’দফা নিষেধ করে যায়। এমতাবস্থায় জননিরাপত্তার কারণে ওরস মাহফিল বন্ধ রাখার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে কয়েক দফা নিষেধ করা হয়।

এরপরও ভক্তরা সেখানে অবস্থান করায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নান্নু খান ও এএসআই জাহিদুল ইসলাম আসেন। আবারও অনুষ্ঠান করতে নিষেধ করায় ভক্তরা দরজা বন্ধ করে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে বেদম মারপিট করেন ও তাদের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেন। বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পীরের আস্তানা সংলগ্ন একটি চারতলা ভবনে ঢুকে দরজা বন্ধ করেদেয় মুরিদেরা। পরে বগুড়া সদর সার্কেরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রর্বতী হ্যান্ডমাইকে তাদেরকে আত্মসর্মপনের আহবান জানান। পরে রাত ১০টার দিকে ভবনের বিভিন্ন কক্ষ থেকে অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ বের হয়ে আসে । পরে পুলিশ পীরের অনুসারী ২২ জন পুরুষকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ২৫ মার্চ ওই মাজারের ওরস আয়োজনের খবর শুনে তারা কয়েকদিন ধরেই মাজার কমিটিকে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করার অনুরোধ জানান। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য বুধবার দুপুরেও পুলিশ সদস্যরা মাজারে গিয়ে ওরস আয়োজন বন্ধ করার নির্দেশনা দেন। কিন্তু গণজমায়েতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সন্ধ্যার পর থেকে প্রায় আড়াইশ মানুষ ওই ওরসে সমবেত হন।

রাতে মাজারে গিয়ে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নান্নু খান ও সহকারী উপ-পরিদর্শক জাহিদুর রহমান আবারও ওরস বন্ধের অনুরোধ করলে মাজার অনুসারীরা তাদের ওপর চড়াও হন। তারা লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট করেন ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান জানান, রাত ১০টার দিকে সদর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে মাজার থেকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। মাজার অনুসারীদের মারপিটে তাদের দুজনই হাতে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।

পরে মাজারের বিভিন্ন কক্ষ থেকে আটক করা হয় অন্তত ১৫/২০ জন পুরুষ মাজার অনুসারীকে। এদের মধ্যে ওই ওয়ার্ডের সাবেক দুই কমিশনার নুরুল আমীন ও শফিকুল ইসলাম নয়নও রয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

ওসি আরও জানান, শাহ্ সিরাজুল হক চিশতি বগুড়ার ভাষা সৈনিক গাজীউল হকের বাবা। ২০০৯ সালে মৃত্যুর আঘ পর্যন্ত গাজীউল হক এই মাজারের তত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তাঁর ছেলে রাহুল গাজী এই মাজারের দেখভাল করতে শুরু করেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।

Loading...