ভয়ঙ্কর গতিতে বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘আমফান’

১০:১৩ অপরাহ্ণ | শনিবার, মে ১৬, ২০২০ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেই ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি আজ শনিবার ( ১৬ মে) রাতেই ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে যাচ্ছে বলে আভাস দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা। থাইল্যান্ড ওই ঘূর্ণিঝড়ের নাম দিয়েছে আমফান।

ঝড়টি কোন উপকূলে আছড়ে পড়বে তা নিশ্চিত করে এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে এগুবে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদফতর।

আবহাওয়া অধিদফতরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গভীর নিম্নচাপটি আজ রাতেই ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। গতির কারণে মনে হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ অথবা বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে এটি। যে কোনও নিম্নচাপের গতি প্রথম দিকে কম থাকে। এখন গতি কম থাকায় গতকাল থেকে খুব বেশি এগোয়নি নিম্নচাপটি। কিন্তু রাতেই এটি গতি আস্তে আস্তে বাড়তে শুরু করবে। যত এগিয়ে আসবে ততই এর এগিয়ে আসার গতি এবং ঘূর্ণন গতি দুইই বাড়তে থাকবে।

আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় বলা হয়, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও এর আশেপাশের এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি আজ শনিবার দুপুরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। এখন নিম্নচাপটি আরও সামান্য পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান খান জানান, এটি আজ সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১ হাজার ২৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৫০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

এদিকে ভারতীয় আবহাওয়া কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামিকাল রবিবার ঘূর্ণিঝড়টি শক্তি বাড়িয়ে অতি ভয়ঙ্কর রূপ নেবে। মঙ্গলবার ঘূর্ণিঝড়ের গতি পৌঁছে যেতে পারে প্রতি ঘণ্টায় ১৭০-২০০ কিলোমিটার। স্থলভাগের দিকে যত এগবে, তার গতি কিছুটা কমে। তবে আছড়ে পড়ার সময় আমফান কতটা শক্তি বাড়াবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। গোটা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

খবরে বলা হয়, গত বছরের নভেম্বরে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের গতিপথ অনুসরণ করে বাংলাদেশের ওপরও আছড়ে পড়তে পারে নতুন এই ঘূর্ণিঝড়।