• আজ ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

লকডাউনে মুগডাল নিয়ে বিপাকে পটুয়াখালীর কৃষকরা

১২:১৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, মে ৯, ২০২০ দেশের খবর, বরিশাল

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি- পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এ বছর মুগডালের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে নাই হাসি। কিভাবে বিক্রি করবে তাদের উৎপাদিত ফসল।

এক দিকে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে জেলা জুরে চলছে লকডাউন, অপর দিকে প্রতি বছর জাপানের যে সংস্থা কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ডাল নিয়েছিল তারাও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এ নিয়ে বিপাকে আছে উপজেলার প্রান্তিক মুগডাল চাষিরা।

বাউফল উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছর মুগডাল চাষের লক্ষ্য মাত্রা রয়েছে ১৮৫০০ হেক্টর। কিন্তু বাস্তবে এর লক্ষা মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে অনেক। দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকেরা বিগত বছরের তুলনায় মুগডাল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কৃষকেরা স্থানীয় দেশি প্রজাতীর সোনাই মুগ ছাড়াও বারি-৫ ও বারি-৬ হাইব্রিড প্রজাতীর চাষ বেশি করেছে।

সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার চরাঞ্চল এলাকার মাঠ জুরে শুধু সবুজের সমারোহ। ওই সবুজের মধ্য থেকে উঁকি দিয়ে আছে কালো রংয়ের থোকা থোকা লম্বা সরু খোসায় আবৃত কৃষকের স্বপ্ন। ওই আবৃত খোসা খুললেই যেন কৃষকের স্বপ্ন খুলে যাবে। এমনই স্বপ্নে বিভোর উপজেলার প্রান্তিক কৃষকেরা। কিন্ত এ বছর করোনার কারনে সকল স্বপ্নই যেন ওই খোসায় আবৃত হয়ে থাকবে।

চরকালাইয়া গ্রামের চাষি বাদল প্যাদা বলেন, এবছর প্রতিকুল আবহাওয়ার কারনে এ অঞ্চলের চাষীদের আমন ধান চাষে লোকসান হয়েছে অনেক। সেই লোকসান কাটিয়ে ওঠার জন্য গত বছরের চেয়ে এ বছর কৃষকেরা ডাল চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বিগত বছরের তুলনায় এবছর মুগডালের ফলন বাম্পার হয়েছে। কৃষকেরা স্বপ্ন দেখতে ছিল ডাল বিক্রি করে ধার দেনা পরিশোধ করে একটু স্বাচ্ছন্দে চলবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল। একদিকে করোনার কারনে হাটবাজার বন্ধ অন্যদিকে কৃষকের মাঠে এসে জাপানিরা সরাসরি ডাল কিনে নিত সেটাও এবছর নিবে না।

তরমুজের পাশাপাশি মুগডাল চাষ করেছেন কচ্ছবিয়ার চরের বাবুল খান। তিনি বলেন, পাঁচ একরে মুগডালের চাষ করেছেন তিনি। জমির মূল্য, বীজ, সার নিয়ে চাষের খরচ হয়েছে প্রতি একরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকার। গতবারের দাম পেলে একর প্রতি ৫-৬ মন ফলনে ৯-১০ হাজার টাকা লাভ হওয়ার কথা। কিন্তু করোনায় লকডাউনের এই পরিস্থিতিতে হাট বন্ধ আর জাপানি সংস্থাটির ডাল কেনা বন্ধ করায় শঙ্কিত তিনিও। এতে প্রান্তিক চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়বে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সুত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছর ধরে জাপানী বেসরকারী সংস্থা গ্রামীন ইউগ্লেনা বাংলাদেশের প্রতিনিধির মাধ্যমে উপজেলার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ডাল ক্রয় করতো। সে ক্ষেত্রে বাজারের চেয়েও বেশি দাম পেত স্থানীয় কৃষকরা। কিন্তু চলতি বছর ওই সংস্থা কোন ডাল ক্রয় করবেনা বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে।

জাপানের ওই সংস্থা সুত্রে জানা গেছে, জাপানীরা মুগডাল ভিজিয়ে অঙ্কুরোদগম করে শুকিয়ে গুরা সংরক্ষন করেন। পড়ে ওই গুরা তারা স্যুপ তৈরী করে খান। কিন্তু গতবছর যে ডালটি ওরা নিয়েছিল সে ডালে ফাঙ্গাস পড়ার কারনে এ বছর ডাল নিয়ে অনিহা প্রকাশ করছেন।

ওই সংস্থার দাবি, কৃষকেরা মুগডাল গাছ থেকে তুলে মাটিতে শুকানোর কারণে ডালে ফাঙ্গাস পরে। ফাঙ্গাস পড়া ডালে গুণগত মান সঠিক থাকে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, এ সময় করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব ঠেকাতে সারা দেশেই একই অবস্থা। হাট-বাজার বন্ধ। তবে কৃষকদের ভালোভাবে ডাল রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করে রাখার জন্য বলেছেন। করোনার প্রভাব কেটে গেলেই ভালো দাম পাওয়া যাবে বলে তার বিশ্বাস। কারন জাপানের সংস্থাটি ডাল কেনা থেকে হাত গুটিয়ে নিলেও বিশ্বখাদ্য সংস্থা অন্য বেসরকারী সংস্থার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্য মুগডাল কেনার প্রস্তাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষিপন্য পরিবহন-বিপনণে কোন বাধা নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। পরিবহন-বিপননে সমস্যায় পড়লে কৃষিবিভাগ থেকে আমরা চাষিদের যে কোন ধরণের সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত আছি।