সংবাদ শিরোনাম
বিআইটিআইডির ল্যাব প্রধান ডা. শাকিল করোনায় আক্রান্ত | দিনাজপুরে নতুন করে ১৬ জন করোনায় আক্রান্ত, মোট ১৪৮ | চীনের সঙ্গে ইসরাইলের বিকাশমান সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের | আগামী পাঁচদিন সারাদেশে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা | চট্টগ্রামে নতুন শনাক্ত আরও ৯৮, মোট ১৯৮৫ | চট্টগ্রামে ইম্পেরিয়াল ও বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে হবে করোনা চিকিৎসা | সীমান্তে চরম উত্তেজনা, তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে বৈঠক মোদির | করোনার টিকা না আসা পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে: ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট | আবারো মুখোমুখি চীন ও ভারতের সৈন্যরা, যুদ্ধের আশঙ্কা | ডা. জাফরুল্লাহর জন্য ফুল-ফল পাঠালেন খালেদা জিয়া |
  • আজ ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের তৈরি সফটওয়্যার দ্বারা ত্রাণ চুরি রোধ সম্ভব

১১:১৯ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, মে ৮, ২০২০ শিক্ষাঙ্গন
taran

এস আহমেদ ফাহিম,নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: বর্তমান করোনা মহামারীর পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় নানামুখী সমস্যা (ত্রাণ আত্মসাৎ, ত্রাণ বিতরণের তথ্যের অভাব, ত্রাণ বিতরণে সমন্বয়হীনতা) সমাধান ও ত্রাণ চুরি রোধে প্রযুক্তিবিদ্যাকে কাজে লাগিয়ে ওয়েবসাইট ভিত্তিক সফটওয়্যার তৈরি করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) এর শিক্ষার্থীরা। এদের মধ্যে রয়েছেন, ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী তাহমিদুর রহমান ও সায়েম উল আলম,সিএসটিই বিভাগের শিক্ষার্থী আকিফ জামান, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান বিল্লাহ।

এ বিষয়ে উদ্ভাবনী দলের তাহমিদুর রহমান বলেন, বর্তমান করোনা মহামারীতে সুষ্ঠু ত্রাণ বিতরণ নিশ্চিততকরণ ও ত্রাণ চুরি রোধে আমরা ওয়েবসাইট ভিত্তিক এমন একটা সফটওয়্যার তৈরি করছি যার মাধ্যমে ত্রাণপ্রত্যাশী ব্যক্তি নিজে আবেদন করাতে পারবেন অথবা জাতীয় পরিচয় পত্রের মাধ্যমে তথ্য দিয়ে অন্য কারো মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। আমাদের সেন্ট্রাল ডাটাবেজে তথ্যগুলো জমা হতে থাকবে।পরবর্তীতে এই আবেদনের তথ্যগুলো জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে ভেরিফিকেশন করে লিস্ট করা হবে যা ওয়েবসাইটটির এডমিন দেখতে পারবেন এবং ওই লিস্ট থেকে ত্রানের সরবরাহের উপর ভিত্তি করে এডমিন কর্তৃক কিছু সিলেক্টেড ব্যক্তিদের কাছে সয়ংক্রিয়ভাবে ফোনে একটি ইউনিক কোড এবং ত্রাণ সংগ্রহ করার স্থান সম্বলিত একটি এসএমএস চলে যাবে। ত্রাণ বিতরণ করা হবে এটিএম মেশিনের মাধ্যমে।”

এটিএম মেশিনে ত্রাণ বিতরণের বিষয়ে তাহমিদুর রহমান বলেন,এটিএম মেশিনে প্রথমে জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার ও মোবাইলে এসএমএসে মাধ্যমে পাওয়া ইউনিক কোডটি দিতে হবে। পরবর্তীতে এটিএম মেশিন ডাটাবেজের তথ্যের সাহায্যে তথ্য ভেরিফিকেশন করবে এবং তথ্য সত্য হলে মেশিনের সাহায্যে অটোমেটিক ত্রাণ বিতরণ শুরু হবে। মেশিনের সাথে একটি ওয়েট সেন্সর লাগানো থাকবে যার সাহায্যে ত্রাণের পরিমাপ করা যাবে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ ত্রাণ বিতরনের পর মেশিনটি অটোমেটিক ত্রান বিতরণ বন্ধ করে দিবে। এর ফলে নির্দিষ্ট পরিমান ত্রাণ বিতরণ করা সম্ভব এবং এটিএম মেশিনের মাধ্যমে বিতরণকৃত ত্রাণের পরিমাপ করার পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণের তথ্য সেন্ট্রাল ডাটাবেজের সার্ভারে পাঠানো সম্ভব।যার ফলে মানুষ দেখতে পারবে সরকার থেকে কি পরিমাণ ত্রাণ সরবরাহ করা হয়েছে এবং জনগনের কাছে কি পরিমাণ ত্রাণ পোছাছে।

তাহমিদুর রহমান আরো বলেন,আমাদের এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় নানামুখী সমস্যা (ত্রাণ আত্মসাৎ, ত্রাণ বিতরণের তথ্যের অভাব,ত্রাণ বিতরণে সমন্বয়হীনতা) সমাধানের জন্য আমরা এমন একটি সিস্টেম তৈরির পরিকল্পনা করি যার আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জেলাভিত্তিক ত্রাণ সরবরাহের আপডেট জানা যাবে।এছাড়াও ত্রাণ বিতরনের তথ্য আমাদের ডাটাবেজে জমা থাকবে ফলে সকলেই পর্যায় ক্রমে ত্রান পাবে।পাশাপাশি সরকারি ভাবে বিতরণ করা ত্রাণ জনগনের কাছে পৌছালো কিনা সে বিষয় নিশ্চিত হবে এবং সরকারি ভাবে ত্রাণ বিতরণ করার পরও ত্রাণের যদি কোন ঘাটতি থাকে তাহলে সেই ঘাটতি পূরণের জন্য প্রতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে যারা ত্রাণ বিতরণ করেন তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে ইপারবে।

তাহমিদুর রহমান আরো জানান,আমাদের ওয়েবসাইটটি তৈরির কাজ সম্পন্ন যার লিংক (http://tranbitoron.eeenstu.ac.bd./) এছাড়াও যে ডিভাইসটি কোন ব্যক্তি থেকে জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার এবং ইউনিক কোড ইনপুট দিয়ে ডাটাবেজের তথ্যের সাথে যাচাই করতে পারবে সেই ডিভাইসটি তৈরির কাজ শেষ।কিন্তু ফুল এটিএম মেশিন তৈরি করার জন্য ফান্ডিং প্রয়োজন। ফান্ডিং পেলে আমাদের এই সিস্টেমটি বৃহত্তর পরিসরে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ত্রাণের সুষম বণ্টন নিশ্চিতকরণ এবং ত্রাণের চুরি রোধে কাজ করবে।”