সংবাদ শিরোনাম
বিশ্বের সকল মুসলিমকে ঈদের শুভেচ্ছা ওজিল-পগবার | এ ধরনের ঈদ উদযাপন করবো কোনোদিন চিন্তা করিনি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী | কাউন্টার টেররিজমের সতর্কবার্তায় নিজের ভুল শুধরে ক্ষমা চাইলেন ‘বিতর্কিত’ নোবেলম্যান | ঈদের দিনে দুপুর অবধি দেশের ৫ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস | ৩০ মে’র পর ছুটি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে যা বলছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় | চট্টগ্রামে আরও ৬৫ জনের দেহে কোভিড-১৯ শনাক্ত | বিশ্বব্যাপী আক্রান্তের সংখ্যা ৫৫ লাখ; মৃত্যুর সংখ্যা সাড়ে তিন লাখেরও বেশি! | করোনা যুদ্ধে প্রাণ দিলেন আরেক পুলিশ সদস্য | ঈদের আগের রাতে রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪ | বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত |
  • আজ ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কোনো খাবার তো পাইনি, আমরা খাব কী?

৭:১৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, এপ্রিল ১, ২০২০ দেশের খবর

ফয়সাল শামীম, ষ্টাফ রিপোর্টার: হাতে কাজ নেই, ঘর থেকে বেরোনো নেই , আমরা দিনমজুর কাজ না করলে পেটে ভাত যায়না, এম,পি, চেয়ারম্যান মেম্বার কেউই এক ছটাক চাউল দেইনি আমরা এখন কিভাবে বাঁচবো? ’সময়ের কন্ঠস্বরের এ প্রতিবেদককে কথাগুলি বলছিলেন বাংলাদেশের সবচেয়ে দারিদ্রতমজেলা কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের কাঠমিস্ত্রি মোফাছ মিয়া।

এই অভিযোগ ওই গ্রামের কাঠ মিস্ত্রি ও দিনমজুর তাজাম,মোকছেদ,ওয়াচ,আজিজুল,সাইদুল মানিক ও মোত্তালেবের ঘরে বেশ কিছুদিন থেকে বন্দি থাকলেও তাদের কাঠে পৌঁছায়নি সরকারী বা বেসরকারী কোন খাদ্য সহায়তা।

আপরদিকে ওই ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদের কোল ঘেষে বসবাস করা দিনমজুর দরিদ্র রোকেয়া,মমিনা,ফিরোজা,জবেদা,ভারতী রানিও এখন সরকারী বেসরকারী কোন সহায়তা পাননি বলে জানান।

এছাড়া ওই ইউনিয়নের তেলিপাড়া গ্রামের সুরজা,আকুল,জলিল,আজিজুল,মেহেরবান,মানিকসহ কেউই এখনও কোন ত্রাণ সহায়তা পাননি বলে জানান।

সুরজা বেগম এ পতিবেদককে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, দিন আনি দিন খাই। গত ১০/১৫ দিন থেকে একপ্রকার খেয়ে না খেয়ে বাড়িতে পড়ে আছি। তিনি সরকার ও বিত্তবানদের কাছে খাদ্য সহায়তা চেয়েছেন।

এখন তাদের প্রাণের দাবী তারা দ্রুত সরকারী বা বিত্তবানদের কাছ থেকে খাদ্য সামগ্রি সাহায্য চান।

করোনার কারণে বিশেষ করে গ্রামের প্রতিটা মানুষ চরম কষ্টে। বিশেষ করে বেশি কষ্টে আছে খেটে খাওয়া দিনমজুরসহ বয়বৃদ্ধরা।

এ প্রতিবেদক তার নিজের গ্রাম কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার চন্ডিপুরের ২০০ টি পরিবারের প্রায় প্রতিটি ঘরে গিয়ে মানুষগুলোর অসহায়ত্ব দেখেছে। অনেকের কান্নাও দেখেছে। এখন এই অসহায় মানুষগুলোর জরুরি খাদ্য সামগ্রি দরকার।

এ ব্যাপারে কথা হলে ওই ইউনিয়নের চন্ডিপুরের মেম্বার( ইউ,পি সদস্য) মুকুল মিয়া বলেন, বরাদ্ব অল্প তাই সকলকে দেয়া সম্ভব হয়নি।

প্রতিবেদকের বক্তব্য: আমি নিজে আমার গ্রাম কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ চন্ডিপুরে প্রায় প্রতিটি ঘরে গিয়ে মানুষগুলোর অসহায়ত্ব দেখেছি। অনেকের কান্নাও দেখেছি।

বিশেষ শিশুগুলো অনেক অনেক কষ্টে! তাদের কান্না দেখে নিজেও কেঁদেছি। বলবার কিছু নেই। পেট কি আর লকডাউন বা ঘরে থাকা বোঝে?  আমি আজ আমার গ্রামের যতটা বাড়ি ঘুরেছি কেউই এখন পযন্ত সরকারী বা বেসরকারী কোন সহায়তা পাননি!  আর এটাও মানি সরকারের একার পক্ষে এ পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব নয়।

দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে দল মত নির্বিশেষে সামর্থমত সবাইকে সাহায্য করতে হবে। বাড়িয়ে দিতে হবে সাহায্যের হাত। ‘বিত্তবান যারা আছেন সকলে দয়া করে কুড়িগ্রামের এই প্রতন্ত জায়গাগুলোতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। খেটে খাওয়া দিনমজুরসহ বৃদ্ধ ও শিশুরা চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। তাই আসুন সকলে মিলে কুড়িগ্রামের এসব প্রতন্ত জায়গায় বেশি বেশি করে সহযোগিতার হাত বাড়াই। জয় হোক মানবতার। মানুষ মানুষের জন্য।

প্রয়োজনে সাংবাদিক ও প্রভাষক ফয়সাল শামীম-০১৭১৩২০০০৯১।