ফরিদপুরে লাশকে পুঁজি করে অপরাজনীতি, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ!

২:১৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, মে ২৪, ২০২০ ঢাকা
lash

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দি ইউনিয়নের বড় খারদিয়া পশ্চিম ঠাকুরপাড়া গ্রামের সংঘর্ষে আহত প্রতিবন্ধী ও মৃগী রোগী পান্নু খন্দকারের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে এলাকায় দুই পক্ষের অপরাজনীতি শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পান্নু খন্দকারের মৃত্যুর পর এক পক্ষ তার ছোট ভাইকে বিভিন্ন প্রলোভনে পক্ষে নিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দেবে বলে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্য আর একটি পক্ষের বিরুদ্ধে মৃত পান্নুর বাবা মাকে পক্ষে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এতে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে একপ্রকার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মৃত পান্নুর ভগ্নিপতি মোঃ হেলাল শেখ জানান, আমি প্রায় ১২ বছর আগে পান্নুর ছোট বোনকে বিয়ে করেছি ছোট বেলা থেকে পান্নু প্রতিবন্ধী ও মাঝে মধ্যেই অসুস্থ থাকতো মৃগীর রোগেও ভুগছিল ছোট থেকে। সংঘর্ষের দিন তাকে কেউ মারধর করেনি। তবে যখন তার ছোট ভাই ইমরানের বসত ঘর ভাংচুর করে সংঘর্ষকারীরা তখন সে ঠেকাতে যায়। তখন তার ধাক্কা লেগে সামান্য আহতও হয় সে। পরে স্থানীয় ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা দিলে সুস্থ হয়ে যায়।

পান্নুর ফুফু ফুলমতি ও দাদী নবিরন বেগম জানান, পান্নু মৃগী রোগী ছিলো অসুখ উঠলে ২ থেকে ৩ ঘন্টা অসুস্থ থাকতো। অনেক চেষ্টা করে জ্ঞান ফিরিয়ে আসতো। ফাঁকা একটি পাটকাঠির চালের ঘরে থাকতো। পান্নু কখন মৃগীর বেয়ারম উঠে মারা গেছে তা আল্লহই ভালো জানেন। সংঘর্ষে মারাত্মক কোন আহত হয়নি যে সে আঘাতে মারা যাবে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তাদের ছেলের মৃত্যু নিয়ে প্রভাবশালী মহল তাদেরকে জিম্মি করে নোংরা রাজনীতির খেলায় মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

জানা গেছে, গত ৭ মে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে খারদিয়া-উজিরপুর গ্রামে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আলমগীর হোসেন মিয়ার সাথে একই গ্রামের আওয়ামী লীগ সমর্থিত রফিক মোল্যার সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কিছু বাড়ী ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। হামলার সময় পান্নুদের বাড়ীতেও হামলা চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন। হামলা ভাংচুরের সময় অসুস্থ পান্নু সামান্য আহত ও মারাত্মক ভাবে ভয় পায়। পরে গত ২০ মে গভীর রাতে পান্নু মারা গেলে পুলিশ তার লাশটি থানায় নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মর্গে পাঠায়। পান্নুর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী একটি মহল নোংরা রাজনীতির খেলায় মেতে উঠে বলে অভিযোগ করেন তার বৃদ্ধ বাবা লাল খন্দকার ওরফে রাঙ্গা।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের বাড়ীতে যখন হামলা চালায়। এসময় বাড়ীতে থাকা আমার মৃগী রোগী ছেলে পান্নু যে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিল সে মারাত্মক ভয় পায়। বুধবার অসুস্থ অবস্থায় পান্নু মারা যায়। আমরা তার লাশ গোসল ও দাফনের জন্য প্রস্তুতি নেবার সময় পুলিশ এসে পান্নুর লাশটি নিয়ে যায়।

পান্নুর মা রহিমা বেগম জানান, আমার ছেলেকে কেউ মারধোর করেনি। সে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় বাড়ীতে ছিল। আমার ছেলের মৃত্যুর ঘটনাটিকে পুঁজি করে আলমগীর তার প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে মামলা দেবার চেষ্টা চালাচ্ছে। আলমগীর ও তার লোকজন আমাদের নানাভাবে প্রলোভন দেখায় রফিকগংদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে। আমরা কোন ভাবেই রাজি না হলে তারা আমার আরেক ছেলেকে বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তাকে দিয়ে মামলা দেবার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। আমার ছেলেকে তারা আটকে রেখেছে। তাকে তিনদিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।

স্থানীয় একাধিক গ্রামবাসী স্থানীয় সাংবাদিকের কাছে অভিযোগ করে বলেন, পান্নুর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়। সে মতে আমরা তার জানাজার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু পুলিশ এসে পান্নুর লাশটি নিয়ে যায়। এখন শুনছি পান্নুর মৃত্যুকে পুঁজি করে প্রভাবশালী একটি পক্ষ প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মামলার চেষ্টা করছে। তারা জানান, রফিকগংদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা প্রশ্ন রেখে বলেন, এদেশে কি কোন আইন নেই। যারা এই ধরনের নোংরা খেলায় মেতেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন তারা।

একই সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আর্জি জানিয়ে পান্নুর মা গণমাধ্যমকে বলেন, আমার মৃত্যু বরণকারী ছেলেকে নিয়ে যারা রাজনীতি করছে তাদের বিচারের ভার তুলে দিলাম ‘শেখের বেটির’ কাছে। তিনি আমাদের ন্যায্য বিচার করবেন। এদিকে, পান্নুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অপরাজনীতির কারণে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে কারো পক্ষের হয়ে কাজ না করতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

যদুনন্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা। যদি পান্নুর স্বাভাবিক মৃত্যু হয় তাহলে পুলিশ সেভাবেই ব্যবস্থা নেবে। আমি কোন রাজনৈতিক প্রভাব খাটাইনি।

সালথা থানার ওসি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ গণমাধ্যমকে বলেন, মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষ রাজনীতি শুরু করেছে। পান্নুর লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। রিপোর্ট মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। অযথা কাউকে হয়রানি করা হবেনা।