সিনেমা হল বন্ধ, কর্মচারীরা বিক্রি করছেন ইফতার

৮:৫০ অপরাহ্ণ | সোমবার, মে ১১, ২০২০ বিনোদন

বিনোদন ডেস্ক-টানা কয়েক বছর থেকেই ঢাকাই চলচ্চিত্রে মন্দা অবস্থা বিরাজ করছে। মৃতপ্রায় ইন্ডাস্ট্রি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। এরই মাঝে নতুন করে যোগ হয়েছে করোনাভাইরাস। এরফলে লোকসানের পাল্লাটা ভারী হচ্ছে হলমালিকদের। গেল ১৮ মার্চ থেকে দেশের সিনেমা হলগুলো বন্ধ। এমতাবস্থায় কর্মীরা দিশেহারা।

হাতে কোন সিনেমা না থাকায় সিনেমা সংশ্লিষ্ট অনেকেই বেকার হয়ে পড়েছেন। আর এবস্থায় বাঁচার তাগিদে অনেকে অনেক কিছু করছেন।

এদিকে করোনাভাইরাসে কারণে সবকিছু সরকার বন্ধ ঘোষণা করলেও পরবর্তীতে সীমিত আকারে রেস্টুরেন্ট খোলার অনুমতি দেয়। অনুমতি পাওয়ার পর রেস্টুরেন্টগুলোতে ইফতার সামগ্রী বিক্রি করে আসছে। অন্যদিকে হল বন্ধ থাকার কারণে আয় না থাকায় অনেক হলের কর্মচারীরা মানবতর জীবনযাপন করছেন। অনেকে বিক্রি করছেন ইফতার সামগ্রী।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ জেলায় অবস্থিত হীরক সিনেমা হলের কর্মচারী ছিলেন শাহীন মিয়া। হীরক সিনেমা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর খুব কষ্টেই কাটছে তার দিন। এ অবস্থায় জীবিকার তাগিদে ইফতার সামগ্রী বিক্রি করছেন তিনি।

তিনি জানান, গেল কয়েক বছর থেকে হলের ব্যবসা হয় না। তাছাড়া একের পর এক হল বন্ধ হওয়ায় আমরা বেশ বিপাকে। অন্য কোনো কাজ না শেখায় এই পেশা ছাড়তে পারছি না। অনেক কষ্টেই আছি। তাই ইফতার বিক্রি করে কিছু আয়ের চেষ্টা করছি।

গাইবান্ধার ‘তাজ’ সিনেমার সুপারভাইজার শহিদ বলেন, ‘করোনার কারণে সিনেমা হলগুলো সব জায়গায় বন্ধ। তাই হলের আয় একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। অন্য সময় পুরাতন সিনেমা চালিয়ে হলগুলো চালু রাখা হতো। ওই ছবিগুলো দিয়ে ঈদের কেনাকাটা করার জন্য অর্থ উপার্জন হতো। কিন্তু এবার সেটাও নেই। তাই বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় কাজ করতে হচ্ছে।

তাজ হলের গেটম্যান মো. রাখু হান্নান বলেন, ‘আমারা যারা কর্মচারী আছি, আমাদের খুবই কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। অন্য পেশায় কাজ করতে না পারায় আজ আমাদের দুর্দশা চলছে। তবে যে যার যার মতো কাজ করছে। কেউ ইফতার বিক্রি করছে আবার কেউবা শ্রম বিক্রি করছেন।’

শুধু হীরক কিংবা জোনাকী নয় দেশের অধিকাংশ সিনেমা হলে পুরো রমজান মাসে এভাবেই লোকসানের হাত থেকে বাঁচতে কর্মচারীরা ইফতার বিক্রি করতেন। কিন্তু এবার করোনার প্রাদুর্ভাবে চিত্রটা ভিন্ন হয়েছে। তারপরেও কিছু কিছু হলের কর্মচারীরা ইফতার সামগ্রী বিক্রি করে যাচ্ছেন।