করোনা: চাহিদা না থাকায় দিশেহারা তরমুজ চাষীরা

১১:২২ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, এপ্রিল ৪, ২০২০ দেশের খবর, বরিশাল

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি- চলতি বছর তরমুজের বেশ ভালো ফলন হয়েছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশ জুড়ে চলছে অঘোষিত লকডাউন। এর ফলে বাউফলের তরমুজ যেতে পারছে না ঢাকাসহ অন্যান্য জেলায়।

একদিকে পরিবহন সংকট অন্যদিকে রাজধানীসহ দেশের কোন অঞ্চলেই তরমুজের চাহিদা সে রকম না থাকায় মাঠের তরমুজ মাঠেই রয়ে গেছে। এতে লোকসানের মুখে পড়তে যাচ্ছেন চাষিদের।

বাউফল উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। যার মধ্যে বৃক্ষ মিলি, পাগলা জাগুয়া, ইস্পাহানী ড্রাগন, সিনজেনটা ড্রাগন, ট্রামিক্যা ড্রাগন, পাকিজা ও অলকুইন প্রজাতীর চাষ করা হয়েছে। ইস্পাহানী ড্রাগন জাতের তরমুজটি কৃষকদের কাছে বেশি জনপ্রীয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ, কালাইয়া, কেশবপুরপুর ও ধুলিয়া ইউনিয়নের চরবেষ্ঠিত এলাকায় তরমুজের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে কালাইয়া ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের বিভিন্ন চরেই বেশি চাষ হয়েছে।

সরজমিনে কালাইয়ার শৌলার চরে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তৃর্ন চর জুড়ে শুধু সবুজের সমারহ। পাতার ফাঁকে ফাঁকে উকি দিয়ে আছে কৃষকের স্বপ্ন এক একটি তরমুজ। কৃষকরা যে যার মতন করে পরিচর্যা করছেন ক্ষেতের। সাথে সাথে বড় সাইজের তরমুজ গুলো কেটে বাজারজাত বিক্রির জন্য স্তুপ করছেন।

কথা হয় তরমুজ চাষি শাহ আলমের সাথে। তিনি বলেন, তিনি এ বছর চার কানি (স্থানীয় মাপ) জমিতে কয়েক প্রজাতীর তরমুজ চাষ করেছেন। প্রতি কানিতে জমিবর্গা, সার ,কীটনাশক ও শ্রমিক মুজুরী দিয়ে মোট খরচ হয়েছে প্রায় সোয়া লাখ টাকা। গাছে যে হারে ফলন হয়েছে যদি করোনার প্রভাব কেটে যায় ও আবহাওয়া যদি অনুকুলে থাকে তাহলে ব্যবসার মুখ দেখা যাবে।

চাষি আলমগীর পলান জানান, এতদিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ এলাকায় ফলের আড়ৎদাররা তরমুজ নেওয়ার জন্য মাঠের পাশে ট্রাক নিয়ে বসে থাকত। আর এ বছর আড়তদার তো আসছেই না বরং তাদের ফোন দিলে বলেন, গাড়ির সংকট অপর দিকে শহরে লোকসংখ্যা কম থাকায় তরমুজের চাহিদা তেমন একটা নাই। তবে স্থানীয় বাজারের কিছু চলছে।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান হিমু বলেন, চলতি মৌসুমে শিলা বৃষ্টি না হওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকরা যাতে কোন যানবাহন সংকটে না পড়ে তার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, তরমুজ চাষিরা যাতে করোনার প্রভাবে কোন প্রকার লোকসানের মুখে না পড়তে হয় সে ক্ষেত্রে যানবাহনসহ সার্বিক সহায়তা করা হবে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।