• আজ ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানি বরের সাথে বাংলাদেশি কনের অনলাইন বিয়ে!

২:৩৫ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, মে ২২, ২০২০ আলোচিত
pakk

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ করোনা বাধা হতে পারেনি পাকিস্তানি বর আর বাংলাদেশী কনের বিয়েতে। প্রথমে দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিয়ের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্পন্ন হয়েছে অনলাইনে। বৃহস্পতিবার বিকালে জয়পুরহাট পৌর শহরের কাশিয়াবাড়ি এলাকার ব্যাংক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতে অনলাইনের বিয়ে সম্পন্নের ঘটনা ঘটে।

পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, মোস্তাফিজুর রহমানের মেয়ে মুরসালিন সাবরিনা আমেরিকান অনলাইন বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইউনিভার্সিটি অফ দ্য পিপল’ এ লিখাপড়া করছেন ২০১৮ সাল থেকে। সেখানে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হন সাবরিনা। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করা অবস্থায় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টদের নিজস্ব ওয়েবসাইট ইয়েমার এর মাধ্যমে পরিচয় ঘটে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুলতান শাহরুখনে আলম কলোনীর যুবক মুহাম্মদ উমের এর সাথে। উমের এর বাবা বিলাল আহম্মেদ বড় ধরণের সব্জি ও ফলমুল ব্যবসায়ী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনলাইনে তাদের পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৯ সালে তাদের এই প্রেমের সম্পর্ক জানাজানি হয় উভয় পক্ষের অভিভাবকদের মাঝে। এরপর উভয় পরিবারের অভিভাবকরা তাদের বিবাহ সম্পন্নের সিদ্ধান্ত নেয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক উমের এবং তার পরিবার বাংলাদেশে আসার জন্য ২০২০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারী ভিসার জন্য আবেদন করেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে জয়পুরহাটে সাবরিনা এবং তার পরিবারের খেঁাজখবর নেয় স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থা। ভিসা নিয়ে মার্চ মাসেই উমের এর পরিবার বাংলাদেশে এসে বিয়ে সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু বাধ সাধে করোনা ভাইরাস। করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে স্থগিত হয়ে যায় তাদের ভালবাসার বিয়ে। বিয়ে স্থগিত হলেও সাবরিনা এবং উমের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনলাইনে তাদের প্রেমের সম্পর্ক অব্যাহত রাখে।

তাদের প্রেমের এই সম্পর্ক উভয় পরিবার মেনে নিলেও মুসলিম শরিয়ত মতে অবৈধ হওয়ায় আপত্তি তোলেন উমের এর বাবা বিলাল আহম্মেদ। তিনি তাদের যোগাযোগের বৈধতা দিতে সাবরিনার বাবার সাথে যোগাযোগ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনলাইনে বিয়ে সম্পন্নের প্রস্তাব করেন। বিষয়টি মেনে নিয়ে উভয় পরিবার অনলাইনে তাদের বিয়ে সম্পন্নের সিদ্ধান্ত নেন। সে অনুযায়ী ওইদিন বিকেল ৫টায় সাবরিনার বাড়িতে স্বজন ও স্থানীয় প্রতিবেশিদের নিয়ে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে বিয়ের আয়োজন করা হয়। অনলাইনে তাদের বিয়ে পড়ান মওলানা মোস্তাফিুজর রহমান। এ সময় অনলাইনে সাবরিনার কবুল পড়া শোনানো হয় বর উমের এবং তার বাবা বিলাল অহম্মেদকে। একইভাবে অনলাইনে উমেরও তার প্রেমিক মুরসালিন সাবরিনাকে স্ত্রী হিসেবে কবুল করে নেন।

কনে মুরসালিন সাবরিনার বাবা মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, পাকিস্তানি ছেলের সাথে আমার মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জামাই এসে মেয়ে নিয়ে যাবেন।