ঈদের আগে খুলছে না ঢাকার বেশিরভাগ মার্কেট

১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, মে ৯, ২০২০ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা প্রতিদিনই উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এরই মধ্যে আগামী ১০ মে থেকে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও শপিংমল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে চলমান এ পরিস্থিতিতে ঈদের আগ পর্যন্ত রাজধানীর বেশির ভাগ মার্কেট ও বিপণিবিতানই বন্ধ থাকবে।

এখনো দোটানায় রয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি মার্কেট কর্তৃপক্ষ গতকাল শুক্রবার রাতে বৈঠকও করেছে। আজকের মধ্যে জানানো হবে তাদের সিদ্ধান্ত। এবারের ঈদে সবার আগে শপিংমল না খোলার ঘোষণা দেয় বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স ও যমুনা ফিউচার পার্ক।

রাজধানীর জায়ান্ট শপিংমল দুটির এমন সিদ্ধান্তে দোটানায় পড়েছেন অন্যান্য মার্কেটের কর্তৃপক্ষ। অনেকে আবার মার্কেট না খোলার ঘোষণা দিয়েছেন। কেউ কেউ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা আজকালের মধ্যেই তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন।

এদিকে ঈদের আগ পর্যন্ত রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কেট ব্যবসায়ী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ডা. দিলীপ রায়। তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের মধ্যে বায়তুল মোকাররম মার্কেট বন্ধ থাকবে। ভাইরাস সংক্রমণ থেকে আমাদের ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও ক্রেতাদের নিরাপদ রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

মার্কেট না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা নিউমার্কেটও। ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলা সম্ভব হবে না। তাই শুক্রবার রাতে মার্কেট কমিটি আলোচনাসাপেক্ষে ঈদের আগে মার্কেট না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

রাজধানীর মৌচাক, আনারকলি মার্কেটও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কেট কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়ার সব পাইকারি মার্কেট বন্ধ থাকবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাইকারি মার্কেটগুলো হলো- বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স, এনেক্সকো টাওয়ার, মহানগর কমপ্লেক্স, ঢাকা ট্রেড সেন্টার, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট, সুন্দরবন সুপার মার্কেট, জাকির প্লাজা, নগর প্লাজা, সিটি প্লাজা, গুলিস্তান পুরান বাজার ও বঙ্গ ইসলামীয়া সুপার মার্কেট।

এদিকে মিরপুর ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরামের সদস্যসচিব আতিকুর রহমান জানান, ঈদের আগে মিরপুর এলাকার শপিংমল, মার্কেট খোলা হবে না। এছাড়া ঢাকার হাতিরপুল এলাকার মোতালিব প্লাজার দোকান মালিক সমিতি বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে দোকান বন্ধ রাখার খবর জানিয়েছে।

তবে মার্কেট খোলা নিয়ে দোটানায় রয়েছে চন্দ্রিমা মার্কেট কর্তৃপক্ষ। মার্কেট কমিটির সভাপতি মঞ্জুর আহম্মেদ মঞ্জু বলেন, ‘এখনো ব্যবসায়ীদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। আশা করি শনিবারের (আজ) মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। বেশির ভাগ ব্যবসায়ীদের মত পেলে মার্কেট খোলা হবে। কেননা মার্কেটের নিরাপত্তার বিষয় রয়েছে। সে বিষয় মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এদিকে আংশিকভাবে খুলছে এলিফ্যান্ট রোডের মার্কেটগুলো। এই এলাকার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি তৌফিক এহসান বলেন, ‘ইতোমধ্যে এ বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলা রাখা যায়। তবে আমাদের মার্কেটে কেউ চাইলে খোলা রাখতে পারেন। আবার নিরাপত্তাজনিত কারণে কেউ বন্ধও রাখতে পারেন।’

জানতে চাইলে নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দেওয়ান আমিনুল ইসলাম বলেন, যে ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে তা মেনে দোকান খোলা কঠিন। এর ওপর মার্কেটের দুই কিলোমিটারের বাইরের ক্রেতারা আসতে পারবে না। ফলে ক্রেতা তেমন একটা পাওয়া যাবে না। তাই ব্যবসায়ীরা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে দোকান–পাট বন্ধ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সোমবার ঈদের কেনাকাটার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিতভাবে দোকান–পাট খোলার সুযোগ দেওয়া হবে জানান। এরপর ১০ মে থেকে বিপণিবিতান খুলে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার বলা হয়, ক্রেতারা নিজ নিজ এলাকার দুই কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত শপিংমলে ঘোষিত সময়ের মধ্যে কেনা-কাটা করতে পারবেন।