‘বিএনপি পুরনো নেতিবাচকতার বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে’- কাদের

৫:৪৭ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ
kader

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করোনাভাইরাস সংকটের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং গৃহীত ও বাস্তবায়িত সিদ্ধান্ত যখন দেশ বিদেশে প্রশংসিত হচ্ছে, তখন বিএনপির নেতারা পুরোনো নেতিবাচকতার বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছেন।

মঙ্গলবার সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদের দিনে মানুষের পাশে না থেকে, মানুষকে সাহস না যুগিয়ে মির্জা ফখরুল সাহেবরা সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার ও সমালোচনার তীর ছুড়ছেন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত। নিজেরা জনগণের পাশে দাঁড়াবেন না, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ-খবরও নেবেন না, অথচ মিডিয়ায় সরকারের সমালোচনা করবেন, এটা কি বিএনপির রাজনীতি?

বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে সরকার বাধা দেয়নি বলে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, পবিত্র ঈদের দিনেও জনগণ তাদের মুখের বিষ থেকে রেহাই পায়নি। সরকার একদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ ও আক্রান্তদের চিকিৎসা দিচ্ছে, অপর দিকে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষায় পূর্ণ মনোনিবেশ করছে। এমতাবস্থায় বিএনপিকে কোনো কর্মসূচিতে বাধা প্রদান- মিথ্যাবাদী রাখাল বালকের গল্পের মত।

ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে অধিকাংশ মানুষের মাঝে ধৈর্য ও শৃঙ্খলার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, কেউ কেউ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে অবস্থান করলেও অনেকেই এসব কানে না নিয়ে স্বাভাবিক মানুষের মতো ঘোরাফেরা করে হাট বাজারে জনসমাগম করছেন। এ উদাসীনতা নিজের ও আশপাশের সবার ভয়ানক বিপদ ডেকে আনছে এবং পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে।

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের এই অসাবধানতার কারণে সামনে বাংলাদেশের জন্য আরও কঠিন সময় আসছে। প্রতিকার সমাধান নয়, প্রাণঘাতী এ ভাইরাস থেকে বাঁচতে ও সুরক্ষা পেতে প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারের বিকল্প নেই। সামনে কঠিন সময়। দয়া করে আসুন, সবাই সচেতন হই। ঐক্যবদ্ধ হয়ে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলি।

বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হওয়ার কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, করোনাভাইরাস আক্রান্ত বিশ্বের ২১৫টি দেশ এবং অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানের আরও অবনতি হয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে বিশ্বের ২৩তম। এর সংক্রমণ থেকে ছোট-বড়, ধনী-গরিব কেউই রেহাই পাচ্ছেন না। আগামী কিছুদিনে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাই ধৈর্য্যহারা না হয়ে সবাইকে সাবধানতা অবলম্বনের জন্য আবারও আহ্বান জানাচ্ছি। যারা ফ্রন্টলাইনে যুদ্ধ করছেন, তাদেরও মনোবল না হারিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে লড়াইয়ের অনুরোধ জানাচ্ছি।