আম্পানের তাণ্ডব: ভেসে গেছে বাগেরহাটের প্রায় ৫ হাজার মাছের খামার

৯:৫৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, মে ২১, ২০২০ খুলনা, দেশের খবর

বাগেরহাট প্রতিনিধি: করোনা ভাইরাসের মধ্যেই অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় সুপার সাইক্লোন ঘূণিঝড় আম্পান ব্যাপক তান্ডব চালিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তান্ডবে সুন্দরবন উপকূলের বাগেরহাটে প্রায় ৫ হাজার মৎস্য খামার ভেসে গেছে।

বিভিন্ন উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। তবে জেলার কোথাও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন উপজেলায় সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলার অধিকাংশ উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। মোংলা বন্দরের পন্য ওঠানামাসহ বন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

বুধবার রাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাগেরহাটের ৩৫/১ পোল্ডারের শরণখোলা উপজেলার বগী-গাবতলা অংশের ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থান ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে বাঁধের আশপাশের কয়েকটি গ্রামের নিম্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া বাঁধের আশপাশের বেশকিছু কাঁচা ঘরবাড়ি বির্ধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে বেশ কিছু গাছপালা।

জেলার শরনখোলা উপজেলার হানিফ শেখ বলেন, রাতে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে আমার বসতঘর ভেঙে পড়েছে। ঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছাসে ভেসে গেছে মাছের ঘের।

উপজেলায় আমার মতো অনেকের এ রকমের ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান। জেলার কচুয়া উপজেলার ৭নং ওয়ার্ডের তুহিন শিকদার বলেন, রাতে ঝড়ের আঘাতে বাড়ির বসত ঘরের উপরে গাছ উপড়ে পড়ে ঘরটি ভেঙ্গে গেছে। বাগানের কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়েছে ও গোয়ালঘর পড়ে গেছে।

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. খালেদ কনক জানান, ঝড়ে জেলার ৪ হাজার ৬শত ৩৫টি মৎস্য ঘের ভেসে গেছে। সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে মোংলা, রামপাল, শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ উপজেলায়। সরকারিভাবে ক্ষতি ধরা হয়েছে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

তবে বেসরকারি হিসেবে এ ক্ষতির পরিমান আরোও বেশি বলে জানিয়েছেন চিংড়ি চাষীরা। বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ উদ জামান জানান, সুপার সাইক্লোন আম্পানের স্বাভাবিক জোয়ারের থেকে ৭ থেকে ৮ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছাসে বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩৫/৩ পোল্ডারের ২শ মিটার রিংবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি ডুকে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্থ বাধ নির্মাণে কাজ শুরু করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে বন তলিয়ে যাওয়ায় সুন্দরবনের কটকা, দুবলা, চরাপুটিয়া ও কোকিলমুনি বন অফিসের কম্পাউন্ডে দল বেঁধে আশ্রয় নেয়া কয়েক শত হরিণ বনে ফিরে গেছে। সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে সুন্দরবনে প্রথমে আঘাত হানে সুপার সাইক্লোন আম্ফান। প্রাথমিকভাবে ৮টি বন অফিসের টিনের চালা উড়ে গেছে ও সম্পূর্ণ ভেঙ্গে গেছে ৫টি জেটি। কোন বন্য প্রানী মারা যাবার খবর বা বনের গাছপালার ক্ষয়ক্ষতির হিসেব এখনো পাওয়া যায়নি।

বাগেরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক রঘুনাথ কর বলেন, ঘুর্ণিঝড়ের আগেই জেলার বোরো ধান কৃষকেরা ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছে। তবে ঝড়ে আউস ও গ্রীষ্মকালীন সবজির সামান্য ক্ষতি হয়েছে, তা নিরুপনের জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানান, সরকার বাগেরহাট জেলার জন্য ২০০ মেট্রিক টন চাল, নগত ৩ লাখ টাকা, ২ লাখ টাকার শিশু খাদ্যে, গো-খাদ্যের জন্য ২ লাখ টাকা ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দিয়েছে। জেলার কোথাও কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বেশ কিছু ফসল, মৎস্য ঘের, কাচাঘরবাড়ী ও গাছপালা বৈদ্যুতিক খুটি ভেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে রাতভর ঝড়ের তান্ডবে বিদ্যুৎ বিছিন্ন হয়ে পড়ে গোটা জেলা। ঝড়ে গাছপালা পড়ে বিছিন্ন রয়েছে প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ।

তবে সকাল থেকেই জেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করতে কাজ শুরু করে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা। তবে অধিকাংশ এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা সম্ভব হয়নি বলে জানান ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর কুমার সরকার।

অপরদিকে বাগেরহাট পল্লি বিদ্যুতের জি এম জাকির হোসেন জানান, অনেক এলাকায় ঝড়ে গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে আরো দু’এক দিন সময় লাগবে।