সংবাদ শিরোনাম
করোনায় ঢাকার সাবেক এমপি মকবুলের মৃত্যু | বরিশালে ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্তদের ঘর মেরামত করে দিলেন সেনাবাহিনী | এবার প্রবাসীদের বাড়িতে ঈদ উপহার পাঠালেন মাশরাফি | ইতালিতে ঈদুল ফিতর উদযাপন করলেন ২৫ লাখ মুসল্লি | করোনাকালে “এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট” হিসেবে দায়িত্ব পালনের গল্প | ঠাকুরগাঁওয়ে কর্মহীনদের ঈদ উপহার দিল সেনাবাহিনী | করোনা চিকিৎসায় ১৩টি হাসপাতালে রেমডেসিভির সরবরাহ শুরু | কৃষকদের ধান কেটে দেওয়ায় ছাত্রলীগকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন | জীবিকার স্বার্থে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী | “পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকবে” |
  • আজ ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আসুন আল্লাহপাকের নির্দেশিত পথে চলি

৬:০৮ অপরাহ্ণ | সোমবার, মার্চ ৩০, ২০২০ ইসলাম

ইসলাম ডেস্ক- মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের কেবল শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে আখ্যায়িত করেননি বরং যথাযথ মর্যাদায় সম্মানিতও করেছেন।

আমাদের তিনি বিনা কারণে বা দুনিয়াবি আনন্দ-ফুর্তির জন্য সৃষ্টি করেননি। আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে বলেছেন : ‘মানুষ কী মনে করে, তাকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানোর জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে? (সুরা কিয়ামা :৩৬)।

আবার সুরা মুমিনুনের ১১৫ নম্বর আয়াতে মহান স্রষ্টা এ কথাই ব্যক্ত করেছেন- ‘তোমরা কি ভেবেছ, তোমাদের অহেতুক সৃষ্টি করেছি।’ মোটেও নয় বরং বিশেষ উদ্দেশ্যের জন্যই আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। যেহেতু আজ আমাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য ভুলে বসেছি, তাই তো সমাজ, দেশ ও বিশ্বের সর্বত্রে অশান্তি বিরাজমান। আমার অধিকার, আমার প্রাপ্য, আমর সম্মান সবকিছু সম্পর্কেই আমি খুব ভালো বুঝি, কেবল নিজেকেই বুঝি না।

একের পর এক অন্যায় আমার দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে, ক্ষণিকের জন্যও আমি আমার প্রভুকে স্মরণ করি না, তাকে ভয় করি না। অথচ তিনি আমাদের সঙ্গেই আছেন, আমাদের অপকর্ম দেখা সত্ত্বেও আমাদের ছাড় দিচ্ছেন, সংশোধনের সময় দিচ্ছেন। এ বিষয়ে আল্লাহতায়ালা বলেন- ‘যেখানেই তোমরা যাও তিনি তোমাদের সঙ্গে থাকেন আর তোমরা যা-ই করো, আল্লাহ তা পুরোপুরি দেখেন’ (সুরা হাদিদ :৪)।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক এটাও বলেছেন, তিনি আমাদের জীবনশিরা অপেক্ষাও নিকটে রয়েছেন (সুরা কাফ :১৬)। আল্লাহপাক আমাদের এত নিকটে, তারপরও আমরা তার রহমত থেকে বঞ্চিত থেকে যাই। কারণ হলো- আমার যে একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন, সবকিছুই যে তার, আমার যে কিছুই নেই, এই বিষয়টা নিয়ে কখনও আমি চিন্তা করি না। এ কারণেই আমি আমার সৃষ্টিকর্তা প্রভুকেও চিনতে পারছি না এবং তার কল্যাণ থেকে বহু দূরে অবস্থান করছি। হাদিসে বলা হয়েছে, মহানবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি তার নিজ সত্তার পরিচিতি লাভ করতে পেরেছে, সে মহান প্রভুকে চিনতে পেরেছে।’

