• আজ ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে প্রাথমিকভাবে ১১০০ কোটি টাকার ক্ষতি

১০:২৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, মে ২১, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে বিভিন্ন খাতে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এক হাজার ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।

বৃহস্পতিবার বিকালে ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী অনলাইন প্রেস ব্রিফিংয়ে এনামুর রহমান এ তথ্য জানিয়ে বলেন, চূড়ান্ত ক্ষতির পরিমাণ জানাতে আরও সাত দিন সময় লাগবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পানিসম্পদ, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব দিয়েছে। প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি টাকা ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব আমরা পেয়েছি। অন্য যেসব মন্ত্রণালয় আছে তারাও রিপোর্ট দিয়েছেন, তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তারা দেয়নি। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে উপকূলীয়সহ ২৬ জেলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে, সারাদেশে মোট ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানতে অন্তত সাতদিন সময় লাগবে।

আম্পানের আঘাত হানার আগে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখায় আবহাওয়া অধিদপ্তর। মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আসায় ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের রিপোর্টের তথ্য উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ২৬ জেলায় ১১০০ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ২০০টি ব্রিজ-কালভার্ট ও ২৩৩টি স্থানীয় সরকার কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো বেশিরভাগ বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, খুলনা এলাকায়। এছাড়া অনেকগুলো টিউবওয়েলের ক্ষতি হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য দিয়ে বলেন, বরিশাল ও খুলনা বিভাগে পাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া আম, লিচু, মুগডালের ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ১৫০ কোটি টাকার আমের ক্ষতি হয়েছে। সাতক্ষীরা, রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জে আমের ক্ষতি হয়েছে। তবে, ধানের তেমন ক্ষতি হয়নি।

তিনি জানান, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে আমরা জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেবো যে আমগুলোর ক্ষতি হয়েছে সেগুলো ত্রাণের টাকায় কিনে যাদের খাদ্যসহায়তা দিচ্ছি তাদের মধ্যে বিতরণ করতে। এতে আম চাষিরা লাভবান হবেন, আমগুলোর সদ্ব্যবহার হবে।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৫০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আরও ৮৪টি ক্ষতির মুখে রয়েছে। এর ফলে ২৫০-৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

মৎস্য ও প্রানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছেন, গবাদি পশুর ক্ষতি হয়েছে ১৪০ কোটি টাকা এবং মৎস্য ক্ষতি হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকার।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের সময় মারা যাওয়া ১০ জনের পরিবারের প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পুনর্নির্মাণ করবে।’

তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২৬ জেলার প্রত্যেককে ৫০০ বান্ডিল টিন এবং ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) বিকেলে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আঘাত হানার পর স্থলভাগে উঠে আসে। সন্ধ্যা রাত থেকে বাংলাদেশের উপকূলেও শুরু হয় আম্পানের তাণ্ডব। সারারাত এটি ঘূর্ণিঝড় রূপে থেকেই দেশের দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাণ্ডব চালিয়েছে। সারারাত তাণ্ডব চালানোর পর বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল সাড়ে ৭টার পর শক্তি ক্ষয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়।