বর্ষার শুরুতেই যমুনার ভাঙন, আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ

৯:২৪ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, মে ৩১, ২০২০ ঢাকা, দেশের খবর

অন্তু দাস হৃদয়, স্টাফ রিপোর্টার: টানা কয়েক দিনের বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এ পানি বৃদ্ধির সঙ্গে-সঙ্গে টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে যমুনা নদীর পূর্ব পাড়ে শুরু হয়েছে ভাঙন।

কোনও ভাবেই যেন শান্ত হচ্ছে না রাক্ষুসে যমুনা। ভাঙন থেকে রক্ষা পাচ্ছে না ঘর-বাড়ি, গাছ-পালা ও ফসলি জমি। আতঙ্কে মধ্যে রাত কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ। যেন দেখার কেউ নেই। করোনা আতঙ্কের মাঝে এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা।

সরেজমিনে, ভুঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খানুরবাড়ি, কষ্টাপাড়া, ভালকুটিয়া, চিতুলিয়াপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে এসব এলাকাবাসী। গোবিন্দাসী থেকে ৪-৫ কি.মি. দূরে ছিল যমুনা নদী। ভাঙনের ফলে প্রতিবছর বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি।

মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে একের পর এক গ্রাম। গত কয়েক দিনের ভাঙনে বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি নদী গর্ভে চলে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে বেশ কয়েকটি মসজিদ, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয়, মন্দিরসহ শত-শত পাকা-আধা-পাকা ঘরবাড়ি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী থেকে অত্যাধুনিক ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের ফলে এই ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিরা ভাঙন রোধে বাঁধ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে না। নেয়া হচ্ছে না ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা।

প্রতিবছর টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড লোক দেখানো জিও ব্যাগ ফেললেও তা কোনও কাজেই আসছে না। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম সময়ের কন্ঠস্বর’কে জানান, ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করা হবে।