উল্লিখিত হাদিসের কথাই পবিত্র কোরআনে সুরা হাশরের ১৯ নম্বর আয়াতে ভিন্ন ভঙ্গিতে মহান স্রষ্টা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা আল্লাহকে ভুলে গেছে। ফলে আল্লাহ তাদেরকে আত্মবিস্মৃত করে দিয়েছেন।’ এ কথার অর্থ হলো আল্লাহকে ভুলে যাওয়া সমান নিজ সত্তাকে ভুলে যাওয়া। আসলে কি মানুষ নিজ সত্তাকে ভুলে যায়? হ্যাঁ, মানুষ নিজ সত্তাকে ভুলে যায়।

আজ আমরা নিজ সত্তাকে ভুলতে বসেছি। যেহেতু আজ আমরা নিজ সত্তাকে ভুলতে বসেছি, তাই আজ আমার দ্বারা কেউ আর নিরাপদ নয়। নিরীহ ও নিষ্পাপ শিশুদের ওপর জুলুম-অত্যাচার করতে আমার হৃদয় আজ কাঁদে না। অহঙ্কার আর ক্ষমতার দাপটে আমি আমার জন্মের উদ্দেশ্যকে ভুলে বসেছি। অথচ আমরা দেখতে পাই ইবলিসের সমস্ত আমল নষ্ট হয়েছিল কেবল তার অহঙ্কার আর আমিত্বের কারণেই।

সে নিজের সৃষ্টির উপাদানকে শ্রেষ্ঠ মনে করে আদমের সৃষ্টিগত উপাদানকে (মাটি) তুচ্ছজ্ঞান করে প্রভুর নির্দেশের অবাধ্য হয়। ফলে তার অর্জিত সব আমল বিনষ্ট হয়ে যায় এবং সে প্রভুর অভিশাপে পতিত হয়। তাই মানুষ যাতে কখনও অহঙ্কারী না হয় এবং আমিত্ব তাকে গ্রাস না করে, সে জন্যই মহান প্রতিপালক তাকে তার সৃষ্টিগত উপাদানের কথা পবিত্র কোরআনে বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

আজ যারা ক্ষমতা, প্রভাব-প্রতিপত্তির গর্ব করে আল্লাহপাকের সৃষ্টিকে কষ্ট দেয়, তাদের অবস্থা যে ইবলিসের মতো হবে না, তা কি আমরা কখনও ভেবে দেখেছি? আজ আমরা সৃষ্টিকর্তা খোদাকে ভুলে গিয়ে হৃদয়ে শত শত মিথ্যা খোদার স্থান দিয়েছি।

মুখে এক আর অন্তরে ভিন্ন, এটাই যেন আজ রীতিতে পরিণত হয়েছে। অথচ আমাদের অন্তরে কী আছে তা তিনি খুব ভালো করেই জানেন। তাই মানুষকে নানাভাবে ধোঁকা দেওয়া সম্ভব; কিন্তু আল্লাহপাককে ধোঁকা দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ তিনি প্রকাশ্য ও গোপন, ভেতর ও বাইরের সবকিছু সম্পর্কেই অবগত। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তুমি বলো, তোমাদের অন্তরে যা আছে তা তোমরা গোপন করো বা তা প্রকাশ করো আল্লাহ তা জানেন। আর আকাশে যা আছে এবং পৃথিবীতে যা আছে, তিনি তাও জানেন। (সুরা আল ইমরান : ২৯-৩০)।

এখন সময় এসেছে নিজেকে চেনার ও জানার, নিজেকে সংশোধন করার। আমাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য জানতে হবে। মহান রাব্বুল আলামিন মানুষকে কেবল তার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং সর্বাবস্থায় আল্লাহর ইবাদত করা ও জীবনের সব কাজে আল্লাহর দেখানো পথে চলা উচিত। আজ যদি আমরা পরের দুঃখে ব্যথিত হই, অন্যের কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করি, তাহলে সেই সত্তা যিনি আমাদের জীবনশিরারও নিকটে অবস্থান করেন, তিনিই আমাদের সব সমস্যা দূর করবেন।

আজ যদি আমার জন্মের উদ্দেশ্যকে বুঝতে পারতাম, তাহলে পশুর মতো ছুটে বেড়াতাম না। তাই আসুন, নিজেকে নিয়ে একটু ভাবি, নিজ আত্মপরিচিতির মাধ্যমে স্রষ্টার রহমত ও কল্যাণকে জগতের সামনে ফুটিয়ে তুলি। আমীন।