• আজ ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নারী শ্রমিককে যৌন হয়রানি, বাঁধা দেওয়ায় ঠিকাদার খুন

৮:০১ অপরাহ্ণ | সোমবার, মার্চ ৩০, ২০২০ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

রবিউল হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি- কুমিল্লায় এক নারী শ্রমিককে (২৪) যৌন হয়রানিতে বাধা দেয়ায় বখাটেদের ছুরিকাঘাতে আবদুল মতিন (৬০) নামে এক ঠিকাদার খুন হয়েছেন।

সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ৯ টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আবদুল মতিন কুমিল্লা নগরীর সংরাইশ মধ্যপাড়া এলাকার মৃত মনু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় দুই দফায় সংঘর্ষ ও মারামারিতে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে আবদুল মতিনের মৃত্যুর খবরে স্থানীয়রা ক্ষুব্দ হয়ে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ঘাতক আল-আমিনের বাড়িঘরে আগুন দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ হৃদয় নামের একজনকে আটক করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা ইপিজেডের একটি কোম্পানির এক নারী শ্রমিক রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে নগরীর সংরাইশ এলাকার গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় একই এলাকার মঞ্জিল মিয়ার ছেলে বিপ্লব (২৫) ওই নারী শ্রমিকের পথরোধ করে যৌন হয়রানি করেন। এ ঘটনা দেখে প্রতিবাদ জানান ঠিকাদার আবদুল মতিনের ভাতিজা জসিম উদ্দিন।

খবর পেয়ে বিপ্লবের সহযোগী সংরাইশ এলাকার ইদ্রিস মিয়ার (ইদু) ছেলে আল-আমিন দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে বিপ্লবের পক্ষ নিয়ে জসিম উদ্দিনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে উভয়পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয়পক্ষের ১০/১২ জন আহত হন।

পরে সন্ধ্যায় বিপ্লবের সহযোগী আল-আমিন দলবল নিয়ে জসিমের বাড়ির সামনে যায়। এ সময় তারা জসিমের চাচা ঠিকাদার আবদুল মতিনকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে। তাকে বাঁচাতে এসে আহত হন মতিনের ছেলে পারভেজ, ভাতিজা জসিম উদ্দিন, একই বাড়ির রাব্বী ও শিরীনসহ চারজন।

পারভেজ জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় তার বাবাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর সোমবার সকাল ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল হক জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।