সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

তানোরে ‘ব্রি ধান ৮১’ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে

১১:৩৩ অপরাহ্ন | সোমবার, মে ১৮, ২০২০ রাজশাহী
tano

তানোর (রাজশাহী) সংবাদদাতাঃ বোরো মৌসুমে ব্রিধান ৮১ একটি ভালো জাত হিসেবে পরিচিত। বরেন্দ্র এলাকায় স্বল্প পানি চাষের জন্য এই জাতটি খুবই উপযোগী। এ অঞ্চলের কৃষকদের ভগ্যোন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। কৃষকদের মধ্যে ব্রি ধান ৮১ চাষে আগ্রহ বাড়ছে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ধরণের ভূমিকা রাখবে।’

তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শামিমুল ইসলাম বলেছেন এসব কথা। তিনি আজ সোমবার (১৮ মে) উপজেলার দুবইল গ্রামে ব্রিধান ৮১’র কর্তন ও মাঠদিবসে আয়োজিত এক কৃষক সমাবেশে কৃষকদের উদ্দ্যেশে এসব কথা বলেন।

উদ্ভাবিত ধান ব্রি ৮১’র মাঠ প্রদর্শনী কৃষক মোঃ গোলাম মোস্তফা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে কৃষক উপস্থিত থেকে ব্রিধান ৮১’র বীজতলা তৈরী, মাঠ তৈরী, চারা রোপন, পরিচর্যা সব বিষয়ে মনোযোগ দিয়ে শোনেন। এসময় তারা পরবর্তীতে উচ্চফলনশীল এ জাতটি আবাদের গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) তানোর জোনের সহকারী প্রকৌশলী মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, এই ব্রি ধান ৮১ বিএমডিএ এর সহযোগিতায় গোলাম মোস্তফাকে দিয়ে ধানবীজ উৎপাদনের প্লট করা হয়েছে। পরবর্তীতে এই ধানবীজের গুণগতমান অক্ষুন্ন রেখে তা চাষের জন্য কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করা হবে। স্বল্প পানিতে যেমন এই ধান চাষ সম্ভব তেমনি ধানটি উচ্চ ফলনশীল। এর ভাত হয় বেশ ঝরঝরে ও সুস্বাদু। ধানটির বীজ কৃষক পর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হলে ধান উৎপাদনে সহায়ক হবে।

পুরাতন ধান সংরক্ষক ও জাতীয় পরিবেশ পদক প্রাপ্ত কৃষক ইউসুফ মোল্লা বলেন, জাতীয় বীজ বোর্ড অনুমোদিত ‘ব্রিধান ৮১’র ধান গাছের উচ্চতা হয় ১০০ সে.মি. এবং গাছ বেশ শক্ত হওয়ায় ঝড় বৃষ্টিতে সহজে হেলে পড়ে না। এই ধানে রোগ ও পোকামাকড়ে আক্রমণ প্রচলিত অন্যান্য জাতের চেয়ে অনেক কম। দেশীয় বাজারে ২৮ ও মিনিকেটের চালের বিকল্প হিসেবে সমাদৃত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ধানটির জীবনকাল ২৮ এর সমান ১৪০ থেকে ১৪৫ দিন। হেক্টর প্রতি সাড়ে ৬ থেকে ৭ মেট্রিক টন ধান পাওয়া যায়।

কৃষক গোলাম মোস্তফার প্রদর্শনী মাঠের ধান কাটা হয়। এখানে কাটা ধান ওজন করে হেক্টর প্রতি ৭ দশমিক ৪৮ মেট্রিক টন পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।