সপরিবারে করোনা থেকে মুক্তি পেলেন নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী

৭:০৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, মে ২৮, ২০২০ সুখবর প্রতিদিন
nstu

এস আহমেদ ফাহিম, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোবারক হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত হয়েছেন। করোনায় আক্রান্তকালীন সময় নিজ বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিয়ে করোনা থেকে মুক্তি পেয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) মোবারক হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পাশাপাশি করোনাকালীন সময়ের অভিজ্ঞতাগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেছেন মোবারক। স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো:

সকলের দোয়া আর আমাদের চেষ্টার মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা পরিবারের সাতজনকেই মুক্তি দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ। শুরুটা ২ মে থেকে ভাইয়ার লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার মাধ্যমে। ৪ মে ভাইয়ার টেস্ট করতে দেওয়া হলে গত ১০ মে ভাইয়ার পজিটিভ জানতে পারি। ফলে বাসা লকডাউন হয়ে যায়। ১১মে পরিবারের সবার টেষ্ট স্যাম্পল নেয়ার পরেই সবার মধ্য লক্ষণ প্রকাশ পায়। বুঝতে বাকি নেই আমরাও করোনায় আক্রান্ত। ১২মে জানতে পারি সবাই আক্রান্ত। প্রথমে খুব ঘাবড়ে যাই, ভেঙে পড়ি। কারণ আমার আব্বু ৫৮ বছরের অধিক বয়স, ডায়াবেটিকস রোগী এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা নিয়ে বেঁচে আছে।

আমার আম্মু মেজর ব্রেইন স্ট্রোকের রুগী, এখনো নিজের নাম মনে করতে পারেন না। ডায়াবেটিকস, হাইপার টেনশানের রোগী। উনাদের কথা চিন্তা করে ভেবেছিলাম হয়তো এই করোনায় কি হতে যাচ্ছে পুরা পরিবারের। কিন্তু পরে ভাবলাম ভেঙে পড়াই তো হেরে যাওয়া। আর মাইক্রোবায়োলজিতে পড়ে এক্ষেত্রে ভয় পাওয়া মোটেও উচিত না।

নিজেকে শক্ত করে সবাইকে বোঝালাম ১০দিন আগেও যেভাবে চলতাম বাসায় আমরা সবাই ঠিক ওইভাবে চলব। দূরুত্ব বজায় রাখব না। মাস্ক পড়বনা বাসার ভিতরে, কারণ সবাইতো আক্রান্ত আর এতে এটা কোনো সমস্যা না, প্রতিরোধ করা যায়। প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। আরো অনেক কথা বলে সবাইকে মোটিভেট করলাম।

তারপর আমি নিজেই সবাইকে ট্রিটমেন্টের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ফর্মুলা মোতাবেক ট্রিটমেন্ট করাই। ভাইয়া ছাড়া আসলে আমাদের কাউকে খুব ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশনে যেতে হয়নি। আমার সর্দি, গলা খুসখুস কাশি ছিল, যেটা একদিনের জন্য, শরীর ব্যথা ছিলো, দুই দিন শ্বাসকষ্ট হয়নি। ছোট ভাইয়েরও একদিন সর্দি, গলা খুসখুস ভালো হয়ে যায়। ভাবির জ্বর আর হালকা কাশি একদিনেই কমে যায়। আব্বুর জ্বর ২ দিন, কাশি ২-৩ দিন, শরীর ব্যথা ৩-৪ দিন ছিল। আম্মুর জ্বর মাঝে মাঝে আসতো ১০১ ডিগ্রীর বেশি হয়নি। গলায় খুসখুস কাশি ২ দিন ছিল, শরীর ব্যথা ১ দিনেই শেষ হয়ে যায়, জ্বর ২/১ দিন পরে পরে আসতো, তাও ১০১ ডিগ্রীর বেশি না।

ছোট বোন এর হালকা সর্দি হয়েছিল যদিও ১২ তারিখের রেজাল্টে তার নেগেটিভ আসে। আসলেই আল্লাহর রহমতে খুব খারাপ পরিস্থিতিতে যেতে হয়নি আমাদের কাউকে। শ্বাসকষ্ট শুধু ভাইয়ার ছিল। ৮ মে ওর খুব শ্বাসকষ্ট হয়েছিল। ৯ মে থেকে কমতে শুরু করে, তারপর ১১ তারিখের টেস্টে ওর নেগেটিভ আসে প্রথমবার। আসলেই খুব বেশী কষ্ট পেতে হয়নি, সাধারণ জ্বর, সর্দি, কাশি থেকেও নরমাল মনে হয়েছে।