গাইবান্ধায় জ্বরে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু, দাফনে আসেননি এলাকাবাসী

১:২৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২০ দেশের খবর, রংপুর

ফরহাদ আকন্দ, স্টাফ রিপোর্টার- ঢাকার নারায়ণগঞ্জ থেকে এসে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানীতে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন এমন সন্দেহে লাশ দাফনে আসেননি এলাকাবাসী।

পরে পুলিশের উপস্থিতিতে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। একইসঙ্গে ওই মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) রাত ১২টায় মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ বি এম আবু হানিফ।

মারা যাওয়া ওই ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জ জেলায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন।

কামারজানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জাকির ও এলাকাবাসী জানান, মৃত ব্যক্তি আগে থেকে অ্যাজমা রোগে ভুগছিলেন। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রামের বাড়ি আসেন তিনি। এ সময় তার শরীরে জ্বর ছিল। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল থেকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বিকেলের দিকে মারা যান তিনি।

এলাকাবাসীর ধারণা তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাই ভয়ে এলাকার লোকজন কেউ লাশ দাফন করেননি। বরং বিকেলে মারা যাওয়ার খবরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি পরে সিভিল সার্জনসহ পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ বি এম আবু হানিফ সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, এলাকাবাসীর ধারণা তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সেই ভয়ে কেউ তার লাশ দাফন করেনি। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম মোস্তফা সংগীয় মেডিকেল টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে ওই ব্যক্তির বাড়ির আশপাশে ৩টি পরিবারকে ও তিনি জীবিত থাকাকালীন যে চিকিৎসক তার চিকিৎসা করেছিলেন তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রসুন কুমার চক্রবর্তী সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, রাতেই তার নমুনা সংগ্রহের জন্য একটি মেডিকেল টিম সেখানে পাঠানো হয়। নমুনা পরীক্ষার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

নমুনা সংগ্রহের পরে গাইবান্ধা ইসলামী ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষিত ঈমামদের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির দাফন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন  কামারজানি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম জাকির, মেডিকেল অফিসার ডা. আতিকুর রহমান, ইউপি সচিব সরওয়ার হোসেন, ইউপি সদস্য আবু তালেব আকন্দ, সাংবাদিক সাদ্দাম হোসেন পবন, ইউডিসি উদ্যোক্তা মাহাবুবুর রহমানসহ গ্রাম পুলিশের সদস্যরা।