ফরিদপুরে একই দিনে ৪ স্থানে সংঘর্ষ: আ’লীগ নেতাসহ আটক ১০

৮:১৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, মে ২৮, ২০২০ ঢাকা
songha

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় পৃথক ৪ টি সংঘর্ষে বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুণবহা ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ছিরুসহ ১০ জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার গুণবহা ইউনিয়নের উমরনগর গ্রামের ১ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য দাউদ মেম্বার ও গুণবহা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ছিরু’র মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে সিরাজুল ইসলাম ছিরু’র সমর্থকরা অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে দাউদের সমর্থকদের বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে। এ সময় বাঁধা দিতে গেলে ১৮জন আহত হয়।

অপরদিকে একই দিন সকাল ৬টায় উপজেলার চতুল ইউনিয়নের বনচাকী গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। জানা যায়, উপজেলার চতুল ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও উপজেলা আ’লীগের সদস্য জালাল সিকদার ও সাবেক ইউপি সদস্য রহমান শেখের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ২৮ মে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় রহমান গ্রুপের সমর্থক ইমদাদুল খাঁ (৩৫) বনচাকী কবরস্থান থেকে তার বাবার কবর জিয়ারত শেষে বাড়ি ফেরার পথে রামচন্দ্রপুর বাজারে পৌঁছালে জালাল সিকদারের সমর্থকরা তার উপর হামলা চালিয়ে মারাত্মক আহত করে। এর রেশ ধরে সকাল সাড়ে ৯টায় জালাল সিকদারের সমর্থকরা দেশী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিপক্ষের প্রায় ৪০টি বাড়িঘরে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে রহমান গ্রুপের ২০ সমর্থক আহত হয়।

অন্যদিকে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের বাজিদাদপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দাদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শামীম মোল্যা ও গোলাম মওলা বিশ্বাসের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উভয় গ্রুপের সংঘর্ষে ইসহাক মোল্যা (৫৫) ও জাহাঙ্গীর মোল্যা (৫০)সহ ৭ জন আহত হয়। একইদিন সকাল সাড়ে ১১টায় বোয়ালমারী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কুশাডাঙ্গায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৫ জন আহত হয়েছে।

অন্যদিকে উপজেলার গুণবহা ইউনিয়নের হরিহরনগর ও দীঘিরপাড় গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ২০ টি বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। গুণবহা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মঞ্জুর হোসেন ও গুণবহা ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক বাকির মোল্যার মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর রেশ ধরে বুধবার (২৭ মে) বিকেলে মঞ্জুর হোসেন ও সাহেব আলীর নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক লোক প্রতিপক্ষ বাকির মোল্যার সমর্থকদের বাড়ীঘরে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে।

এসব সংঘর্ষের ঘটনায় গুরতর আহত ইসহাক মোল্যা (৫০), আইয়ুব মোল্যা (৬৫), হাসমত (৩৮), লিয়াকত মোল্যা (৬৫), পান্নু আমিন (৪৫), রাফেজা বেগম (২৮), তাসলিমা (৩০) কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

বোয়ালমারী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, সকাল থেকে ৩/৪ ঘন্টার মধ্যে ৪টি সংঘর্ষের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ফোর্স পাঠাই। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণ আছে। ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে।