সংবাদ শিরোনাম
করোনার প্রকোপ কমে আসছে বাংলাদেশে: জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় | ‘বিশ্বকাপের বদলে আইপিএল হলে প্রশ্ন উঠবেই’- ইনজামাম | গত ২৪ ঘন্টায় যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও বেশি মৃত্যু ভারতে | বাংলাদেশিসহ বিশ্বের ১১ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের নির্দেশ | একদিনে রেকর্ড সংক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়াল | করোনা কেড়ে নিল আরও ৫৫ প্রাণ, নতুন শনাক্ত ৩০২৭ | সিলেটে হত্যাচেষ্টা মামলায় হাসপাতালের অফিস সহকারী নূর মোহাম্মদ জেলে | বাংলাদেশে ডাল চাষের সমস্যা ও সম্ভাবনা | কোটালীপাড়ায় পৈত্রিক ভিটায় ‘প্রার্থনা কুঞ্জ’ করতে চেয়েছিলেন এন্ডু কিশোর | নোয়াখালীতে ছয় মাসে ‘৫৪ ধর্ষণ’! |
  • আজ ২৩শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বন্ধ হয়ে গেল ঢাবিতে করোনার নমুনা পরীক্ষা

২:৪৪ অপরাহ্ণ | সোমবার, জুন ১, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তে গত মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে একটি ল্যাব পরিচালনা করছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্সেসে (কার্স) স্থাপিত এই ল্যাবটির (পরীক্ষাগার) কার্যক্রম আজ সোমবার থেকে বন্ধ হয়ে গেছে৷

ল্যাবের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকার তথা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা না পাওয়া ল্যাব বন্ধ হওয়ার মূল কারণ৷ তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলছেন, আগে নেওয়া একটি সিদ্ধান্তের আলোকেই ল্যাব বন্ধ৷ অন্য কোনো কারণে নয়

১২ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে করোনা পরীক্ষার অনুমতি দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়৷ ৫ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্বোধন করা হয় করোনা পরীক্ষার ওই ল্যাব৷ ল্যাবটিতে প্রতিদিন ৪০০ নমুনা পরীক্ষা করার সুযোগ ছিল৷

ল্যাব পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত একাধিক শিক্ষকের ভাষ্য, মূলত বিশেষজ্ঞের অভাব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ল্যাব চালাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ধরনের আর্থিক সহযোগিতা না পাওয়া, স্বেচ্ছাসেবকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও লজিস্টিক সাপোর্ট সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে যন্ত্রপাতির সীমাবদ্ধতার কারণে ল্যাবের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে৷ তাঁরা দাবি করেন, ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর চিঠি দিয়ে তাঁরা জানিয়েছিলেন যে সরকার সহায়তা করলে ৩১ মে’র পর ল্যাবটি চালানো সম্ভব, অন্যথায় নয়৷ কিন্তু কোনো সাড়া তাঁরা পাননি৷

ল্যাবের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকা একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণা-প্রতিষ্ঠান, কোনো মেডিকেল বা স্বাস্থ্যসেবা-প্রতিষ্ঠান নয়৷ ল্যাবের স্বেচ্ছাসেবকেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী৷ বিশ্ববিদ্যালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো প্রণোদনা না দেওয়া হলে একসময় কাজে তাঁদের অনীহা চলে আসাটা স্বাভাবিক৷ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষে থেকে তাঁদের নির্দিষ্ট পিপিই পর্যন্ত দেওয়া হয়নি৷ ল্যাব পরিচালনার কিছু আর্থিক খরচ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেয়নি৷

ঢাবির করোনা রেসপন্স টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক শরীফ আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ল্যাব পরিচালনা করতে প্রতিমাসে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে, যা বহন করা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে কঠিন এবং বাড়তি চাপ।’

‘তাছাড়া যারা কাজ করছে, তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। ভলান্টিয়ারদের অন্তত কিছু প্রণোদনা দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানিয়েও কোনো সাড়া পাইনি’ যোগ করেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্বেচ্ছায় এ দায়িত্ব নিয়েছেন। আর্থিক সহায়তার কোনো কথা ছিল না। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে করোনাভাইরাস টেস্ট করছে, তাদের কারও জন্যই সরকারের পক্ষ কোনো বরাদ্দ নেই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, ‘আর্থিক কারণে নয়, আমাদের আগে থেকেই কথা ছিল ৩১ মে পর্যন্ত আমরা এটা চালিয়ে যাব।’