• আজ ২৯শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ছোট সংগঠনের বড় কাজ!

৯:০০ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, মে ২৯, ২০২০ স্পট লাইট

মহিবুল্লাহ্ আকাশ, সময়ের কণ্ঠস্বর :: তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা আসে না, কোন কারাখানা মালিক চাল ভর্তি ট্রাকও তাদের অনুদান দেয় না! কিংবা তাদের ফেসবুক পেইজেও লাখ লাখ ফলোয়ার নেই, প্রতিটি পোষ্টও হাজার হাজার শেয়ার পায় না। তবুও অসাধারণ কাজ করেছে তারা, প্রমাণ করে দিয়েছে ছোট হলেও নিজেদের টিফিনের জমানো টাকায়, যে টাকা দিয়ে হয়তো তারা সৌখিন কোন জিনিস কিনতো নিজের জন্য কিংবা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে যেতো সেই টাকা দিয়ে ভাল কাজ করতে পারে তারা।

বলছি Yearning Aches Foundation এর কথা। কিছু শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে মানুষকে বাঁচাতে ৩৫০০ মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। ২০১৮ সালের ১৪ জুলাই মাহমুদ হোসেন আমিন, আয়মান তাহমিদ ও আলিফ মাহমুদের উদ্যোগে গড়ে ওঠে সংগঠনটি। এরপর ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে সারাদেশে ৩৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী রয়েছে সংগঠনটির।

বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ ও রংপুর বিভাগে তারা মোট ৩৫০০ পরিবারের কাছে বিভিন্ন সহায়তা তুলে দিয়েছে। সহায়তা উপকরণের মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, আলু, চিড়া, সাবান, লবণ, চিনি। ঈদের আগে দেয়া হয় সেমাই ও ঈদ সামগ্রী। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগের দুটি জেলায় চিকিৎসক এবং পুলিশ সদস্যদের মাঝে পিপিই, হ্যান্ড গ্লোভস্, মাস্ক বিতরণ করেন তারা।

এ ব্যাপারে Yearning Aches Foundation এর চেয়ারম্যান মাহমুদ হোসেন আমিন বলেন, বসবাসযোগ্য পৃথিবী বলতে বুঝি যেখানে মানুষ একে অপরের দিকে সহযোগিতা এবং দয়ার হাত বাড়িয়ে দেয়। কেননা এটাতেই সন্তুষ্টি এবং প্রাপ্তি পাওয়া যায়। আর এই বোধোদয় থেকেই সবাইকে আহবান জানাচ্ছি সমাজ সেবায় নিজেকে বিনিয়োগ করতে, এই বিনিয়োগের কোনো লাভ-লোকশান নেই, আছে শুধু ভালোবাসা।

সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান জেবা আনিকা ও সাধারণ সম্পাদক জিহান হাসান বলেন, প্রতিবারের মতো যথারীতি মানুষের কল্যাণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এই বৈশ্বিক মহামারীতে যারা দূর্যোগের শিকার হয়েছেন তাদের পাশে দাড়ানোর এক ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা আমাদের এই কার্যক্রম-সংযমী সেবা। আমাদের এই কাজগুলোতে কাওসার আহমেদ পরশ, মুনতাহা রওশন, জিসান, শাহ আজওয়াদ আহনাফ, সাদ আনওয়ার, তামহিদুল ইসলাম, চান্দ্রিমা বর্মণ, জয়নব মম, আতেফ ইবাদ প্রমুখ স্বেচ্ছাসেবীবৃন্দ সম্পৃক্ত হয়ে কাজগুলো সফল করেছেন। ভবিষ্যতেও আমরা মানবিক কাজগুলোতে অগ্রগামী হয়ে অংশ নেবো।