মংলায় ৭ নম্বর বিপদ সংকেত, প্রচন্ড ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ

৮:১৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, মে ১৮, ২০২০ খুলনা, দেশের খবর

মনিরুল ইসলাম দুলু, মংলা প্রতিনিধি: যত বেশি কাছে এগিয়ে এসেছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। মংলায় তত বেশি ভ্যাপসা গরম পড়ছে। গত তিন দিন ধরে প্রচন্ড তাপদাহে এখানকার জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে বঙ্গোপসাগর প্রবল বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠায় মংলা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত বলেছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে জনসাধারণকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে যাতে দ্রুত আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়া যায়।

মংলা উপজেরা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাহাত মান্নান জানান, জনগণকে প্রস্তুত থাকতে বলেছি। যাতে অল্প সময়ের মধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফান আগমনের খবরে আমরা স্কুল কাম সাইক্লোন সেল্টার ১০৩টি এবং আরও ৩টি ভবন মোট ১০৬টি সাইক্লোন সেল্টার প্রস্তুত রেখেছি।

এছাড়াও এই ঝড় মোকাবেলার জন্য স্কাউটস, স্বেচ্ছাসেবকসহ সরকারি-বেসরকারি লোকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দফায় দফায় চলছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠক। স্বেচ্ছাসেবকদের বিপদ সংকেতের পতাকা লাগাতে নির্দেশ দেওয়া হযেছে ।

মংলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে ,দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে বর্তমানে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে।

এটি সোমবার (১৮ মে) বিকেল ৩টায় মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৮৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে,চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজারর ৭৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৯৭০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে। পরবর্তীতে দিক পরিবর্তন করে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে মঙ্গলবার শেষরাত থেকে শুরু করে বুধবার বিকাল অথবা সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিমির মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২১০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিঃমিঃ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।এ কারণে মংলা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

সাগর বিক্ষুব্ধ থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্ত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।