সবার কাছে দোয়া চাইলেন ডা. জাফরুল্লাহ

৪:৩৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ
jaforullah-215624

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ করোনা শনাক্তের পর আইসোলেশনে থাকা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। রোববার গণস্বাস্থ্যের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। সোমবার কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি তিনি নিজেই নিশ্চিত করেন।

মঙ্গলবার সকালে একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, করোনা আক্রান্ত হওয়ায় ঈদে আমি কারো সঙ্গে দেখা সাক্ষাত করিনি। সবাইকে ঈদ মোবারক জানাচ্ছি। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কোনো ধরনের উপসর্গ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা করা দরকার। যত দ্রুত সম্ভব বেশি সংখ্যক পরীক্ষা করে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করে আইসোলেশনে রাখতে হবে।’

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘গতকাল (রোববার) আমার জ্বর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা করিয়েছি। আমার পজিটিভ এসেছে। এতে করে আমার দ্বারা নতুন করে আর কেউ আক্রান্ত হবে না। যদি দু-তিন দিন পরে পরীক্ষা করতাম তাহলে এর মধ্যে অনেকেই আক্রান্ত হয়ে যেত। তাই আমি বলব, যত বেশি সংখ্যক সম্ভব দ্রুত পরীক্ষা করা দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আবারো সরকার, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত কিটের দ্রুত অনুমোদনে উদ্যোগ গ্রহণ করুন। আমরা জেনেছি, বিএসএমএমইউ এখন পর্যন্ত ৩০০ কিট পরীক্ষা করেছে। কোনো কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য সংখ্যা হিসেবে ৩০০ খুব কম নয়। এরকম মহামারিকালে ৩০০’র চেয়ে বেশি নমুনা পরীক্ষা করার দরকার আছে বলেও আমি মনে করি না। সুতরাং এখন পর্যন্ত যতসংখ্যক কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা হয়েছে, তার ভিত্তিতেই বিএসএমএমইউ চাইলে প্রতিবেদন দিয়ে দিতে পারে।’

‘আমি দাবি জানাচ্ছি ও অনুরোধ করছি, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটের ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। আমরা তো অর্থ আয় বা ব্যবসার জন্যে অনুমোদন চাইছি না। দেশের মানুষকে মহামারি থেকে রক্ষায় কাজ করতে চাইছি। বাংলাদেশের জনসংখ্যার তুলনায় সরকারের পরীক্ষার সক্ষমতা তো খুবই নগণ্য। পরীক্ষা করে শনাক্ত করা না গেলে পরিস্থিতি কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তা কি আমরা এখনো বুঝতে পারছি না?’, যোগ করেন ডা. জাফরুল্লাহ।

উল্লেখ্য খ্যাতিমান চিকিৎসক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং মুক্তিযোদ্ধা জাফরুল্লাহ চৌধুরী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র নামক স্বাস্থ্য বিষয়ক এনজিওর প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৮২ সালে প্রবর্তিত বাংলাদেশের ‘জাতীয় ঔষধ নীতি’ ঘোষণার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।