ঈদ শুভেচ্ছার তোরণ নিয়ে আঃলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, প্রাণ গেলো ছাত্রলীগ নেতার

১২:৫০ অপরাহ্ণ | সোমবার, মে ২৫, ২০২০ দেশের খবর, বরিশাল
বাউফলে তোরণ গ্রুপের সংঘর্ষে

পটুয়াখালী সংবাদদাতা, সময়ের কণ্ঠস্বর- পটুয়াখালীর বাউফলে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তোরণ নির্মাণকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপে ১০ জন আহত হন। ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়। আহতদের মধ্যে রোববার রাতে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যবরন করেন।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মাহিন বিন কাসেম জানান,ছাত্রলীগ কর্মী তাপস দাস (২৫) ও ইমাম হোসেন (৩৬) নামে অপর এক যুবলীগ কর্মীকে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাত সোয়া ৭টার দিকে তাপস দাস মারা যান। তাপস দাসের পেটে ছুরিকাঘাতের কারণে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়।

নিহত তাপ‌সের ভাই রাজীব দাস তাপ‌সের মৃত‌্যুর খবর নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছেন। তাপস উপ‌জেলার কালাইয়া গ্রা‌মের বিধু দা‌সের ছে‌লে।

গতকাল রবিবার ঘটনার পরে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে উভয়পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে পৃথক স্থানে তোরণ নির্মাণের সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়।

স্থানীয়রা জানায়, রবিবার দুপুর ১টার দিকে পৌর শহরের জেলা পরিষদের ডাক বাংলোর সামনে বাউফল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউল হক জুয়েলের পক্ষে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রচারের জন্য একটি তোরণ নির্মাণ করা হচ্ছিল। এসময় সাবেক চিফ হুইপ ও সংসদ সদস্য আসম ফিরোজ গ্রুপের উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও নাজিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুকের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী এসে বাধা দেয়। খবর পেয়ে মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল ঘটনাস্থলে আসলে ইব্রাহিম ফারুকের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক হয়।

পরবর্তীতে খবর পেয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন এবং বাউফল সার্কেলের সিনিয়র পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেনের মধ্যস্থতায় মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল ও ইব্রাহিম ফারুককে নিয়ে ওসির রুমে সমঝোতা বৈঠক চলাকালে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কালাইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির মোল্লার নেতৃত্বে কালাইয়া থেকে ২০-৩০ জন লোক মোটর সাইকেলযোগে ডাক বাংলোর সামনে এসে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তোরণ ভেঙ্গে ফেলে। এসময় মেয়র গ্রুপ উত্তেজিত হয়ে তাদেরকে ধাওয়া করলে তারা ডাক বাংলোর মধ্যে আশ্রয় নেন। তখন সংসদ সদস্য গ্রুপের ছাত্রলীগ কর্মী তাপস (২৫), পঙ্কজ (৩৫) আহত হন।

এ ঘটনার আগে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় একই গ্রুপের নাজিরপুর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, ছাত্রলীগ কর্মী শামীম এবং মেয়র গ্রুপের যুবলীগ কর্মী ইব্রাহিম (৩৫) এবং বাউফল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইউসুফ (২৫) আহত হন। পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে ছাত্রলীগ কর্মী তাপসকে (২৫) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পঙ্কজকে (৩৫) বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাত সোয়া ৭টার দিকে তাপস দাস মারা যান।

এ ব্যাপারে বাউফল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউল হক জুয়েল বলেন, ‘এখানকার শান্ত পরিবেশ অশান্ত করতেই ইব্রাহিম ফারুকের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীদের নিয়ে তোরণ নির্মাণকালে বাধা দেয় এবং তোরণের মালামাল ভাঙচুর করে।’

চিফ হুইপ সমর্থিত পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুক জানান, ডাক বাংলোর সামনে সেতুর মুখে তারা প্রতিবছর ঈদ শুভেচ্ছা তোরণ নির্মাণ করেন। আর পৌর মেয়রের তোরণ থানার পশ্চিম পাশে। কী কারণে এবারে তোরণ এ পাশে করা হলো, তা জিজ্ঞাসা করতেই মেয়র সমর্থিত নেতাকর্মীরা তার কর্মীদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে।

সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন জানান, তোরণ নির্মাণ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার পরে আমরা যখন উভয়পক্ষকে নিয়ে থানার মধ্যে সভা করছিলাম, তখন বাইরে তারা পুণরায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পরলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয়পক্ষকে সরিয়ে দেয়।