সংবাদ শিরোনাম
বিআইটিআইডির ল্যাব প্রধান ডা. শাকিল করোনায় আক্রান্ত | দিনাজপুরে নতুন করে ১৬ জন করোনায় আক্রান্ত, মোট ১৪৮ | চীনের সঙ্গে ইসরাইলের বিকাশমান সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের | আগামী পাঁচদিন সারাদেশে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা | চট্টগ্রামে নতুন শনাক্ত আরও ৯৮, মোট ১৯৮৫ | চট্টগ্রামে ইম্পেরিয়াল ও বঙ্গবন্ধু হাসপাতালে হবে করোনা চিকিৎসা | সীমান্তে চরম উত্তেজনা, তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে বৈঠক মোদির | করোনার টিকা না আসা পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে: ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট | আবারো মুখোমুখি চীন ও ভারতের সৈন্যরা, যুদ্ধের আশঙ্কা | ডা. জাফরুল্লাহর জন্য ফুল-ফল পাঠালেন খালেদা জিয়া |
  • আজ ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

৬ হাজার গরিব-দুঃখীর সেবায় হজের টাকা শেষ করলেন ইবি প্রকৌশলী

৭:৪৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, মে ৯, ২০২০ শিক্ষাঙ্গন

রায়হান মাহবুব, ইবি প্রতিনিধি- কুষ্টিয়া সদরের এক নম্বর হাটশ হরিপুর ইউনিয়নে দেখা গেল এক ভদ্রলোক চাল, ডাল, আটা, তেল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মিষ্টিকুমড়া, পুঁইশাক, মরিচ, ঢেড়শ, সাবান, ভিমবারসহ প্রায় ১৫-২০ পদের তরিতরকারী-শাকসবজির পসরা সাজিয়ে দোকান দিচ্ছেন। তার সাথে প্রায় ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক সহযোগীতা করছেন। অত্র ইউনিয়নসহ আশেপাশের এলাকা থেকে গরিব,অসহায়-দুঃস্থরা দলে দলে আসছেন বাজার করতে। প্যাকেট পুরে বাজার করে যে যার মতো চলে যাচ্ছেন, কিন্তু বিক্রেতা কোন টাকা নিলেন না।

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায়-দুঃস্থদের পাশে দাঁড়াতে সেখানে এমনি ফ্রি বাজার ও মুদি দোকান বসিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আলিমুজ্জামান টুটুল। হজ্জ্বের জমানো টাকা ভেঙ্গে তিনি এ কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

এলাকায় গরিবের বন্ধু নামে খ্যাত এ প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে জানা গেল, গত ১৭ দিন যাবত একনাগাড়ে তিনি গরীব-দুঃখীদের এ সেবা দিয়ে আসছেন। এ পর্যন্ত ৬ হাজার দুঃস্থ-অসহায় তার ফ্রি বাজার থেকে ব্যাগভর্তি বাজার নিয়ে গেছেন। প্রতি শুক্রবার গড়ে এক হাজার মানুষ এবং প্রতিদিন গড়ে ৩০০ মানুষ এখান থেকে বাজার করছেন। বাজারের সার্বক্ষনিক সহযোগী হিসেবে আছেন প্রকৌশলীর নিজ হাতে গড়া সংগঠন “গ্রীন চাইল্ড’র প্রায় ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক।

তিনি বলেন, যতক্ষণ মাল থাকে ততক্ষণ মানুষ আসতেই থাকে। তবে মাল শেষ হয়ে গেলে অবশিষ্টদের খালি হাতে না ফিরিয়ে সাবান ও ভীমবার দিয়ে বিদায় জানাই।

সবজি নিতে আসা হাফিজুল ইসলাম নামের এক শ্রমিক জানান, ‘করোনার কারণে কাজকর্ম না থাকায় বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খুবই কষ্টে দিন পার করতে হচ্ছে। এখানে এসে সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ সবজি দিয়ে আমার বেশ কয়েকদিন চলে যাবে।’

এ মহতি কাজের উদ্যোক্তা প্রধান প্রকৌশলী আলীমুজ্জামান টুটুল বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতির কারণে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ফলে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এসকল মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার উদ্দেশ্য। ইতোমধ্যে হজে যাওয়ার জন্য জমানো সব টাকা শেষ হয়েছে। তবুও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাঠানো টাকায় ঈদের আগ পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত রাখব।”