‘যে ওষুধ সাধারণদের কেনার সামর্থ্য নেই, সেই ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করব না’

১০:১১ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুন ২, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- করোনায় আক্রান্ত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী জানালেন, তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে। জ্বর নেই, কাশিও কমেছে। তবে শ্বাসকষ্ট কিছুটা আছে।

সোমবার (০১ জুন) দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নিজের শারীরিক এ অবস্থার কথা জানান গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডা. জাফরুল্লাহ।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, শরীর উন্নতির দিকে যাচ্ছে। শ্বাসকষ্ট কিছুটা আছে। গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। আমার স্ত্রী ও পুত্রও করোনায় আক্রান্ত। তারা বাসায় আছে, আমি গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে আছি। সকালে হালুয়া, রুটি ডিম, খেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমি সুস্থ হয়ে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়বো। কারণ যেভাবে লোক ঠকানো হচ্ছে। একটা ইনজেকশনের দাম ১০ হাজার টাকা। আমাকে বলছে আপনারতো টাকা লাগবে না ইনজেকশন নিতে। আমি বলছি, ভালোইতো বাটপারি শুরু করছো। আমাকে বিনা পয়সায় দেবা আর লোকজনের গলা কাটবা। জনগণ প্রতারণার শিকার হবে।

কোনো কোম্পানির ইনজেকশনের দাম দশ হাজার টাকা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেকগুলো কোম্পানি আছে। কয়টার আর নাম বলবো। এক লাখ টাকা দিয়ে চিকিৎসা করানো কার পক্ষে সম্ভব। ডা. জাফরুল্লাহ কি এক লাখ টাকা দিয়ে চিকিৎসা করাইতে পারবে? আমি যদি এত টাকা দিয়ে চিকিৎসা করাইতে পারি, তাহলে আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান করা উচিৎ, এত টাকা কোথায় পাইলাম। আমি যদি ওই চিকিৎসা গ্রহণ করি, তাহলে আমার নামে দুদকের অনুসন্ধান করা উচিৎ। প্রতারণার একটা সীমা থাকা উচিৎ।

তাহলে কি করা উচিৎ এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ওই ওষুধতো দেখছি সোনার চেয়েও বেশি দাম। সরকার যদি ওষুধের মূল্য স্থির না করে, তাহলে যখন কোনো ওষুধের নাম বলা হবে, তখনই তার দামও বলতে হবে। জনগণকে জানাতে হবে ওষুধের দাম। তাহলে জনগণের মনে প্রশ্ন উঠবে কেনো এত টাকা দাম? এটা না করলে মানুষ দরিদ্র হয়ে যাবে। বেঁচে থেকে তখন লাভ কি, টাকার অভাবে আমি যদি খাইতেই না পারি, আমার ছেলে-মেয়ে খাবার না পায়। ধার-দেনায় জর্জরিত হয়ে যাই। হাসপাতালে কি লাগে চিকিৎসা দিতে, অক্সিজেন লাগে। অক্সিজেনের দাম কত? এসব বিষয়ে গণমাধ্যম এবং জনসাধারণকে প্রশ্ন করা দরকার।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমার স্পষ্ট কথা, যে ওষুধ সাধারণ করোনা রোগীরা কিনতে পারবে না, সেই ওষুধ দিয়ে আমি চিকিৎসা করব না। তার মানে ১৯৮২ সালের নীতিমালা অনুযায়ী, ওষুধের মূল্য নির্ধারণ কমিটি মোতাবেক ওষুধের মূল্য সরকার ঠিক করে না দিলে, ততক্ষণ পর্যন্ত ওই ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করিয়ে দেশবাসীর ক্ষতি করব না। যে ওষুধ সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে নেই, সেই ওষুধ আমাকে বিনা পয়সায় দিলেও চিকিৎসা করাব না।’