• আজ ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পাবনার সড়কে চলছে নসিমন-করিমন, করোনা ঝুঁকি বাড়ছে গ্রামাঞ্চলেও!

৬:০৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, এপ্রিল ৭, ২০২০ দেশের খবর, রাজশাহী

আব্দুল লতিফ রঞ্জু, পাবনা প্রতিনিধি- করোনাভাইরাস জনিত সতর্কতা অবলম্বনের জন্য সকল প্রকার গণপরিবহন বন্ধ করা হলেও গ্রামাঞ্চলে চলছে দেশীয় যানবাহন নসিমন, করিমন, ভটভটি ও ভ্যান।

হাট-বাজারে গাদাগাদি হয়ে চলাচল করছে জনগণ। ফলে গ্রামাঞ্চলে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পরতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। অভিযোগ রয়েছে, হাইওয়ে পুলিশের কতিপয় অসাধূ সদস্যরাই বিশেষ সুবিধা নিয়ে ওইসব যানবাহন চলতে দিচ্ছেন।

জানা যায়, গণপরিবহন ট্রেন, বাস, লঞ্চ, স্টিমার চলাচল বন্ধ আছে। কিন্তু পাবনায় দেশীয় যানবাহন চলছে সড়ক মহাসড়কে। পুলিশসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চেষ্টা করেও বন্ধ করতে পারছে না এসব যানবাহন। হাটে কৃষিপণ্য বোঝাই করে তাতে চেপে বসে চলাচল করছে মানুষজন। প্রায় প্রতিদিনই হাট বসছে জেলার কোথাও না কোথাও।

আজ মঙ্গলবার ছিল পাবনার বেড়া সিএ-বি হাট, দুলাই হাট এবং সুজানগর হাট। চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, আটঘোড়িয়া, সাঁথিযা, পাবনা সদর উপজেলা এবং ঈম্বরদী উপজেলার নির্দিষ্ট হাটগুলো বসছে। হাটে প্রচুর লোক সমাগম হচ্ছে। কোন প্রকার সামাজিক দুরত্ব না মেনে চলছে এসব হাট বাজার। ফলে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পরছে বলে ধারণা স্থানীয়দের। জনসচেতনতামূলক প্রচারণা করেও কোন কাজে আসছে না বলে দাবি তাদের।

বিশিষ্ট চিকিৎসক স্বাস্থ্য বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সহকারি পরিচালক ডাক্তার এম মনসুরুল ইসলাম বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক বলে মনে করেন। তিনি বলেন, এই দূর্যোগকালীন সময়ে যদি সামাজিক দুরত্ব না মানা হয়, তাহলে বাংলাদেশে ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুকিতে পরবে দেশ।

মাসুমদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরোজ হোসেন বলেন, স্থানীয়ভাবে তৈরী নসিমন করিমন ও ভটভটিতে করে গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারে যাতায়াত করছেন লোকজন। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুকি রয়েছে বলেও দাবি তার।

এদিকে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে এ সকল যানবাহন চলাচলের সুযোগ করে দিচ্ছেন হাইওয়েপুলিশের অসাধু কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে দুলাই এলাকার শিক্ষক উজ্জল হোসেন জানান, সম্প্রতি আমার ভাগিনার এই ধরনের একটি গাড়ি আটক করে মাধপুর হাইওয়ে পুলিশ। আমাকে নিয়ে গাড়িটি ছাড়ানোর জন্যে গেলে তারা আমাকে হাইকোর্ট দেখিয়ে বিদায় দেন। পরে আমার ভাগিনা এক দালালের মাধ্যমে তিন হাজার টাকা উৎকোচ দিয়ে গাড়িটি ছাড়িয়ে নেন।

আতাইকুলা এলাকার গাড়ি চালক নজরুল ও সাইফুল জানান, ওই ফাঁড়ির এক স্যার আছে গাড়ি ধরলে, গাড়ি প্রতি ৫ থেকে ৮ হাজার করে টাকা তাকে দিলেই সব সমাধান হয়ে যায়।

এ বিষয়ে পাবনার মাধপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা বলেন, আমি এই কর্মস্থলে নতুন। বিষয়টি আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখবো বলেও জানান তিনি।