সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জের রেমা চা বাগান বন্ধ: অনাহারে ৫ শতাধিক চা শ্রমিক

৭:২৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬, ২০২০ দেশের খবর, সিলেট

মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের রেমা চা বাগানের শ্রমিদের বিভিন্ন বকেয়া ৫০০০ টাকা ও বাগানের ব্যবস্থাপক কর্তৃক খেলার মাঠ দখল করে চারা লাগানোর বিবাদকে কেন্দ্র করে গত ৪ মার্চ থেকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রেমা চা বাগান বন্ধ।

রেমা চা বাগানের মালিকদের বিরুদ্ধে শ্রমিক শোষণ-নিপীড়নের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। শুধু তাই নয়, মজুরি এবং উৎসব ভাতা বাবদ প্রায় প্রতিটি শ্রমিকের ৫০০০ টাকা করে বকেয়া রয়েছে বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে। এরই মধ্যে গত ৪ মার্চ, চা শ্রমিকদের খেলার মাঠ দখল করে বাগান ব্যবস্থাপক চারা গাছ রোপণ করতে উদ্যত হলে চা শ্রমিকদের সঙ্গে তার বিরোধ হয়।

এই বিরোধের জের ধরে বাগান ব্যবস্থাপক চুনারুঘাট থানায় অভিযোগ করলে ৫ মার্চ পুলিশ তদন্ত করতে বাগানে আসে। এতে ক্ষেপে যায় শ্রমিকরা। এরপর ৬ মার্চ বাগান ব্যবস্থাপকের সাথে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে শ্রমিকদের সাথে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। এ ঘটনায় বাগানের সাবেক পঞ্চায়েত মানিক দাস ও ইউপি সদস্য নির্মল দেবসহ ২৪ জনকে আসামি করে বাগান কর্তৃপক্ষ মামলা দায়ের করেন এবং একইসাথে বাগান বন্ধ করে দিয়ে তালা দিয়ে চলে যান।

গত ৮ মার্চ, শ্রমিকদের খেলার মাঠ দখল, বকেয়া বেতন ও মামলা দিয়ে হয়রানি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন চা শ্রমিকরা। ওইদিন সকালে রেমা চা বাগান থেকে প্রায় ১৫ মাইল রাস্তা হেঁটে উপজেলা সদরে এসে এ বিক্ষোভ করেন তারা।

বিক্ষোভে অংশ নেন ছয় শতাধিক বিভিন্ন বাগানের চা শ্রমিক নারী-পুরুষ। বিক্ষোভ শেষে চা শ্রমিকরা উপজেলা পরিষদ এলাকায় অবস্থান নিলে চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান মহালদারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাদের বিষয়টি বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সমাধান করার আশ্বাস দেন এবং ফিরে যেতে বলেন। কিন্তু ২৩ মার্চ পর্যন্ত চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক বাগান মালিকের সঙ্গে কোন আলোচনায় বসতে পারেনি।

চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল জানিয়েছিলেন, ২৪ মার্চের মধ্যে বন্ধ বাগান চালু করতে হবে। সমাধান না হলে ২৩টি চা বাগান একযোগে যেকোন কর্মসূচি গ্রহণ করবে।

কিন্তু ২৪ মার্চ বাগানের শ্রমিকদের তথ্য থেকে জানা যায়, বাগান খোলা হয়নি এবং খুব শীঘ্রই খোলার কোন সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। যেহেতু বাগানটি বেসরকারি এবং মালিক পক্ষ আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে তাই তাদেরকে বোঝাতে একটু সময় লাগছে।

Skip to toolbar