• আজ ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মালিকরা গার্মেন্টস শ্রমিকদের মানুষ মনে করে না: ব্যারিস্টার সুমন

৯:০৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, এপ্রিল ৫, ২০২০ স্পট লাইট

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: করোনাভাইরাসের এ দুর্যোগকালীন সময়ে গার্মেন্টস শ্রমিকরা ঢাকায় হেঁটে আসার বিষয়টি নিয়ে মালিকদের সমালোচনা করেছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইদুল হক সুমন।

তিনি বলেন, ‘টাকা নিয়ে গার্মেন্টস মালিকরা কানাডায় সেকেন্ড হোম তৈরি করেন। শ্রমিকদের মানুষ মনে করেন না। করোনার মধ্যেও গার্মেন্টস মালিকরা লাভ করছেন, আগেও করতেন আগামীতেও করবেন। এই একটা দেশে প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) ছাড়া কারও ওপর ভরসা করার কোনো কিছু পাচ্ছি না।’

রোববার (৫ এপ্রিল) হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের নিজ বাড়ির সামনে থেকে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘অনেক দিন আগে থেকে শুনতাম গার্মেন্টস শ্রমিকদের নির্যাতন করা হতো। অর্থনৈতিক কারণে এই নির্যাতন মেনে নেয়া হতো। অনেক সময় বিশ্বাস করতাম না।’

সুমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে সারাদেশে যখন লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, তখন গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিকদের এরকম করোনাভাইরাসের মধ্যে হাঁটাইয়া হাঁটাইয়া ঢাকায় নিয়ে এসেছেন। কিছু কিছু গার্মেন্টস মালিক শ্রমিকদের মানুষই মনে করেন না। শ্রমিকদের যদি মানুষই মনে করতেন, অন্তত আরও দুই সপ্তাহ ওয়েট করতেন।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা বাজেট ঘোষণা দেয়ার পরও, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশ্বাস না রেখে টাকা এবং লাভের আশায় তারা শ্রমিকদের মানুষই মনে করেন না। তারা শ্রমিকদের মানুষ মনে করবেন কীভাবে? তারাতো শ্রমিকদের দ্বারা অর্জিত টাকা বাংলাদেশে রাখেন না। এই টাকা তো আপনারা পাচার করেন সেকেন্ডহোম কানাডায়।

পাচার করেন মালয়েশিয়ায়। কারণ আপনারা মানুষের মর্যাদা বোঝবেন না। আমার আশ্চর্য লাগে! গার্মেন্টস শ্রমিকদের পক্ষে কেউ কথা বলতে যাবে না। কারণ গার্মেন্টস মালিকদের বেশিরভাগই হচ্ছেন মেম্বার অব পার্লামেন্ট। মেম্বার অব পার্লামেন্ট অনেক শক্তিশালী হয়। মেম্বার অব পার্লামেন্টের বিরুদ্ধে কথা বলার ক্ষমতা অনেক সময় সরকারও রাখেন না। এটাই সমস্যা।’

সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা যখন নেতা হন তখন লাভ ছাড়া কিছু দেখতে পান না। এদের কাছে মানবিকতা কাজ করে না। আদৌ বাণিজ্যমন্ত্রী আছেন কি না আমি এখনও টের পাচ্ছি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্যমন্ত্রীকে কিছু একটা কাজ করতে বলেন। আপনাকে যদি সব কাজ করতে হয়, তাহলে এরা আপনাকে ফেল করিয়ে দেবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী উনি যদি এই সময় কো-অর্ডিনেশনটা না করেন। আমি দুঃখ প্রকাশ করতেছি রুবানা হকের জন্য। ওনার প্রতি আমার ব্যাপক সম্মান। কিন্তু উনি সভাপতি থাকা অবস্থায় মালিকরা এ সব কাজ করে, তখন লজ্জায় মুখ ঢেকেও আমি কূল পাই না। উনি হচ্ছেন, মেয়র আনিসুল হকের ওয়াইফ। ওনার ইজ্জত-সম্মানের কথা চিন্তা করেও জরুরি ভিত্তিতে বেতন দিয়ে দেয়া দরকার।’

তিনি বলেন, ‘এখন আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলব, এই অসভ্যদের একটা টাকাও দেয়া দরকার নেই। এরা শুধু অসভ্য না, এরা গার্মেন্টস শ্রমিকদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। গার্মেন্টস মালিকদের কী বলবেন যেখানে নির্বাচন কমিশন জানেন না প্যানডেমিক, লকডাউন অবস্থায় নির্বাচন পরিচালনা করতে হয় না। গার্মেন্টস মালিকদের কিছু অসভ্য আছেন তাদের দোষ দিয়ে কি করবেন?’

সুমন বলেন, ‘এই একটা দেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কারও ওপর ভরসা করার কোনো কিছু পাচ্ছি না। এত কাজ করে যাচ্ছি নিজের উপজেলায়। চাচ্ছি যে, এমন একটা যুদ্ধ মোকাবিলা করব। লাভ কী হইলো আর্মি-পুলিশ দিলেন। সাধারণ মানুষ খেতে পায় না, তাদের বাসার ভেতরে ঢুকিয়ে দিলেন, আর ব্যবসায়ীদের লাভের ব্যবস্থা করে দেবেন। তারাই শ্রমিকদের ঢাকায় নিয়ে আসবেন। আইসা বাংলাদেশের বারোটা বাজাইয়া দেবে। এভাবে চলতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, সময় হয়েছে স্ট্রং (শক্ত) হওয়ার। আমি রিপোর্টে দেখেছিলাম, কিছু কিছু চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল চুরির অভিযোগ আসছে। তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করেন। এদের বাংলাদেশে থাকার অধিকার নেই। এরকম সময় যারা চুরি করে, তাদের আল্লাহর ওয়াস্তে বাংলাদেশের বাইরে পাঠিয়ে দেন।

এমন জায়গায় পাঠান যেখানে আর আসার সুযোগ থাকবে না। তারপরও প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলছি, আপনার যে হ্যান্ডগুলো আছে, তাদের একটু কাজ করতে বলেন। কখন কী সিদ্ধান্ত আসতেছে আমাদের এখন যে শুধু ভাইরাসের সমস্যা তা না, ভাইরাস পরবর্তী অর্থনৈতিক অবস্থা কী হবে। এটাও আমাদের ভাবতে হবে।’

সুমন বলেন, ‘ভাইরাসের পরবর্তী সমস্যা কী কী হবে তা আমরা জানি না। কখন ছুটি দিলে মানুষের ভিড় বাড়বে, কখন বললে মানুষ ভেঙে চলে আসবে ঢাকায় বসে বসে সিদ্ধান্ত নেন। নইলে ব্যবসায়ীরা এমন নেতা হয়েছে, লাভ আর লোভ ছাড়া কিছুই বুঝতে চায় না। তারপরও বলছি এখনও সময় আছে করোনা কিন্তু কাউকে ছাড়বে না। আবারও বলছি, করোনা কাউকে ছাড়বে না। শুধু আমার মতো গরিব লোককে করোনা ধরবে এটা চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। মরবে তো মরবে কিন্তু সবাইকে নিয়ে মরবে। দুনিয়াতে জায়গা হবে না আখেরাতে জায়গা হবে না।’