‘পাইকাররা যে দামে ধান নিচ্ছেন তাতে উৎপাদন খরচও উঠে না’

৭:৩৩ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, মে ১, ২০২০ সিলেট
paikaer

মঈনুল হাসান রতন, হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গত ২৭ এপ্রিল থেকে হাওর অঞ্চলে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ করার কথা ছিল। সেই সিদ্ধান্তের দু’দিন আগপর হলেও সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণাসহ বিভিন্ন এলাকায় ধান কেনা শুরু হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত হবিগঞ্জে সরকারিভাবে ধান কেনা নিয়ে কোন সিদ্ধান্তই নিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

ধান বিক্রি করতে না পেরে হতাশায় রয়েছেন কৃষকরা। বাধ্য হয়ে উৎপাদন মূল্যের চেয়েও কম দামে আরদে ধান বিক্রি করছেন অনেক কৃষক। যদিও কিছুদিনের মধ্যেই সরকারীভাবে ধান সংগ্রহ শুরু করার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

জানা যায়, এ বছর হবিগঞ্জ জেলায় ৪ লাখ ৭০ হাজার টন বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় লক্ষমাত্র অতিক্রম করার আশা করছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ইতোমধ্যে জেলায় ৮০ শতাংশ ধান টাকা শেষ হয়ে গেছে। কৃষক এখন ধান বিক্রি শুরু করে দিয়েছেন। সরকারিভাবে ধান কেনা শুরু না হওয়ার কারণে ব্যবসায়িদের কাছে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। ফলে চিকন ধান ৭০০ টাকা মণ এবং মোটা ধান ৫০০ টাকা মণে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।

কৃষকদের দাবি- পাইকারদের কাছে ধান বিক্রি করে উৎপাদন মুল্যও পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও শ্রমিকদের মজুরিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে কম দামেই ধান বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।

সূত্রে জানা যায়- গত ২৭ এপ্রিল থেকে হাওর অঞ্চলে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ করার সময় নির্ধারণ করে দেয় মন্ত্রণালয়। সময় অনুযায়ি নেত্রকোণা ও ২৯ এপ্রিল সুনামগঞ্জ অঞ্চলে ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে। কিন্তু হবিগঞ্জে ধান কাটা শেষের পথে থাকলেও সরকারীভাবে কেনার দিন তারিখই নির্ধারণ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় কৃষকদের কাছ থেকে আবেদন সংগ্রহ এবং অন্যান্য উপজেলায় এখনও শুধুমাত্র তালিকা তৈরীর কাজ চলছে।

অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক, কৃষি অফিসার ও নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্যে ধান কেনা নিয়ে সমন্যয়হীনতার আভাস পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসক বলছেন- তালিকা তৈরীর কাজ চলছে, কিছু দিনের মধ্যেই ধান সংগ্রহণ শুরু হবে। আর কৃষি কর্মকর্তা ৮০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হওয়ার কথা জানালেও ভিন্ন কথা বলছেন বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি বলেন- এখনও যথেষ্ট পরিমাণে ধান কাটা হয়নি। তাই আগামী ২মে’র পর থেকে সরকারীভাবে ধান সংগ্রহণ শুরু তরা হবে।

এ ব্যাপারে বানিয়াচং উপজেলার কৃষক সঈদ হোসেন বলেন- ‘এলাকায় শ্রমিক না থাকার কারণে বাহিরের শ্রমিক এনে ধান কাটিয়েছি। এখন শ্রমিকের মজুরী পরিশোধ করার জন্য ধান বিক্রি করতে হবে। কিন্তু সরকারও ধান নিচ্ছে না, আর পাইকাররা যে দামে ধান নিচ্ছেন তাতে উৎপাদন খরচও উঠে না।’

একই কথা জানালেন আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কৃষক মোতালিব মিয়া। তিনি বলেন- ‘প্রতি বছরই শুনি সরকার এক হাজার টাকা মন দামে ধান কিনবে। মেম্বার (ইউপি সদস্য) আমাদের কৃষি কার্ডও নেয়। কিন্তু ধান আর সরকার কিনে না। ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা মনে আড়দে ধান বিক্রি করতে হয়। এতে ধানের উৎপাদন মূল্য পাওয়া যায় না।’

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো. তমিজ উদ্দিন খান জানান- ‘ইতোমধ্যে জেলায় ৮০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া আবহাওয়ার পূর্বাবাসে খারাপ কোন সংবাদ না থাকায় এবার কৃষকরা ভালোভাবেই ধান তুলতে পারবেন বলে আমরা আশা করছি।’

তিনি বলেন- ‘সরকারিভাবে ধান কেনার বিষয়ে আলাদা কমিটি রয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাই ভালো বলতে পারবেন।’

জানতে চাইলে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুন খন্দকার বলেন- ‘ ধান কাটা শেষ হয়নি। যারা ২৮ জাতের ধান চাষ করেছেন তারাই ধান কাটা শেষ করেছেন। কিন্তু আমাদের এলাকায় ২৯ জাতরে ধান এখনও মাঠে রয়েছে। তাই এখনও সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ শুরু হয়নি।’

তিনি বলেন- আগামী ২মে পর্যন্ত তালিকা তৈরী হবে। এরপর আমরা ধান কেনা শুরু করব।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান ‘এখনও তালিকা তৈরীর কাজ চলছে। কিছু দিনের মধ্যেই ধান কেনা শুরু হবে।’

তবে জেলা থেকে এবং একজন কৃষকের কাছ থেকে কি পরিমাণ ধান কেনা হবে তার সঠিক উত্তর দিতে পারেননি তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন- ‘এটি এখনও নির্ধারণ হয়নি। তালিকা তৈরীর পর এ বিষয়ে লোকালিভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’