বিদেশে বসে আজহারীর স্বদেশ ভাবনা

১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, এপ্রিল ৮, ২০২০ ইসলাম

ইসলাম ডেস্ক-মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামাজ পড়ার বিষয়ে ধর্মমন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে; সেটাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জনপ্রিয় বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে এক পোস্টে একথা জানান তিনি।

তার সেই পোস্টটি ’সময়ের কন্ঠস্বরের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

বিদেশে বসে স্বদেশ ভাবনা॥

দেরি করে হলেও, একাধিক বৈঠক শেষে, সাধারণ মুসল্লিদের মসজিদে না যাওয়ার ব্যাপারে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের শক্ত সিদ্ধান্ত এসেছে। প্লিজ, এবার অন্তত সবাই ঘরে সালাত আদায় করুন। আসলে, ফতোয়া বা নির্দেশনা বেশী ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে না বলে, যতটা সহজ ভাবে উপস্থাপন করা যায় ততোই ভালো। আরো আগে থেকেই যদি এই সিদ্ধান্তে আমরা উপনীত হতে পারতাম, তাহলে হয়তো করোনা সংক্রামণ আরো কমানো যেত। তারপরও ধন্যবাদ জানাতে চাই এই টাইমলি ডিসিশনের জন্য।
.
আল্লাহ তায়ালা তাঁর দ্বীনে কোন কাঠিন্যতা রাখেননি। এটি একটি সহজ, সাবলীল ও পরিবেশ বান্ধব ধর্ম। এজন্যই ইসলাম কালজয়ী। যুগ, সময় এবং কাল ছাপিয়ে এতোটা অনন্য উচ্চতায় এজন্যই ইসলামের অবস্থান যে, এটি যে কোন যুগ বা সময়ের সাথে সহজেই খাপ খেতে পারে। ইসলাম ধর্মের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল যে, এর বিধান পালন করা সহজ এবং সুবিধাজনক।

এধর্মের কোন বিধান কখনো সমস্যা তৈরি করে না বরং সমস্যার যুগোপযোগী সমাধান করে। আর এ সমাধান উপস্থাপন করার দায়িত্ব সম্মানিত আলেম ওলামাগণের। কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত সমাধান সময় মত উপস্থাপন করতে যদি আলেম ওলামাগণ ব্যর্থ হন, তাহলে আলেম ওলামাগণ ধীরে ধীরে সমাজের জন্য অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বেন এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ লোকজনও আলেম ওলামাদের থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলবে। সে ক্ষেত্রে ইসলামের কোন দায়ভার নেই দায়ভার আমাদের। কুরআন বলছে:

“আর তিনি ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন সংকীর্ণতা রাখেননি”।
[সূরা হজ্জ, আয়াত:৭৮]
“তিনি তোমাদের জন্য সহজ করতে চান জটিল করতে চান না”।
[সূরা বাকারাহ, আয়াত:১৮৫]

তাই, আসুন সহজভাবে ইসলামকে উপস্থাপন করি। সুদূরপ্রসারী চিন্তায় ও দূরদৃষ্টি ভাবনায় কুরআন ও সুন্নাহ থেকে রহমের বানী তালাশ করি।

মসজিদে জামায়াত আপাতত বন্ধ হলেও, আল্লাহ তায়ালা প্রতিটি ঘরকেই এখন মসজিদ বানিয়ে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!! তাই, এখনি সময় আত্নোপলব্ধির, রবের দিকে ফিরে আসার এবং প্রভুর দুয়ারে হাজিরা দেবার। পরিবারের সকলকে নিয়ে বাসায় জামায়াতে সালাত আদায় করুন। সমাজ বদলে যাবে ইনশাআল্লাহ।
.
গণ পরিবহন বন্ধকরে পায়ে হাঁটিয়ে শ্রমিকদের ঢাকায় এনে আবার ছুটির ঘোষণায় রীতিমত স্তব্ধ হয়েছি। স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ভাষ্যমতে তিনি অনেক কিছুই জানেন না এবং অনেক বিষয়ে ওনার পরামর্শ নেয়া হচ্ছে না। এই যে সংকট উত্তরণে সরকারি কাজে সমন্বয়হীনতার এর সমাধান কোথায়? এভাবে আর কত?

এই কঠিন দুর্যোগে চাল চুরি এবং ত্রাণ চুরিই প্রমাণ করে যে, এদেশের শিক্ষা ব্যাবস্থায় নৈতিক শিক্ষার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এতটুকু মূল্যবোধের জন্য মহা জ্ঞানী হতে হয় না। শুধু মানুষ হতে হয়।

মানুষের মত মানুষ। একটা কথা আমি প্রায়শই বলে থাকি যে, গরুর পেট থেকে বের হলেই সেটা গরু হয়। ছাগলের পেট থেকে বের হলেই সেটা ছাগল হয়। বিড়ালের পেট থেকে বের হলেই সেটা বিড়াল হয় কিন্তু মানুষের পেট থেকে বের হলেই সেটা মানুষ হয় না। বরং সেটাকে মানুষ বানাতে হয়।

তাই, মানুষের মত মানুষ হতে হলে নৈতিক শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। এ সমাজে মিথ্যা, অন্যায়, অবিচারের বিপরীতে সত্য, ন্যায়নিষ্ঠা, সুবিচার ও মানবিকতার চিহ্ন যতটুকু অবশিষ্ট আছে, তা নৈতিক তথা ধর্মীয় শিক্ষার কারণেই অবশিষ্ট আছে। তাই, পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে আপনার সন্তানদেরকে গড়ে তুলুন। দেখবেন তখন ওরা দেশের ও জনগণের সম্পদের এক অতন্দ্র প্রহরী হয়ে কাজ করবে।

এই মহা দুর্যোগকালে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, নার্স, মিডিয়াকর্মী, এবং খাদ্য বা ত্রাণ বিতরণকারী ভলান্টিয়ারস্ ভাইবোনেরা যারাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানবতার কল্যাণে আউটডোর এক্টিভিটিতে ব্যস্ত, আপনাদের সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন। আপনারাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। কোটি মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা আছে আপনাদের সাথে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে করোনার বিস্তৃতি হচ্ছে এবং রাস্তাঘাটে যেভাবে অজ্ঞাত লাশ পাওয়া যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে যে, ইতোমধ্যে এটা ব্যাপক কমিউনিটি স্প্রেড হয়ে গিয়েছে। আর আমাদের নীতিনির্ধারনী মহলের সমন্বয়হীনতা এভাবে চলতে থাকলে কিছু বুঝে উঠার আগেই সব শেষ হয়ে যাবে। তাই, চলতি পুরো মাসটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন নিজ নিজ দায়িত্বে সাবধান থাকতে হবে সবাইকে। ঘরের বাইরে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া অবশ্যই না।

বিশেষ করে, আমার প্রিয় যুবক ভাইয়েরা, এখন ক্রিকেট খেলা, ফুটবল খেলা এবং বিকেল বেলা বাইরে ঘুরাঘুরির সময় না। সকল আবেগ, অবহেলা এবং খামখেয়ালিপনা উপেক্ষা করে নিজেকে বাসায় বন্দীরাখার সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকুন তোমদেরকে করতে হবে। তোমরা পারবে। আর পারতে তোমাদেরকে হবেই।

বাঁচলে যত রঙিন স্বপ্ন
সবই যাবে বোনা,
এখন একটু কষ্ট হলেও
ঘরে থাকিস সোনা।

Stay Home, Stay Safe
May Allah protect us all from this Outbreak.