গোপনীয় চিঠি কীভাবে ফাঁস হলো, প্রশ্ন ডিএমপি কমিশনারের

৫:০৮ অপরাহ্ণ | শনিবার, জুন ৬, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- অধস্তন সহকর্মীকে ‘দুর্নীতির’ কারণে বদলি করতে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লেখা চিঠি কী করে ফাঁস হয়েছে তার তদন্তও হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। অন্যদিকে সহকর্মী মো. ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ আইজিপি বেনজীর আহমেদ তদন্ত করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে গত ৩০ মে একটি চিঠি পাঠান ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শফিকুল। যাতে তিনি ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার (লজিস্টিকস) মো. ইমাম হোসেনকে ‘দুর্নীতিপরায়ণ’ আখ্যায়িত করে তাকে জরুরি ভিত্তিতে বদলির সুপারিশ করেন।

চিঠিতে বলা হয়, ‘ডিএমপির বিভিন্ন কেনাকাটায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তদুপরি তিনি ডিএমপির কেনাকাটায় স্বয়ং পুলিশ কমিশনারের নিকট “পার্সেন্টেজ” গ্রহণের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। ফলে উক্ত কর্মকর্তাকে ডিএমপিতে রাখা সমীচীন নয় মর্মে প্রতীয়মান হয়েছে।’ পরে ওই চিঠি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে।

চিঠি দেওয়ার কথা স্বীকার করে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম আজ শনিবার একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি একবারে অভ্যন্তরীণ। তবে অফিসিয়াল গোপনীয় এই প্রতিবেদন কীভাবে মিডিয়ার কাছে গেছে, সে ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কমিটি দেখবে কীভাবে এই অফিসিয়াল সিক্রেট আউট হয়েছে। আইজি মহোদয় হয়তো অতিরিক্ত আইজি বা ডিআইজির নেতৃত্ব একটি কমিটি করে দেবেন। তারা তদন্ত করে দেখবেন।’

চিঠি দেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা প্রসঙ্গে শফিকুল বলেন, ‘তিনি (ইমাম) একজন অ্যাডিশনাল ডিআইজি। সবারই কিছু কিছু ধারণা আছে। আমি বললেই যে সাসপেন্ড হয়ে যাবে তা নয়। আগে তদন্ত রিপোর্ট দিক।’

জানতে চাইলে পুলিশ সদরদফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) মো. সোহেল রানা বলেন, ‘প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেরই নানা রকম অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ইস্যুজ থাকে। এসব ইস্যু যথাযথ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ এবং প্রফেশনাল ওয়েতে অ্যাড্রেস করা হয়ে থাকে। যে বিষয়টি উঠে এসেছে, এটিও একটি অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ইস্যু। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো করেসপন্ডেন্স পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সে পৌঁছেনি। পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সে এ বিষয়টি পৌঁছানো এবং রিসিভড হওয়ার পরে অবশ্যই যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে ও যথানিয়মে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

২০১২ সালে ডিএমপির তেজগাঁও জোনের ডিসি হিসেবে ইমাম হোসেন ডিএমপিতে পোস্টিং নিয়ে আসেন। এরপর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ডিএমপির ডিসি (অর্থ), ডিসি লজিস্টিকস এবং বর্তমানে পদোন্নতি পেয়ে একই দফতরে যুগ্ম কমিশনার হয়েছেন।