৩০ মে’র পর ছুটি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে যা বলছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

১১:৪০ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, মে ২৫, ২০২০ ফিচার
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- করোনাভাইরাস রোধে সারাদেশে চলছে সাধারণ ছুটি। আগামী ৩০ মে এই ছুটির মেয়াদ শেষ হবে। নতুন করে ছুটি আরও বাড়বে কি না সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দেশের করোনা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করেই ঈদের পর ছুটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সুত্র বলছে, এমনও হতে পারে যে এলাকায় বেশি আক্রান্ত কেবল সেই এলাকাটি লকডাউনের (অবরুদ্ধ) মধ্যে রেখে অন্যান্য এলাকায় লকডাউন তুলে দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি পরিস্থিতি সচল রাখা হতে পারে। করোনা পরিস্থিতি অবনতি হলে কিছুদিন ছুটি বাড়লেও বেশ কিছু সীমিত আকারে খুলতে পারে। সেক্ষেত্রে কঠোরভাবে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি।

ছুটি আরও বাড়ানো হবে কি না সে বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এখনো এ নিয়ে আলোচনা হয়নি। আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে। এর আগে ঈদ উপলক্ষে দোকানপাট, তৈরি পোশাক কারখানাসহ কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকও চালু আছে। অফিসও প্রয়োজনে খোলা রাখা যাচ্ছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে থমকে গেছে পুরো পৃথিবী। এরই মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ লকডাউন শিথিল করেছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশও সেই পথে হাঁটবে কি না সেটি নিয়ে সরকারের মধ্যে আলোচনা আছে। সবচেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন সমাজের খেটে খাওয়া মানুষগুলো। অদৃশ্য এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে বিশ্বের প্রতিটি দেশেই লকডাউন বা কারফিউ জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশেও আগামী ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে লকডাউন। তবে এই মেয়াদের পর আরো লকডাউন বাড়ানো হবে কিনা এ ব্যাপারে কথা বলেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

রবিবার ( ২৪ মে) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষের জীবন এবং জীবিকার কথা চিন্তা করছে সরকার। সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে ছুটি কিছু দিন বাড়লেও অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে সীমিত পরিসরে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান সচল রাখা হতে পারে। এরপর সাধারণ ছুটি আরও বাড়বে কিনা তা ঈদের পর বৃহস্পতিবারে (২৮ মে) জানা যাবে। সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ছুটির বিষয়ে দিক-নির্দেশনা আসতে পারে বলেও জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।’

দেশে দিন দিন করোনা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এ অবস্থায় ছুটি নিয়ে আর কোনো সিদ্ধান্ত আছে কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘ক্ষুধায় যাতে কেউ কষ্ট না পায়, সবাই যেন খাদ্য সংস্থান করে খেতে পারে, কর্মকাণ্ড করতে পারে; আমরা ভবিষ্যতকে অনিশ্চিত করবো না। ঝড় একটার পর একটা আসবে, বিভিন্ন দুর্যোগ আমাদেরই মোকাবিলা করতে এগোতে হবে।’

দেশে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে। মারা গেছেন ৪৫০ এর বেশি মানুষ। দেশের ৬৪ জেলায় খুব দ্রুত গতিতে বাড়ছে করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা। করোনা ভাইরাসের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। ইতোমধ্যে সাত দফায় ছুটি বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটির বাড়ানো হয়। এর মধ্যে ঈদুল ফিরতের ছুটিসহ সাপ্তাহিক যুক্ত আছে। এখন ঈদের পর ছুটি আরও বাড়বে কি না সেটি নিয়ে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ।

৩০ মে’র পর ছুটি আর বাড়ানো না হলে ৩১ মে রবিবার অফিস খোলা হতে পারে। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছুদিন ছুটি বাড়লেও বেশ কিছু অফিস সীমিত আকারে খুলতে পারে। সেক্ষেত্রে কঠোরভাবে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। যেমন কর্মকতা-কর্মচারীদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরাসহ ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের দেওয়া ১৩ দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।