এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করতে চায় এক মাসে, এসএসসির ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা

৮:২২ অপরাহ্ণ | বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২০ স্পট লাইট

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক:করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু করা যায়নি। তেমনি এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশও নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব মো. মাহবুব হোসেন দেশের সব শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে সভা করেছেন। সেখানে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে আলোচনা হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলেও জানা গেছে।

গত (১ এপ্রিল) এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল। এখন এ পরীক্ষা কবে শুরু হবে তা সুনির্দিষ্ট হয়নি। আগামী মাসের শুরুতে এসএসসির ফল প্রকাশ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেনের সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ দুই পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ওই আলোচনায় বলা হয়, সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল শুরু হলে তার ১৫ দিন পর এসএসসির ফল প্রকাশ করা হবে। সেটি মে মাসে যদি সম্ভব হয় তা করা হবে। তবে সীমিত আকারে যান চলাচলের বিষয়ে সরকার কবে সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। আর এইচএসসি পরীক্ষা আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে শুরু হচ্ছে না।

এবারের এইচএসসিতে মোট পরীক্ষার্থী ১৩ লাখের বেশি। শুরুর আগ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা। আর গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল প্রায় সাড়ে ২০ লাখ।

গতকাল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, এসএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ নম্বরপত্র শিক্ষা বোর্ডে এসে পৌঁছায়নি। আলোচনা হয়েছে সীমিত আকারে যান চলাচল শুরু হলে তার ১৫ দিন পর এই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। আর ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেখে ঈদের পর এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর জন্য নতুন সম্ভাব্য রুটিন দেয়া হবে।

গত ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু করতে রুটিন প্রকাশ করে দেশের সকল শিক্ষাবোর্ডগুলো। ১ এপ্রিল থেকে তত্ত্বীয় পরীক্ষা শুরু হয়ে ৪ মে পর্যন্ত চলার কথা ছিল। পরদিন ৫ মে থেকে ১৩ মে পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষে ১৮ মের মধ্যে সেসব উত্তরপত্র, স্বাক্ষরলিপি ও অন্যান্য কাগজপত্র রোল নম্বরের ক্রমানুসারে সাজিয়ে স্ব স্ব শিক্ষাবোর্ডে পাঠানোর নির্দেশনা দেয়া হয়। পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী ১ মাস ১৮ দিনে এ পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দেশে করোনা পরিস্থিতির কারণে সকল প্রস্তুতি পিছিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজনের সময়সীমা কমিয়ে আনা হবে। দেড় মাসের বদলে এটি এক মাসের মধ্যে শেষ করা হতে পারে। এ বিষয়ে সচিব স্যারকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তিনি এ প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন।

চেয়ারম্যান বলেন, আগে যে পরীক্ষাগুলোর মাঝে দুই থেকে তিনদিন বিরতি ছিল, তা কমিয়ে একদিন করে বিরতি দেয়া হতে পারে। যেহেতু পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত সময় পেয়েছে, তাই একদিন করে বিরতি দিয়ে পরীক্ষা নেয়া হলে পরীক্ষার্থীদের ওপর চাপ পড়বে না। ঈদের ছুটি শেষ হলে এ পরীক্ষা শুরু করা হতে পারে। দেশের পরিস্থিতি বুঝে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ ও সম্ভাব্য সময় উল্লেখ করে আমরা দ্রুত পরীক্ষার নতুন রুটিন প্রস্তুতের কাজ শুরু করব। কাজ শেষ করার পর তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদন দেয়া হলে তা চূড়ান্ত করে সকল শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।

শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, এই দুই পরীক্ষার কারণে পুরো শিক্ষাপঞ্জিতেই প্রভাব পড়বে। কারণ, এসএসসির পরপর কলেজে ভর্তি পরীক্ষা থাকে। আবার এইচএসসির ফল প্রকাশের পর উচ্চশিক্ষায় ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়। এখন সবই পিছিয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও বন্ধ। সব মিলিয়ে পুরো শিক্ষাব্যবস্থায় সেশনজট দেখা দেবে।

শুধু এই দুই পাবলিক পরীক্ষাই নয়, দেশের পুরো শিক্ষা কার্যক্রমই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হওয়ায় শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী কোনো কার্যক্রমই করা যাচ্ছে না। এর ফলে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শিক্ষায় এ বছরের কিছু ছুটি (যেমন ঈদুল আজহা ও দুর্গাপূজা ইত্যাদি) কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এদিকে এ রকম পরিস্থিতির মধ্যেও কোনো কোনো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টিউশন ফি দেয়ার জন্য অভিভাবকদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েছে। আরও একাধিক প্রতিষ্ঠান টিউশন ফি চেয়ে খুদে বার্তা দিয়েছে।

করোনাভাইরাসের কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে গত ১৮ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হলেও কার্যত মার্চের শুরু থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে যায়। এরপর ২৬ মার্চে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকে স্বাভাবিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ছুটি হয়ে যায়। সরকারি ছুটির মেয়াদ এখন পর্যন্ত ২৫ এপ্রিল থাকলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ঈদের ছুটি পর্যন্ত হচ্ছে।

এ ছাড়া সরকারি ছুটিও আরও কয়েক দিন বাড়তে পারে। তবে পূর্বঘোষিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, রমজান, ঈদুল ফিতরসহ আরও কয়েকটি ছুটি মিলিয়ে ২৫ এপ্রিল থেকে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত স্কুল-কলেজ ছুটি থাকবে। ফলে দীর্ঘদিন ঘরবন্দী জীবন কাটাতে হবে শিক্ষার্থীদের।

বন্ধের মধ্যে সংসদ টিভির মাধ্যমে রেকর্ডিং করা ক্লাস প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু এটি পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেছেন, যেসব সমস্যা ছিল, সেগুলো সমাধান করে ক্লাসের সংখ্যা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া কলেজগুলোকে অনলাইনে ক্লাস শুরুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যে ঢাকা কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ অনেক কলেজ অনলাইনে ক্লাস নেয়া শুরু করেছে।