সংবাদ শিরোনাম
‘বিশ্বকাপের বদলে আইপিএল হলে প্রশ্ন উঠবেই’- ইনজামাম | গত ২৪ ঘন্টায় যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও বেশি মৃত্যু ভারতে | বাংলাদেশিসহ বিশ্বের ১১ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের নির্দেশ | একদিনে রেকর্ড সংক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়াল | করোনা কেড়ে নিল আরও ৫৫ প্রাণ, নতুন শনাক্ত ৩০২৭ | সিলেটে হত্যাচেষ্টা মামলায় হাসপাতালের অফিস সহকারী নূর মোহাম্মদ জেলে | বাংলাদেশে ডাল চাষের সমস্যা ও সম্ভাবনা | কোটালীপাড়ায় পৈত্রিক ভিটায় ‘প্রার্থনা কুঞ্জ’ করতে চেয়েছিলেন এন্ডু কিশোর | নোয়াখালীতে ছয় মাসে ‘৫৪ ধর্ষণ’! | মিয়ানমারের ২ শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা |
  • আজ ২৩শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘লকডাউন ঘোষণা না করে সরকার বড় ভুল করেছে’- ফখরুল

৯:০৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, মে ২৭, ২০২০ জাতীয়
fokk

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, করোনাভাইরাস মহামারির সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার লকডাউন ঘোষণা না করে বড় ভুল করেছে। বুধবার দুপুরে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বারবার বলেছি, সরকার তো লকডাউনই ঘোষণা করেনি। তারা বলেছেন সাধারণ ছুটি। যখন সাধারণ ছুটি ঘোষণা হবে তখন তো ছুটির আমেজ আসবে। তখন কেউ কক্সবাজার যায়, কেউ সিলেট যায়, কেউ বাড়ি যায়, কেউ মামার বাড়ি যায়, কেউ নানার বাড়ি যায়। এটাই তো আমাদের দেশের একটা কৃষ্টি বলা যেতে পারে। ওই জায়গায়টাতে সরকার সবচেয়ে বড় ভুলটা করেছে। তারা কোনো লকডাউন না করে সাধারণ ছুটি দিয়ে দিয়ে এই সমস্যাটা সৃষ্টি করেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের মধ্যে কোনো সমন্বয় ছিল না। আপনারা দেখেছেন, কোনো সমন্বয়-সামঞ্জস্য না রেখে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিগুলো তারা খুলে দিল, আবার বন্ধ করল, আবার খুলে দিল। গণপরিবহন দুইদিন চলল। অমানবিকভাবে নারী-পুরুষ-বৃদ্ধ-শিশুরা কিভাবে হেঁটে হেঁটে অথবা ট্রাকে গেছেন তা আপনারা দেখেছেন। কোনো সমন্বয় ছিল না বলেই এটা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের কো-অর্ডিনেশনে অভাব ছিল। তারা স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এমনকি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও সেভাবে সমন্বয় করতে তারা পারেননি। যার ফলে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। সবচেয় বড় সমস্যা হচ্ছে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙেই গেছে। এখনও কোনো হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা পাওয়াটা খুব দুরূহ ব্যাপার হয়ে গেছে। সরকারি হাসপাতালের যে অবস্থা সেখানে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তো যাচ্ছেনই না। তারা সিএমএইচএ বা অন্যত্র চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, ‘সরকারের অভিজ্ঞতার অভাব আর তাদের উদাসীনতার কারণে এমনটা হয়েছে। তারা বুঝাতে চেয়েছেন যে, আমাদের এখানে সমস্যা নেই। আমরা সাধারণ ছুটি দিয়েছি। অথচ লকডাউন কথাটা প্রত্যেকটি দেশ ব্যবহার করেছে, প্রত্যেকটি সরকার ব্যবহার করেছে। এভাবে করে তো সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয় না।’

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখানে প্রাথমিকভাবে লকডাউন রেখে যদি সঠিকভাবে সেটা বজায় রাখা যেতো তাহলে সংক্রমণটা অনেক কম হতো। এখন সারাদেশের গ্রামে-গঞ্জে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। এমন একটা গ্রাম নেই যেখানে কেউ আক্রান্ত হয়নি। পরীক্ষা তো নেই, পরীক্ষা হলেই ধরা পড়তো। আমরা যদি প্রথমেই লকডাউন দিতাম তাহলে এতো সংক্রমণ হতো না। এই ঘনবসতির দেশে শক্তভাবে এটাকে বাস্তবায়িত না করলে মোকাবিলা করা খুব কঠিন।’

করোনা মহামারিতে বিএনপি নেতারা মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এমন বক্তব্যের জবাবে ফখরুল বলেন, উনি সঠিক কথা বলছেন না। আমরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে মানুষের পাশে আছি। আমি এর আগেও সংবাদ সম্মেলনে বলেছি, ইতোমধ্যে আমরা প্রায় সোয়া কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে গেছি। দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তারপরও আমাদের সাধ্যমতো মানুষকে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা প্রথম থেকে সরকারকে অনুরোধ করেছি, অর্থনৈতিক প্যাকেজ দিয়েছি। ৬১ হাজার কোটি টাকা শুধু সাধারণ মানুষকে দিতে বলেছিলাম, যা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ছিল। কিন্তু সরকার যে প্যাকেজ দিয়েছে তার মধ্যে ৭৭ হাজার কোটি টাকা শুধু ব্যাংকের ঋণ।

এ সময় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১২ দিনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।