• আজ ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘আ.লীগের কথার জবাব দিয়ে বিএনপি সময় নষ্ট করতে চায় না’- রিজভী

২:০৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২০ জাতীয়
rez

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরার পরও মন্ত্রীরা কারণে-অকারণে বিএনপির বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক কথা বলা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন। এ কারণে আওয়ামী লীগের কথার জবাব দিয়ে বিএনপি সময় নষ্ট করতে চায় না।

সোমবার সকালে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয় থেকে অনলাইন ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জনগণের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে রিজভী বলেন, সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, যেহেতু রাষ্ট্রীয় অর্থ, রাষ্ট্রীয় যন্ত্র আপনাদের হাতে সেহেতু এই মুহূর্তে দেশের জনগণের পাশে দাঁড়ানো আপনাদের দায়িত্ব।

রিজভী বলেন, এতদিন মন্ত্রীদের ভাষায়-আমাদের দেশ তো সিঙ্গাপুর- ব্যাংকক ছিল! বিশ্বের রোল মডেল ছিল। রাস্তায় বেরোলে মন্ত্রীরা ভিক্ষুক খুঁজে পেতেন না। মন্ত্রীরা বলতেন, এই তো আর কিছুদিন পর আমরা কানাডায় রূপান্তরির হবো। কিন্তু এখন শুনি ডাক্তারের পিপিই নেই। ভেন্টিলেটর সোনার হরিণ। রোববার (৫ এপ্রিল) আইইডিসিআরের ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যের ডিজি সামর্থ্যবানদের সহায়তা চেয়েছেন। ঢাকার বাইরে করোনা পরীক্ষার কীট নাই। মধ্যবিত্তের পকেটে টাকা নাই। গরিবের পেটে ভাত নাই। চারদিকে কেবল নাই, নাই, নাই!

তিনি বলেন, ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করতে সরকার সারাদেশে যেসব চাল বরাদ্দ করেছে ইতোমধ্যেই সেই চাল বিতরণের জন্য তৈরি করা তালিকা নিয়ে দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকাসহ সারাদেশে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা বেছে বেছে নিজস্ব লোকজনের মধ্যে চাল বিতরণ করছেন বলে গণমাধ্যমেও খবর বেরিয়েছে। অন্যদিকে গরিব মানুষের মধ্যে ত্রাণের জন্য হাহাকার চলছে। ত্রাণের চাল চুরি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সতর্কবার্তা থাকলেও থেমে নেই অপকর্ম।

রিজভী বলেন, দেশের হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিকদের সঙ্গে সরকার যে আচরণটি করেছে, এটি কোনো সভ্য রাষ্ট্র কিংবা সভ্য সরকারের আচরণ হতে পারে না। শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অবস্থানগত পার্থক্য সর্বোপরি সমন্বয়হীনতা সংশ্লিষ্ট সবাইকে মর্মাহত করেছে। সরকারের পাশাপাশি এই খাতের উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বও চরম দুর্বলতার পরিচয় দিয়েছে। কারখানা খোলা ও বন্ধ রাখা নিয়ে লুকোচুরি খেলা খুবই ন্যক্কারজনক।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার পাঁচটি প্যাকেজে আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমাদের মনে হয়েছে তার এই প্যাকেজগুলো মূলত সরকার সমর্থক শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের কম সুদে ব্যাংক থেকে ঋণের সুবিধা দেওয়া। তবে ঋণ দেওয়া তো ব্যাংকের স্বাভাবিক ব্যবসা। এটা তো প্রণোদনা নয়। সুদের হারের কমানো যে অংশটুকু সরকার ভর্তুকি দেবে, প্রণোদনা শুধু সে অংশটুকুই। কাজেই মোট ঋণের সাড়ে ৭২ হাজার কোটি টাকাকেই প্রণোদনা প্যাকেজ হিসেবে দেখানো আসলে মস্ত একটা ভয়ঙ্করের ফাঁকি।

বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, এ মহাদুর্যোগে আওয়ামী মন্ত্রী ও নেতারা মিথ্যা কথা বলা থেকে সরে আসতে পারেনি।