• আজ ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ১১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা পুলিশের

২:৫২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২০ দেশের খবর, রংপুর

শাহ্ আলম শাহী, স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকে- দিনাজপুরের বিরলে রুপালী বাংলা জুট মিলে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনের ঘটনায় শ্রমিক-পুলিশের সংর্ঘষে পুলিশের গুলিতে এক চা দোকানদার নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় ৩ পুলিশসহ আহত হয়েছে আরো ১৩ শ্রমিক। নিহত ব্যক্তির নাম সুরত আলী (৩৭)। তিনি মিলের পাশের চা দোকানদার। হুসনা মোড়ের মোহাম্মদ আলীর ছেলে সুরত আলী।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃধবার রাত ৯টায় দিনাজপুরের বিরল উপজেলার রুপালী বাংলা জুট মিল চত্বরে। রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মো.মাহমুল আলম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বিপিএম ও পিপিএম (বার) এবং বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিনাত রহমানসহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা। এ সময় তারা নিহত সুরত আলী’র পরিবারের সাথেও কথা বলেন।

অপরদিকে জুট মিলে শ্রমিক সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ ১১০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিরল থানার উপ-পুলিশ পুরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কাদের বাদি হয়ে থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।

আজ বৃহস্পতিবার সরজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে রুপালী বাংলা জুট মিলের আশপাশ সুনসান অবস্থায় দেখা যায। মিলের ভেতরে ভাঙচুর তান্ডবের অনেক কিছুই চোখে পড়ে। যে ক’জনকে আশপাশে দেখা যায়, তাদের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ।

এলাকার লোকজন জানায়, বৃধবার বিকেলে কোন নোটিশ ছাড়াই রুপালী বাংলা জুট মিল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে শ্রমিকরা। তারা বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে সন্ধার পর থেকে মিল গেটে সমবেত হতে শুরু হয়।

কিছুক্ষণ পর রাত সাড়ে ৮টায় রুপালী বাংলা জুট মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিরল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম.আব্দুল লতিফ ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু, শ্রমিকরা তাদের বকেয়া বেতন চেয়ে শ্লোগান দিতে থাকে। কিন্তু, শ্রমিকদের দাবি না মেনে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করার চেষ্টা করেন।

এ সময় বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে ভাঙচুর শুরু করলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড রাবার বৃলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এ সময় উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। ঘটনাস্থলে পুলিশের গুলিতে সৃরত আলী (৩৭) নামে এক চা দোকানদার গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। আহত হয় ৩ পুলিশসহ আরো ১৩ জন শ্রমিক।

এ হতাহত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাসিম হাবিব। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১২ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে।