দেশে ফেরার দাবিতে রামপালে আবারও ভারতীয় শ্রমিকদের বিক্ষোভ

১১:০২ অপরাহ্ণ | রবিবার, মে ১৭, ২০২০ খুলনা, দেশের খবর

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত ভারতীয় শ্রমিকরাবাড়ি ফেরাসহ বিভিন্ন দাবিতে ২য় বারের মত বিক্ষোভ করেছে।

রোববার (১৭ মে) দুপুরে নিরাপত্তা কর্মীদের বাধা উপেক্ষা করে নির্মানাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বের হয়ে পায়ে হেটে রওনা হলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের জিরো পয়েন্ট মোড়ে পৌছালে তাদের গতিরোধ করেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এ সময় ওই মোড়েই তারা বিক্ষোভ করতে থাকেন। এক পর্যায় দুপুর ৩ টার দিকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রসাশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে বুঝিয়ে পাশে সরিয়ে দেন। এরপর এক পর্যায়ে ভারতীয় শ্রমিকরা মারমুখি হয়ে পুলিশের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করেন। বাগেরহাটের পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে এক দল পুলিশ চরম সংযম প্রদর্শন করেন। দফায় দফায় তাদের সাথে আলোচনা করা হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৪ মে একই দাবিতে ভারতীয় কয়েকশ শ্রমিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সীমানা অতিক্রম করে রাস্তায় বের হয়ে হেটে বাড়ি যাওয়ার জন্য রওনা দেয়। প্রশাসনের হস্থক্ষেপে তারা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ফিরে যায়।

শ্রমিকরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কাজ করছি। করোনা পরিস্থিতিতে আমরা ঠিকমত পরিবার ও স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করতে পারছি না। লকডাউনের দোহাই দিয়ে আমাদের বাড়ি যেতে দেওয়া হচ্ছে না। ঠিকমত খাবারও পাচ্ছিনা। এর আগেও বাড়ি যাওয়ার জন্য রাস্তায় এসেছি। প্রশাসনের আশ্বাসে আমরা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ফিরে গেছিলাম। কিন্তু তাদের আশ্বাসে ও আমাদের জন্য কোন ব্যবস্থা করেনি কর্তৃপক্ষ। আমরা যে কোন মূল্যে বাড়ি যেতে চাই বলে চিৎকার করতে থাকেন শ্রমিকরা।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ বলেন, শ্রমিকদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়কের পাশে নেওয়া হয়েছে। তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভারতীয় শ্রমিকরা বিকাল সাড়ে ৫ টায় ও জিরো পয়েন্টের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ অব্যহত রেখেছেন।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপ-পরিচালক মোঃ রেজাউল করিম বলেন, করোনা পরিস্থতিতে সব ধরনের যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। আমরা শ্রমিকদের দেশে পাঠানোর জন্য ভারতীয় হাই কমিশনের সাথে কথা বলেছি। তারাও চেষ্টা করছেন তাদেরকে ভারতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু করোনার কারনে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হওয়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না। এর মধ্যেই শ্রমিকরা পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। তারা কারো কথা শুনছেন না।