• আজ ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বয়স্ক ভাতা-ভিজিএফের চাল তোলেন আ.লীগ নেতা, সঙ্গে স্ত্রী-সন্তানরাও

১০:০৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, মে ১০, ২০২০ দেশের খবর, বরিশাল

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল প্রতিনিধি- পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতার পরিবারের পাঁচ সদস্যই সরকারের নিয়মিত একাধিক সুবিধা ভোগ করছেন। সম্প্রতি এমন খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় এলাকাজুড়ে চলছে তোলপাড়।

সুবিধা ভোগী ওই আওয়ামী লীগ নেতার নাম আব্দুল বারেক মুন্সী। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বলে দলীয় সুত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, কোন পরিবারের একই ব্যক্তি সরকারি একাধিক সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না। অথচ উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের সহ-সভাপতি আব্দুল বারেক মুন্সি তিনি ও তার পরিবারের পাঁচ সদস্য মিলে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির নিয়মিত নয় জনের সুবিধা ভোগ করছেন।

আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল বারেক মুন্সীর নিজের নাম রয়েছে বয়স্ক ভাতা এবং জেলেদের ভিজিএফের ৪০ কেজি ও ফেয়ার প্রাইজ কার্ডের ৩০ কেজি চালের সুবিধা ভোগীদের তালিকায়। তার স্ত্রী গোলেনুর বেগম এর নাম রয়েছে বয়স্ক ভাতার তালিকায়, তার ছেলে কামাল মুন্সী ও শহিদুল মুন্সীর নাম রয়েছে জেলেদের জন্য ৪০ কেজি ভিজিএফ এর তালিকায়, এছাড়াও ৩০ কেজি ফেয়ার প্রাইজ কার্ডের সুবিধা ভোগ করছেন। আরেক ছেলে রিয়াজুল মুন্সী ঢাকায় অবস্থান করে জেলেদের ভিজিএফের ৪০ কেজি চাল সুবিধা ভোগ করছেন।

অথচ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল বারেক মুন্সী স্বচ্ছল পরিবারের লোক। আছে দোতাল টিনের ঘর। আর্থিক ভাবেও তারা স্বচ্ছল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক জন প্রতিনিধি জানান, বারেক মুন্সি গং ইউনিয়নের চরাঞ্চলের প্রায় ৪৫ একর খাস জমি ভোগ করছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা বারেক মুন্সি বলেন, আমার নাম বয়স্ক ভাতা তালিকায় ও ফেয়ার প্রাইজ তালিকায় আছে, ভিজিএফের তালিকায় নাই। আমার ছেলেরা সবাই যার যার স্ত্রী সন্তান নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন থাকে।

তার স্ত্রীর নাম বয়স্ক ভাতার তালিকায় অন্তরভুক্তির বিষয়ে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান আমার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ও তার স্ত্রীর ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি ও ছবি নিয়েছে। কোন তালিকায় নাম দিয়েছে কিনা তা আমার জানা নাই।

এ বিষয়ে কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন লাভলু টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার বলেন, ‘আবদুল বারেক মুন্সী ও তার তিন ছেলের সরকারি এসব সুবিধাভোগের বিষয়গুলো তার জানা নাই। তবে আবদুল বারেক মুন্সীর স্ত্রী গোলেনুর বেগমের বয়স্ক ভাতার সুবিধাটি সম্প্রতি আমি দিয়েছি। যা এখনও প্রক্রিয়াধীন।’

বাউফল উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ভাতা নীতিমালা অনুযায়ী একই ব্যক্তি সরকারে কোন নিয়মিত একাধিক সুবিধা ভোগ করতে পারবেনা।’

এ ব্যাপারে জানতে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।