করোনার প্রভাবে বৈশাখী মেলা অনিশ্চিত, বাউফলে মৃৎশিল্পীদের মানবেতর জীবন

১১:২০ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২০ দেশের খবর, বরিশাল

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি- করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বৈশাখী মেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়ার কারনে পটুয়াখালীর বাউফল পৌরশহরের পাল পাড়ার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প কারখানা গুলোর শ্রমিকরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

বৈশাখী মেলা উপলক্ষে যেসব মাটির তৈরীর পণ্য অর্ডার পেয়েছিল স্থানীয় কারখানাগুলো তা বাতিল হয়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারখানার মালিকরা।

সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার পৌর শহরের কাগজীরপুল পালপাড়ায় ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ১৬টি মৃৎশিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। এসকল কারখানায় শ্রমিকের সংখ্যা ছয় শতাধিক। এখানে ৬৮ ধরণের ক্রোকারিজ সহ শোপিচ সমগ্রী তৈরী হয়।

এর মধ্যে ডিনার সেট, গ্লাস, মগ, প্লেট তরকারির বাটি, মিষ্টির বাটি, জগ, ফল প্ল্টে, ফুলদানী, চায়ের কাপ-প্রিচ, মোমদানী, এ্যাস্ট্রে, কয়েল দানী দৃষ্টিনন্দন নানা পণ্য। বৈশাখী মেলা উপলক্ষে মাটির তৈরী একল পণ্যের চাহিদা সারা বছরের চেয়ে কয়েক গুন বেশি থাকে। মেলা উপলক্ষে এক একটি কারখানা ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকার মালামাল ওর্ডার পেয়ে থাকে দেশের নাম করা প্রতিষ্ঠান গুলো থেকে।

এর মধ্যে অন্যতম রয়েছে ঢাকার আড়ং, ঢাকা হ্যান্ডি ক্র্যাফট্স, হিট হ্যান্ডি ক্র্যাফট্স এবং কারিতাসের প্রকল্প কোর-দি জুটওয়ার্ক। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারনে সকল ওর্ডার বাতিল হয়ে গেছে।’

বিশ্বেশ্বর মৃৎশিল্প’ কারখানার মালিক বিশ্বেশ্বর পাল জানান, এ বছর তিনি ঢাকার আড়ংসহ দেশের অন্যান্য জেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ওর্ডার পেয়ে ছিলেন। অর্ডারের ৫০ ভাগ পণ্যই প্যাকেজিং করা শেষ। বাকী ৫০ ভাগ পণ্যের কাজ শেষের দিকে। অথচ মাল গুলো যখন ডেলিভারি দেওয়ার সময় এলো ঠিক তখনই করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় সবাই অর্ডার বাতিল করলো।

শুধু বিশ্বেশ্বর পাল না একই অবস্থা হয়েছে গবিন্দ পাল, বরুন পাল, বিষ্ণুপদ পাল, শ্যামল পাল, কমল পাল, কালাচাঁদ পাল ও মানিক পালের মতন অনেকের।

প্রীতম মৃৎশিল্প’ কারখানার মালিক গোবিন্দ পাল বলেন, এ পালপাড়ায় কাজ করে প্রায় সাত শতাধিক শ্রমিক। যার মধ্যে নারী শ্রমিকের সংখ্যাই বেশি। করোনার প্রভাবে ওর্ডার বাতিল হয়ে যাওয়ার কারনে অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার পথে। কাজ না থাকায় দৈনিক বেতন ভুক্ত শ্রমিকদের অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

প্রীতম মৃৎশিল্প কারখানার চম্পা বেগম, হোসনেয়ারা, সাধনা রানী নামের কয়েক নারী শ্রমিক জানান, করোনা ভাইরাসের কারনে কাজ কমে যাওয়ায় তাদের মতন দৈনিক বেতনভুক্ত অনেক শ্রমিকই অর্ধাহারে অনাহারে দিন পাড় করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, পালপাড়ার কারখানার মালিকদের সাথে যোগাযোগ করে প্রকৃত দরিদ্র শ্রমিকের সহযোগীতা করা হবে। কোন মানুষকে অভুক্ত থাকতে দেওয়া হবে না।