• আজ ২৬শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কাজ থেকে বাদ দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে গৃহকর্ত্রীর শিশুকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা

১১:৩০ অপরাহ্ণ | শনিবার, জুন ৬, ২০২০ স্পট লাইট

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক: কাজ হারিয়ে ভয়ানক কাণ্ড করলেন এক নারী গৃহকর্মী। কাজ হারিয়ে ক্ষুব্ধ ওই গৃহকর্মী গৃহকর্ত্রীর ৫ বছরের শিশুকে হাত বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে। এই ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তা অভিযুক্ত ফাতেমা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, শাহরাস্তি উপজেলার টামটা ইউনিয়নের বলশিদ গ্রামের পুরান তালুকদার বাড়ির কাজল রেখার ঘরে গৃহকর্মীর কাজ করতেন ফাতেমা বেগম (২৫) নামে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারী।

ঠিকমত কথা না শোনায় গত ৫ মাস আগে কাজ থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়। তারপর আর গত কয়েক মাস ওই বাড়িতে আসেনি ফাতেমা বেগম। কিন্তু শনিবার (৬ জুন) সকালে কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে হাজির হন তিনি।

এ সময় আদর করার নামে ওই গৃহকর্মী গৃহকর্ত্রী কাজল রেখার ৫ বছরের শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে বাড়ির বাইরে নিয়ে যান ফাতেমা বেগম। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে যায়। এতে শিশুসহ ফাতেমার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

এমন পরিস্থিতিতে কাজল রেখা তার শিশু সন্তানকে খুঁজতে বের হন। ততক্ষণে বাড়ির পাশের ডোবায় দুই হাত বাঁধা অবস্থায় শিশু জান্নাতুল মাওয়ার নিথর দেহ পাওয়া যায়।

এ সময় পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে ডোবার পাশের বাগান থেকে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম। কিন্তু গৃহকর্ত্রী কাজল রেখার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করে। পরে শাহরাস্তি থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন তারা।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার মো. আহসান জানান, গৃহকর্ত্রী কাজল রেখার স্বামী আক্তার হোসেন ৪ বছর আগে মধ্য প্রাচ্যের ওমানে মারা যান। তারপর থেকে শিশু সন্তানকে নিয়ে বাবা খোরশেদ আলমের বাড়িতে থাকেন তিনি।

শিশু সন্তানকে হারিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে গৃহকর্ত্রী কাজল রেখা বলেন, ঠিকমত কথা না শোনার কারণে, বিগত ৫ মাস আগে ফাতেমা বেগমকে কাজ করা থেকে বাদ দেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ করে শনিবার বাড়িতে এসে ফাতেমা আমার সর্বনাশ করে দিলো। শিশু সন্তানকে হত্যার জন্য ফাতেমা বেগমের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন।

অভিযুক্ত ফাতেমা বেগমের বোন আরবের নেছা জানান, তার বোন স্বামী পরিত্যক্তা। তারা দুইবোন এক সঙ্গে থাকেন। কেনো যে সে এমন কাণ্ড করেছে তা বলতে পারছেন না তিনি।

শনিবার রাতে শাহরাস্তি থানার ওসি মো. শাহ আলম জানান, অভিযুক্ত ফাতেমা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ঘটনার শিকার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরে করা হয়েছে। কিন্তু কেনো নিষ্পাপ এমন শিশুটিকে হত্যা করলেন ফাতেমা বেগম। রাতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে মুখ খোলেনি তিনি।